ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ কি মাঠে বসে দেখবেন দি মারিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১০ বার

আর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলারদের তালিকা করলে আনহেল দি মারিয়ার নাম নিশ্চিতভাবেই সেরা পাঁচে থাকবে। আর্জেন্টিনার সবশেষ চার শিরোপা জয়ে রয়েছে তাঁর অবদান। লুসাইলে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেসদের সঙ্গে উদযাপন করেছিলেন দি মারিয়া। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পর আর্জেন্টিনা যখন নামছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে, তখন থাকছেন না দি মারিয়া।

ফ্লোরিডায় ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন দি মারিয়া। ছলছল চোখে দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। সেই মার্কিন মুলুকেই আর কদিন পরে শুরু হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এবার আলবিসেলেস্তেরা খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। মেসি-মার্তিনেসদের খেলা কি স্টেডিয়ামে বসে দেখবেন—গতকাল ব্যালন ডি’অর ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্ন উঠলে দি মারিয়া বলেন, ‘আমার যেতে (যুক্তরাষ্ট্র) ভালো লাগবে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।’

জন্মস্থান রোজারিওর ক্লাব রোজারিওর সেন্ট্রালের হয়ে ২০০৫ সালে ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেন দি মারিয়া। দুই বছর সেখানে খেলার পর বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, জুভেন্টাস—ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন তিনি। ২০২৫ সালে তাঁর শৈশবের ক্লাবে ১৮ বছর পর ফিরেছেন দি মারিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে দি মারিয়া বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন কি না, তা নির্ভর করছে রোজারিও সেন্ট্রালের ওপর। যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, বিশ্বকাপে নিজের দলের ম্যাচ দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। ব্যালন ডি’অর ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া বলেন, ‘এখানে (রোজারিও সেন্ট্রাল) মৌসুম কখন শেষ হবে, কখন ফিরতে হবে, কত দিনের ছুটি পাব—এসব দেখতে হবে। তবে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাই।’

২০২৪ সালে অবসর নিলেও আর্জেন্টিনা যখন এবার নামছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে, তখন দি মারিয়ার জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেটা যে স্রেফ এক গুঞ্জন ছিল, দল ঘোষণার পর প্রমাণ হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যখন এগিয়ে আসছে, কখনো কি তাঁর মনে হয়েছে ফের আর্জেন্টিনার জার্সি পরার কথা? এই প্রশ্নের উত্তরে দি মারিয়া বলেন, ‘সত্যি বলতে, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম এক-দুই দফা দলে ডাক আসার সময় একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করেছিল। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু দলে না থাকার বিষয়টি একটু অস্বস্তিকর লাগছিল। কিন্তু সেটা মাত্র এক-দুইবারের জন্য ছিল। এরপর আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাই। আমি জানতাম কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজও সেই সিদ্ধান্তেই অটল আছি। বিষয়টি সেখানেই শেষ।’

২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪৫ ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। ৩১ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৩২ গোলে। মারাকানায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে তাঁর চিপ করা গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এরপর ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ কি মাঠে বসে দেখবেন দি মারিয়া

আপডেট টাইম : ০৬:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলারদের তালিকা করলে আনহেল দি মারিয়ার নাম নিশ্চিতভাবেই সেরা পাঁচে থাকবে। আর্জেন্টিনার সবশেষ চার শিরোপা জয়ে রয়েছে তাঁর অবদান। লুসাইলে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেসদের সঙ্গে উদযাপন করেছিলেন দি মারিয়া। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পর আর্জেন্টিনা যখন নামছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে, তখন থাকছেন না দি মারিয়া।

ফ্লোরিডায় ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন দি মারিয়া। ছলছল চোখে দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। সেই মার্কিন মুলুকেই আর কদিন পরে শুরু হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এবার আলবিসেলেস্তেরা খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। মেসি-মার্তিনেসদের খেলা কি স্টেডিয়ামে বসে দেখবেন—গতকাল ব্যালন ডি’অর ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্ন উঠলে দি মারিয়া বলেন, ‘আমার যেতে (যুক্তরাষ্ট্র) ভালো লাগবে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।’

জন্মস্থান রোজারিওর ক্লাব রোজারিওর সেন্ট্রালের হয়ে ২০০৫ সালে ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেন দি মারিয়া। দুই বছর সেখানে খেলার পর বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, জুভেন্টাস—ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন তিনি। ২০২৫ সালে তাঁর শৈশবের ক্লাবে ১৮ বছর পর ফিরেছেন দি মারিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে দি মারিয়া বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন কি না, তা নির্ভর করছে রোজারিও সেন্ট্রালের ওপর। যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, বিশ্বকাপে নিজের দলের ম্যাচ দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। ব্যালন ডি’অর ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া বলেন, ‘এখানে (রোজারিও সেন্ট্রাল) মৌসুম কখন শেষ হবে, কখন ফিরতে হবে, কত দিনের ছুটি পাব—এসব দেখতে হবে। তবে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাই।’

২০২৪ সালে অবসর নিলেও আর্জেন্টিনা যখন এবার নামছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে, তখন দি মারিয়ার জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেটা যে স্রেফ এক গুঞ্জন ছিল, দল ঘোষণার পর প্রমাণ হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যখন এগিয়ে আসছে, কখনো কি তাঁর মনে হয়েছে ফের আর্জেন্টিনার জার্সি পরার কথা? এই প্রশ্নের উত্তরে দি মারিয়া বলেন, ‘সত্যি বলতে, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম এক-দুই দফা দলে ডাক আসার সময় একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করেছিল। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু দলে না থাকার বিষয়টি একটু অস্বস্তিকর লাগছিল। কিন্তু সেটা মাত্র এক-দুইবারের জন্য ছিল। এরপর আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাই। আমি জানতাম কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজও সেই সিদ্ধান্তেই অটল আছি। বিষয়টি সেখানেই শেষ।’

২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪৫ ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। ৩১ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৩২ গোলে। মারাকানায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে তাঁর চিপ করা গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এরপর ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন তিনি।