ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মির্জা ফখরুলের বাড়িতে স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৮ বার

রমনা পার্কের বিপরীতে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাড়ি। সাদা রঙের দোতলা বাড়িটিতে থাকেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকে বাড়িটিতে বেড়েছে স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আনাগোনা। হেয়ার রোড দিয়ে যাওয়া পথচারীদের অনেকেও কৌতূহল নিয়ে তাকাচ্ছেন বাড়িটির দিকে।

আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে একের পর এক গাড়ি এসে থামছে। কেউ আসছেন স্বজন হিসেবে, কেউ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আবার কেউ পরিচয় দিচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন, আবার কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর থেকে মূলত বাড়িটিতে এই আনাগোনা বেড়েছে। এর আগে থেকেই তাঁর স্বজনদের যাতায়াত বাড়তে শুরু করেছিল বলে জানান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাসভবনের নিরাপত্তায় একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছে। এর বাইরে মন্ত্রীর প্রটোকল টিমে রয়েছে ছয় সদস্যের একটি স্কোয়াড। এই দলের নেতৃত্বে আছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই)।

বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এএসআই বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার এক-দুই দিন আগে থেকেই স্বজনদের আনাগোনা বেড়েছিল। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসা আরও বেড়েছে।

অভিনয়শিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ

একসময় নাট্যমঞ্চের অভিনয়শিল্পী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে। তিনি যুক্ত ছিলেন নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। ছাত্রজীবনে রাজনীতির উত্তাল সময়েও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব—রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক অধ্যায়ের সামনে।

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর নাম। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ফলাফলের আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকলেও সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

গতকাল রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ভোট ও ফলাফলের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার সময়ে দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর

মির্জা ফখরুলের বাড়িতে স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়

আপডেট টাইম : ১১:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রমনা পার্কের বিপরীতে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাড়ি। সাদা রঙের দোতলা বাড়িটিতে থাকেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকে বাড়িটিতে বেড়েছে স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আনাগোনা। হেয়ার রোড দিয়ে যাওয়া পথচারীদের অনেকেও কৌতূহল নিয়ে তাকাচ্ছেন বাড়িটির দিকে।

আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে একের পর এক গাড়ি এসে থামছে। কেউ আসছেন স্বজন হিসেবে, কেউ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আবার কেউ পরিচয় দিচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন, আবার কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর থেকে মূলত বাড়িটিতে এই আনাগোনা বেড়েছে। এর আগে থেকেই তাঁর স্বজনদের যাতায়াত বাড়তে শুরু করেছিল বলে জানান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাসভবনের নিরাপত্তায় একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছে। এর বাইরে মন্ত্রীর প্রটোকল টিমে রয়েছে ছয় সদস্যের একটি স্কোয়াড। এই দলের নেতৃত্বে আছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই)।

বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এএসআই বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার এক-দুই দিন আগে থেকেই স্বজনদের আনাগোনা বেড়েছিল। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসা আরও বেড়েছে।

অভিনয়শিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ

একসময় নাট্যমঞ্চের অভিনয়শিল্পী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে। তিনি যুক্ত ছিলেন নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। ছাত্রজীবনে রাজনীতির উত্তাল সময়েও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব—রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক অধ্যায়ের সামনে।

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর নাম। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ফলাফলের আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকলেও সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

গতকাল রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ভোট ও ফলাফলের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার সময়ে দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।