ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার

২০২১ সালের ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তাঁর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে মাদক মামলায় পরীমণিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় ২৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ চার বছর পর গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমণি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরী জানালেন, তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার অভিঘাত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের কাছে এর জবাব চান তিনি।

শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন পরীমণি। সেই পোস্টে পরী দাবি করেন, র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম একটি অনলাইন টক শোতে সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে পরীমণিকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে কারাগারে রাখা হয়।

পরী লেখেন, ‘র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ। সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’

পরী আরও লেখেন, ‘পরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড ও টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে পরীমণি লেখেন, ‘গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন। এতগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।’

রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে পরীমণি লেখেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?’

গ্রেপ্তার-কাণ্ডের বিতর্ক এখনো বয়ে বেড়াতে হয় উল্লেখ করে পরী লেখেন, ‘আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে। আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক।’

চার বছর আগে জীবনের কঠিন সেই সময়ে পরীমণির পাশে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নায়িকা। তিনি জানান, সেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থন তাঁকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। সবার ভালোবাসা নিয়ে তিনি বাকি জীবন বাঁচতে চান। পরী আরও জানান, তিনি বিশ্বাস করেন সত্য কখনো চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

আপডেট টাইম : ০১:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

২০২১ সালের ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তাঁর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে মাদক মামলায় পরীমণিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় ২৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ চার বছর পর গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমণি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরী জানালেন, তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার অভিঘাত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের কাছে এর জবাব চান তিনি।

শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন পরীমণি। সেই পোস্টে পরী দাবি করেন, র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম একটি অনলাইন টক শোতে সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে পরীমণিকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে কারাগারে রাখা হয়।

পরী লেখেন, ‘র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ। সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’

পরী আরও লেখেন, ‘পরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড ও টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে পরীমণি লেখেন, ‘গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন। এতগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।’

রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে পরীমণি লেখেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?’

গ্রেপ্তার-কাণ্ডের বিতর্ক এখনো বয়ে বেড়াতে হয় উল্লেখ করে পরী লেখেন, ‘আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে। আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক।’

চার বছর আগে জীবনের কঠিন সেই সময়ে পরীমণির পাশে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নায়িকা। তিনি জানান, সেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থন তাঁকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। সবার ভালোবাসা নিয়ে তিনি বাকি জীবন বাঁচতে চান। পরী আরও জানান, তিনি বিশ্বাস করেন সত্য কখনো চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না।