ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’

সুন্দরপুরের বিষমুক্ত লাউ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৭
  • ৬৯৭ বার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় সুন্দরপুর কৃষি ব্লকে লালতীরের ডায়না লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের লাউয়ের চাষ করে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

সুন্দরপুরের কৃষি ব্লকে মাচায় মাচায় ঝুলছে লাউ আর লাউ। যেদিকে চোখ যায় কেবল লাউয়েরই ছড়াছড়ি। লাউয়ের ভাল ফলন দেখে এ জাতের লাউ চাষে অন্যান্য চাষিদেরও আগ্রহ বেড়েছে। অন্যদিকে স্বল্প জমিতে অধিকহারে লাউয়ের চাষ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাষিরাও।

একেকজন চাষি ন্যূনতম এক হাজার টাকা ব্যয় করে ইতিমধ্যেই ১০ গুণ আয় করেছেন। বিষমুক্ত আবাদের কারণে বাজারে এই লাউয়ের চাহিদাও ভাল। এসব লাউ চাষে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও চাষিরা বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করছেন। তাতে লাউগুলো বিষমুক্ত থাকছে। আর ক্রেতাদের কাছে এ লাউ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সুন্দরপুর ব্লকে উপজেলার উসাইনগর গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী (৩৫) প্রায় ৪৫ শতক জমিতে লালতীরের ডায়না লাউ চাষ করেন। তিনি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন বলে জানান। আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

একই জাতের লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার মঙ্গলশ্বর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামও (২২)। তিনি মাত্র ১২ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও বহু টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তাদের লাউ চাষে সফলতা দেখে এ কৃষি ব্লক এলাকায় অন্যান্য চাষিরাও অনুপ্রাণিত হয়ে লালতীরের ডায়না লাউয়ের চাষে মগ্ন হয়েছেন। এবং তারাও লাভবান।

এ ব্যাপারে পাইকারি বিক্রেতা সমুজ আলী বলেন, ‘সুন্দরপুরের চাষকৃত লাউয়ে বিষ নেই। তাই ক্রেতারা এসব লাউ কিনতে গরিমসি করছেন না।

ক্রেতা শামীম মিয়া, সুরুত আলী, শাহীন মিয়া জানালেন- বিষ নেই বলেই বাজারে গিয়ে সুন্দরপুরের লাউ খুঁজে বেড়াই। এ লাউয়ের স্বাদ-ঘ্রাণও ভাল।

এ ব্যাপারে চাষি আজগর আলী বলেন, ‘লাউ চাষ তেমন একটা পরিশ্রমের নয়। ১ শতক জমিতে এক হাজার টাকা খরচ করে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হবে। রোপণ করতে হবে উন্নতজাতের বীজ।’

চাষি নুরুল ইসলাম বলেন- প্রথমেই জমি তৈরির পর ভাল বীজ রোপণ করতে হবে। নিয়মিত দেখভাল করতে পারলেই লাউয়ের বাম্পার ফলন আশা করা সম্ভব। আর আমিও এ পদ্ধতি গ্রহণ করে ডায়না লাউ চাষে সফল হয়েছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘লাল তীরের বীজের মান ভাল। এ বীজ রোপণ করে ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব। এর প্রমাণ সুন্দরপুরের লাউ চাষিরা।

লাল তীর সীডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুলভ মূল্যে তারা ডিলারদের মাঝে সবজির বীজ সরবরাহ করেন। ডিলাররা নিয়মনীতি অনুসারে বীজগুলো বিক্রি করে থাকেন। কৃষকরা এ বীজ নিয়ে তাদের জমিতে রোপণ করে অধিক ফলন পাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ জেলার স্থানে স্থানে নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকরা সফলতা পাওয়ায় সবজি চাষে মনযোগী হয়েছেন। সুন্দরপুর কৃষি ব্লকে লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের লাউ চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করা হচ্ছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি

সুন্দরপুরের বিষমুক্ত লাউ

আপডেট টাইম : ১২:২৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৭

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় সুন্দরপুর কৃষি ব্লকে লালতীরের ডায়না লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের লাউয়ের চাষ করে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

সুন্দরপুরের কৃষি ব্লকে মাচায় মাচায় ঝুলছে লাউ আর লাউ। যেদিকে চোখ যায় কেবল লাউয়েরই ছড়াছড়ি। লাউয়ের ভাল ফলন দেখে এ জাতের লাউ চাষে অন্যান্য চাষিদেরও আগ্রহ বেড়েছে। অন্যদিকে স্বল্প জমিতে অধিকহারে লাউয়ের চাষ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাষিরাও।

একেকজন চাষি ন্যূনতম এক হাজার টাকা ব্যয় করে ইতিমধ্যেই ১০ গুণ আয় করেছেন। বিষমুক্ত আবাদের কারণে বাজারে এই লাউয়ের চাহিদাও ভাল। এসব লাউ চাষে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও চাষিরা বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করছেন। তাতে লাউগুলো বিষমুক্ত থাকছে। আর ক্রেতাদের কাছে এ লাউ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সুন্দরপুর ব্লকে উপজেলার উসাইনগর গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী (৩৫) প্রায় ৪৫ শতক জমিতে লালতীরের ডায়না লাউ চাষ করেন। তিনি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন বলে জানান। আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

একই জাতের লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার মঙ্গলশ্বর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামও (২২)। তিনি মাত্র ১২ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও বহু টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তাদের লাউ চাষে সফলতা দেখে এ কৃষি ব্লক এলাকায় অন্যান্য চাষিরাও অনুপ্রাণিত হয়ে লালতীরের ডায়না লাউয়ের চাষে মগ্ন হয়েছেন। এবং তারাও লাভবান।

এ ব্যাপারে পাইকারি বিক্রেতা সমুজ আলী বলেন, ‘সুন্দরপুরের চাষকৃত লাউয়ে বিষ নেই। তাই ক্রেতারা এসব লাউ কিনতে গরিমসি করছেন না।

ক্রেতা শামীম মিয়া, সুরুত আলী, শাহীন মিয়া জানালেন- বিষ নেই বলেই বাজারে গিয়ে সুন্দরপুরের লাউ খুঁজে বেড়াই। এ লাউয়ের স্বাদ-ঘ্রাণও ভাল।

এ ব্যাপারে চাষি আজগর আলী বলেন, ‘লাউ চাষ তেমন একটা পরিশ্রমের নয়। ১ শতক জমিতে এক হাজার টাকা খরচ করে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হবে। রোপণ করতে হবে উন্নতজাতের বীজ।’

চাষি নুরুল ইসলাম বলেন- প্রথমেই জমি তৈরির পর ভাল বীজ রোপণ করতে হবে। নিয়মিত দেখভাল করতে পারলেই লাউয়ের বাম্পার ফলন আশা করা সম্ভব। আর আমিও এ পদ্ধতি গ্রহণ করে ডায়না লাউ চাষে সফল হয়েছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘লাল তীরের বীজের মান ভাল। এ বীজ রোপণ করে ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব। এর প্রমাণ সুন্দরপুরের লাউ চাষিরা।

লাল তীর সীডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুলভ মূল্যে তারা ডিলারদের মাঝে সবজির বীজ সরবরাহ করেন। ডিলাররা নিয়মনীতি অনুসারে বীজগুলো বিক্রি করে থাকেন। কৃষকরা এ বীজ নিয়ে তাদের জমিতে রোপণ করে অধিক ফলন পাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ জেলার স্থানে স্থানে নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকরা সফলতা পাওয়ায় সবজি চাষে মনযোগী হয়েছেন। সুন্দরপুর কৃষি ব্লকে লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের লাউ চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করা হচ্ছে।’