ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা ‘আমলারা সবাই চোর’ কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন শাকিবের দুই স্ত্রী অপু-বুবলীকে নিয়ে যা বললেন নূতন ‘আলহামদুলিল্লাহ’—বার্সায় যোগ দিয়ে শুকরিয়া আদায় হামজার মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় পশ্চিমবঙ্গে আইপিএস কর্মকর্তা বদলি, বিতর্ক সাংবাদিকরা আছেন বলেই গণতন্ত্র আছে: তথ্যমন্ত্রী

৭ মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহ্দী আমিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ বার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, ভিন্ন আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে হরণ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আমাদের জানা মতে ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ— অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো।

বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তা জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সরকার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে থাকলে অতীতের মতো তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ামাত্রই দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে এখন প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন। সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।

বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের একশ’র বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। তবে, নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে, বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে যেখানে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনীও নিয়ে আসছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনা রয়েছে— একটি আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সেজন্য যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরের চেয়ে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময়ে সংবিধানের নানা ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। কাজেই আইনের ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার মানবিক ব্যাখ্যা এবং প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাদের নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়াকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বলে অভিহিত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে এবং গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বাকশাল, সামরিক শাসন কিংবা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর প্রতিবারই বিএনপির হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার একমাত্র উৎস এবং প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিকরা নন; দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ।

এছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী

৭ মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহ্দী আমিন

আপডেট টাইম : ১১:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, ভিন্ন আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে হরণ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আমাদের জানা মতে ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ— অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো।

বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তা জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সরকার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে থাকলে অতীতের মতো তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ামাত্রই দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে এখন প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন। সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।

বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের একশ’র বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। তবে, নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে, বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে যেখানে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনীও নিয়ে আসছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনা রয়েছে— একটি আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সেজন্য যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরের চেয়ে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময়ে সংবিধানের নানা ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। কাজেই আইনের ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার মানবিক ব্যাখ্যা এবং প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাদের নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়াকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বলে অভিহিত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে এবং গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বাকশাল, সামরিক শাসন কিংবা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর প্রতিবারই বিএনপির হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার একমাত্র উৎস এবং প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিকরা নন; দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ।

এছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।