ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, অবশেষে যুগ্ম সচিব ছেলে ওএসডি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ১২ বার

সন্তানদের অবহেলায় রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে সরকার। বুধবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হলো। এর আগে সকালে মায়ের প্রতি অবহেলায় তার বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এদিকে চার সন্তানের দায়িত্বহীনতা, ভরণ-পোষণে অবহেলা ও আইনি কর্তব্য পালনে ব্যর্থতায় বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর জন্য তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।

আজ বুধবার এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, জনস্বার্থে এবং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চার সন্তান হলেন— খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডা প্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান ও স্কুলশিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা।

গত রোববার (৩১ মে) জরুরি সেবার প্লাটফর্ম ৯৯৯–এ ফোনকল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ নুরজাহানের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মৃত্যুর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি চরম অবহেলা ও অযত্নে কাটিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্যে, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল। নুরজাহানের ছেলে আনিসুর রহমান যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। মেয়েজামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এই অবহেলার বিষয়টি সামনে আসার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, অবশেষে যুগ্ম সচিব ছেলে ওএসডি

আপডেট টাইম : ১০:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সন্তানদের অবহেলায় রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে সরকার। বুধবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হলো। এর আগে সকালে মায়ের প্রতি অবহেলায় তার বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এদিকে চার সন্তানের দায়িত্বহীনতা, ভরণ-পোষণে অবহেলা ও আইনি কর্তব্য পালনে ব্যর্থতায় বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর জন্য তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।

আজ বুধবার এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, জনস্বার্থে এবং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চার সন্তান হলেন— খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডা প্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান ও স্কুলশিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা।

গত রোববার (৩১ মে) জরুরি সেবার প্লাটফর্ম ৯৯৯–এ ফোনকল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ নুরজাহানের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মৃত্যুর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি চরম অবহেলা ও অযত্নে কাটিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্যে, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল। নুরজাহানের ছেলে আনিসুর রহমান যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। মেয়েজামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এই অবহেলার বিষয়টি সামনে আসার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।