ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অকেজো ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকরের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর দিল মুডিস উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর জন্য জেমিনি অ্যাপ আনল গুগল ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথার চুল ফেলে যা বললেন ক্যনসার আক্রান্ত সামিয়া আফরিন সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে, কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ৩ জন

প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায়? চোখ ভেজাবে এই ৫ সিনেমা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার

সিনেমার পর্দায় রোমাঞ্চের নানা রূপ আমরা দেখি। তবে প্রকৃতির রুদ্ররূপের চেয়ে বড় রোমাঞ্চ বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না। মেঘের গর্জন, অবিরাম বর্ষণ, কিংবা সাগরের দানবীয় ঢেউয়ের সামনে মানুষের টিকে থাকার লড়াই বরাবরই সেলুলয়েডে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। দেশি-বিদেশি এমন পাঁচটি ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমা নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া

চলচ্চিত্রের গল্পটা দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের। নির্মাতা মুহাম্মদ কাইয়ুমের ভাষায়, এ হলো ‘ভাটির দেশে মাটির গল্প’। তবে একটু গভীরে ভাবলে দেখা যাবে, সারা দেশের কৃষকের চিরন্তন সংগ্রামই যেন এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সিনেমার মূল পুরুষ চরিত্র সুলতানের উত্তর থেকে দক্ষিণে যাত্রার মধ্য দিয়ে মূলত এই গভীর জীবনবোধই আমাদের সামনে উঠে আসে।

বিশ্বজুড়ে চলমান অতি উষ্ণায়ন আর অতিবৃষ্টির এই সংকটের সময়ে, প্রান্তিক এক দেশের আরও প্রান্তিক কিছু মানুষের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ। সেই দুর্যোগ এবং তার মোকাবিলাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এই অনন্য চলচ্চিত্রের কাহিনী।

সাঁতাও

২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই বাংলা চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন খন্দকার সুমন। পরিচালনার পাশাপাশি এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন তিনি নিজেই। ‘সাঁতাও’ মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী রংপুরী শব্দ। দেশের উত্তরাঞ্চলে একটানা সাতদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার বিশেষ সময়টাকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

সাঁতাওয়ের সেই দিনগুলো কৃষিনির্ভর সমাজে কেমন প্রভাব ফেলে, কৃষকদের সংগ্রামী জীবন এবং প্রান্তিক পটভূমি থেকে উঠে আসা নারীদের সর্বজনীন লড়াইয়ের গল্প ঘিরেই এটি নির্মিত হয়েছে। সম্পূর্ণ গণঅর্থায়নে নির্মিত এই ছবির পুরো গল্পটি আবর্তিত হয়েছে রংপুর অঞ্চলকে ঘিরে।

কেদারনাথ 

২০১৩ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরের উপত্যকায় ঘটে যাওয়া বাস্তব এক ট্র্যাজেডির পটভূমিতে নির্মিত বলিউডের এই চলচ্চিত্র। ছবির মূল চরিত্র মনসুর খান পেশায় একজন স্থানীয় মুসলিম পোর্টার বা মালবাহক। অন্যদিকে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের ছোট মেয়ে মন্দাকিনী ওরফে মুকু একজন হিন্দু তরুণী। ধর্মের দেয়াল ও পারিবারিক অমত পেরিয়ে মনসুর ও মুকুর মধ্যে এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মুকুর বিয়ে ঠিক হওয়া এবং মনসুরের ওপর হামলার ঘটনার মধ্যেই হঠাৎ শুরু হয় ভয়াবহ অতিবর্ষণ আর হড়পা বান। চোখের পলকে ভেসে যায় পুরো উপত্যকা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেই মনসুর নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে মুকু ও অন্যদের বাঁচিয়ে নেয়। তাদের সেই আত্মত্যাগের প্রেম ও দুর্যোগের করুণ দৃশ্য দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।

২০১৮ 

ভারতের কেরালা রাজ্যে ঘটে যাওয়া ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে মালায়ালাম ভাষার এই ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রটি। গল্পে দেখা যায়, সেনা কর্মকর্তা আনুপ, চালক সেতুপাথি, টিভি রিপোর্টার নূরা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী মাথচানের পরিবারসহ বিভিন্ন চরিত্রের সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে আকস্মিক বন্যায় ওলটপালট হয়ে যায়।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যখন এক চরম মানবিক সংকটে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষই একে অপরের দেবদূত হয়ে দাঁড়ায়। অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার থেকে শুরু করে অন্ধ দোকানদারকে বাঁচানোর মতো বীরত্বপূর্ণ সব উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায় আনুপ। কেরালাবাসীর ঘুরে দাঁড়ানোর এই গল্পটি এক অভূতপূর্ব রোমাঞ্চের জন্ম দেয়।

দ্য পারফেক্ট স্টর্ম 

বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হলিউডের এই সিনেমাটি দর্শকদের প্রকৃতির এক ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর রূপের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ‘আন্দ্রে গেইল’ নামের একটি বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকা আটলান্টিক মহাসাগরে যায়। তবে ফেরার পথে তারা মুখোমুখি হয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের।

ছবিটির শেষ অর্ধেকের পুরোটা জুড়েই রয়েছে সাগরের বিশাল আকৃতির ঢেউ, অবিরাম বৃষ্টি আর তীব্র বাতাসের তাণ্ডব। প্রকৃতির রুদ্ররূপের বিরুদ্ধে মানুষের টিকে থাকার এক চরম ও বাস্তবসম্মত লড়াই এখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শককে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চিত করে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

অকেজো ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকরের উদ্যোগ

প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায়? চোখ ভেজাবে এই ৫ সিনেমা

আপডেট টাইম : ১০:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সিনেমার পর্দায় রোমাঞ্চের নানা রূপ আমরা দেখি। তবে প্রকৃতির রুদ্ররূপের চেয়ে বড় রোমাঞ্চ বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না। মেঘের গর্জন, অবিরাম বর্ষণ, কিংবা সাগরের দানবীয় ঢেউয়ের সামনে মানুষের টিকে থাকার লড়াই বরাবরই সেলুলয়েডে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। দেশি-বিদেশি এমন পাঁচটি ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমা নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া

চলচ্চিত্রের গল্পটা দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের। নির্মাতা মুহাম্মদ কাইয়ুমের ভাষায়, এ হলো ‘ভাটির দেশে মাটির গল্প’। তবে একটু গভীরে ভাবলে দেখা যাবে, সারা দেশের কৃষকের চিরন্তন সংগ্রামই যেন এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সিনেমার মূল পুরুষ চরিত্র সুলতানের উত্তর থেকে দক্ষিণে যাত্রার মধ্য দিয়ে মূলত এই গভীর জীবনবোধই আমাদের সামনে উঠে আসে।

বিশ্বজুড়ে চলমান অতি উষ্ণায়ন আর অতিবৃষ্টির এই সংকটের সময়ে, প্রান্তিক এক দেশের আরও প্রান্তিক কিছু মানুষের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ। সেই দুর্যোগ এবং তার মোকাবিলাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এই অনন্য চলচ্চিত্রের কাহিনী।

সাঁতাও

২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই বাংলা চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন খন্দকার সুমন। পরিচালনার পাশাপাশি এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন তিনি নিজেই। ‘সাঁতাও’ মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী রংপুরী শব্দ। দেশের উত্তরাঞ্চলে একটানা সাতদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার বিশেষ সময়টাকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

সাঁতাওয়ের সেই দিনগুলো কৃষিনির্ভর সমাজে কেমন প্রভাব ফেলে, কৃষকদের সংগ্রামী জীবন এবং প্রান্তিক পটভূমি থেকে উঠে আসা নারীদের সর্বজনীন লড়াইয়ের গল্প ঘিরেই এটি নির্মিত হয়েছে। সম্পূর্ণ গণঅর্থায়নে নির্মিত এই ছবির পুরো গল্পটি আবর্তিত হয়েছে রংপুর অঞ্চলকে ঘিরে।

কেদারনাথ 

২০১৩ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরের উপত্যকায় ঘটে যাওয়া বাস্তব এক ট্র্যাজেডির পটভূমিতে নির্মিত বলিউডের এই চলচ্চিত্র। ছবির মূল চরিত্র মনসুর খান পেশায় একজন স্থানীয় মুসলিম পোর্টার বা মালবাহক। অন্যদিকে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের ছোট মেয়ে মন্দাকিনী ওরফে মুকু একজন হিন্দু তরুণী। ধর্মের দেয়াল ও পারিবারিক অমত পেরিয়ে মনসুর ও মুকুর মধ্যে এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মুকুর বিয়ে ঠিক হওয়া এবং মনসুরের ওপর হামলার ঘটনার মধ্যেই হঠাৎ শুরু হয় ভয়াবহ অতিবর্ষণ আর হড়পা বান। চোখের পলকে ভেসে যায় পুরো উপত্যকা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেই মনসুর নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে মুকু ও অন্যদের বাঁচিয়ে নেয়। তাদের সেই আত্মত্যাগের প্রেম ও দুর্যোগের করুণ দৃশ্য দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।

২০১৮ 

ভারতের কেরালা রাজ্যে ঘটে যাওয়া ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে মালায়ালাম ভাষার এই ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রটি। গল্পে দেখা যায়, সেনা কর্মকর্তা আনুপ, চালক সেতুপাথি, টিভি রিপোর্টার নূরা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী মাথচানের পরিবারসহ বিভিন্ন চরিত্রের সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে আকস্মিক বন্যায় ওলটপালট হয়ে যায়।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যখন এক চরম মানবিক সংকটে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষই একে অপরের দেবদূত হয়ে দাঁড়ায়। অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার থেকে শুরু করে অন্ধ দোকানদারকে বাঁচানোর মতো বীরত্বপূর্ণ সব উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায় আনুপ। কেরালাবাসীর ঘুরে দাঁড়ানোর এই গল্পটি এক অভূতপূর্ব রোমাঞ্চের জন্ম দেয়।

দ্য পারফেক্ট স্টর্ম 

বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হলিউডের এই সিনেমাটি দর্শকদের প্রকৃতির এক ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর রূপের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ‘আন্দ্রে গেইল’ নামের একটি বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকা আটলান্টিক মহাসাগরে যায়। তবে ফেরার পথে তারা মুখোমুখি হয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের।

ছবিটির শেষ অর্ধেকের পুরোটা জুড়েই রয়েছে সাগরের বিশাল আকৃতির ঢেউ, অবিরাম বৃষ্টি আর তীব্র বাতাসের তাণ্ডব। প্রকৃতির রুদ্ররূপের বিরুদ্ধে মানুষের টিকে থাকার এক চরম ও বাস্তবসম্মত লড়াই এখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শককে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চিত করে রাখে।