ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

সুনামগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি, প্রস্তুত ১৩১১ আশ্রয়কেন্দ্র

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৬ বার

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোট-বড় সব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। হাওরে ও নদীতে একসঙ্গে পানি বাড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারপুর সড়কও পানির নিচে চলে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক স্থানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, আবার কোথাও নৌকাই হয়ে উঠেছে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।

ইসলামপুরের সিএনজি চালক তালহা হোসেন বলেছেন, “কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে হাওর উপচে এলাকার অনেক সড়ক তলিতে গেছে। এখন গাড়ি নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। অন্য বাড়িতে গাড়ি রেখে নৌকা যেতে হয়।”

পাশের গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, “পানি তো শুধু বাড়ছে। আরো বাড়লে আমাদের বাড়ি-ঘরে ঢুকে যেতে পারে। আমাদের ঘরটা একেবারেই নিচু যায়গায়। তাই, বেশি চিন্তা হচ্ছে। কী যে করি।”

আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশপাশি উজানে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টি ও উজানে ভারী বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।”

বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান ও সহস্রাধিক সেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

সুনামগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি, প্রস্তুত ১৩১১ আশ্রয়কেন্দ্র

আপডেট টাইম : ০৭:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোট-বড় সব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। হাওরে ও নদীতে একসঙ্গে পানি বাড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারপুর সড়কও পানির নিচে চলে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক স্থানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, আবার কোথাও নৌকাই হয়ে উঠেছে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।

ইসলামপুরের সিএনজি চালক তালহা হোসেন বলেছেন, “কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে হাওর উপচে এলাকার অনেক সড়ক তলিতে গেছে। এখন গাড়ি নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। অন্য বাড়িতে গাড়ি রেখে নৌকা যেতে হয়।”

পাশের গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, “পানি তো শুধু বাড়ছে। আরো বাড়লে আমাদের বাড়ি-ঘরে ঢুকে যেতে পারে। আমাদের ঘরটা একেবারেই নিচু যায়গায়। তাই, বেশি চিন্তা হচ্ছে। কী যে করি।”

আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশপাশি উজানে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টি ও উজানে ভারী বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।”

বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান ও সহস্রাধিক সেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।