ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীতে চলছে পশু কোরবানি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ১১ বার

ঈদের নামাজ শেষ হতেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে ঢাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনের নিচতলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। বড়দের পাশাপাশি নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঢাকার প্রতিটি কোনায় এখন ঈদের চেনা আমেজ।

রাজধানীর বাসাবো, সবুজবাগ, পল্টন, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মগবাজার, বাংলামটর, কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন গলিতে, রাস্তার পাশে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন শিশুসহ নানা বয়সীর মানুষ।

সবুজবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জনাব মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমরা প্রতিবছর পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে কোরবানি করি। এতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।’

বাসাবো এলাকার আরেক বাসিন্দা নাফিজ চৌধুরি বলেন, শিশুরা সকাল থেকেই খুব আনন্দ করছে। তারা গরুর পাশে ঘুরছে এবং মাংস কাটার কাজ দেখছে। দেখে ভালো লাগছে। ছোটবেলায় আমরাও এমন আনন্দ করতাম।

অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের কারণে অনেকে যৌথভাবে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। হাফিজু রহমান নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েকটি পরিবার মিলে যৌথভাবে একটা গরু কোরবানি দিচ্ছি। আমার মতো অনেকেই একসঙ্গে গরু কিনে কোরবানি করছেন। এতে খরচ যেমন কিছুটা কমে, তেমনি সুন্দর একটি সামাজিক বন্ধনও তৈরি হয়।’

মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা সাগর মিয়া জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই তারা ৪ জন মিলে ভাগে কোরবানি দিয়েছেন। কোরবানির গরুর কাছে নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে মনে শান্তি লাগে না। বাসার সামনে কোরবানি হওয়ায় পরিবারের শিশুরা অনেক আনন্দ করছে।

পশু কোরবানির এই মহা-ব্যস্ততার দিনে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় কসাই ও মৌসুমী মাংস প্রস্তুতকারীদের। কসাই মো. হাবিব বলেন, সকাল ৭টা থেকেই কাজ শুরু করেছি। আজকে অন্তত সাতটা গরু কাটার চুক্তি আছে। ঈদের এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়।’

কসাই রবিউল বলেন, ‘আজ দম ফেলার সময় নেই। এই গরু কেটে আরেকটার কাছে যাবো, সেখানে আরও ২টা গরু কাটতে হবে। এরপর কাঁচা বাজার এলাকায় আরও দুটি গরু কাটার কাজ আছে।’

নতুন পোশাক পরে বড়দের মাংস কাটার কাজ ও পশু কোরবানি দেখা এবং বড়দের সাহায্য করার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মগবাজার এলাকার স্কুলশিক্ষার্থী আতিকুর রহমান আনন্দ প্রকাশ করে জানান, সকালে নামাজ পড়েই বাসায় চলে এসেছি। আব্বু ও বড় আব্বুর সঙ্গে কোরবানির গরু জবাই করা দেখেছি। এরপর আব্বুর সঙ্গে আত্মীয়দের বাসায় মাংস দিয়ে আসবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীতে চলছে পশু কোরবানি

আপডেট টাইম : ১০:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ঈদের নামাজ শেষ হতেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে ঢাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনের নিচতলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। বড়দের পাশাপাশি নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঢাকার প্রতিটি কোনায় এখন ঈদের চেনা আমেজ।

রাজধানীর বাসাবো, সবুজবাগ, পল্টন, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মগবাজার, বাংলামটর, কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন গলিতে, রাস্তার পাশে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন শিশুসহ নানা বয়সীর মানুষ।

সবুজবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জনাব মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমরা প্রতিবছর পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে কোরবানি করি। এতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।’

বাসাবো এলাকার আরেক বাসিন্দা নাফিজ চৌধুরি বলেন, শিশুরা সকাল থেকেই খুব আনন্দ করছে। তারা গরুর পাশে ঘুরছে এবং মাংস কাটার কাজ দেখছে। দেখে ভালো লাগছে। ছোটবেলায় আমরাও এমন আনন্দ করতাম।

অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের কারণে অনেকে যৌথভাবে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। হাফিজু রহমান নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েকটি পরিবার মিলে যৌথভাবে একটা গরু কোরবানি দিচ্ছি। আমার মতো অনেকেই একসঙ্গে গরু কিনে কোরবানি করছেন। এতে খরচ যেমন কিছুটা কমে, তেমনি সুন্দর একটি সামাজিক বন্ধনও তৈরি হয়।’

মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা সাগর মিয়া জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই তারা ৪ জন মিলে ভাগে কোরবানি দিয়েছেন। কোরবানির গরুর কাছে নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে মনে শান্তি লাগে না। বাসার সামনে কোরবানি হওয়ায় পরিবারের শিশুরা অনেক আনন্দ করছে।

পশু কোরবানির এই মহা-ব্যস্ততার দিনে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় কসাই ও মৌসুমী মাংস প্রস্তুতকারীদের। কসাই মো. হাবিব বলেন, সকাল ৭টা থেকেই কাজ শুরু করেছি। আজকে অন্তত সাতটা গরু কাটার চুক্তি আছে। ঈদের এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়।’

কসাই রবিউল বলেন, ‘আজ দম ফেলার সময় নেই। এই গরু কেটে আরেকটার কাছে যাবো, সেখানে আরও ২টা গরু কাটতে হবে। এরপর কাঁচা বাজার এলাকায় আরও দুটি গরু কাটার কাজ আছে।’

নতুন পোশাক পরে বড়দের মাংস কাটার কাজ ও পশু কোরবানি দেখা এবং বড়দের সাহায্য করার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মগবাজার এলাকার স্কুলশিক্ষার্থী আতিকুর রহমান আনন্দ প্রকাশ করে জানান, সকালে নামাজ পড়েই বাসায় চলে এসেছি। আব্বু ও বড় আব্বুর সঙ্গে কোরবানির গরু জবাই করা দেখেছি। এরপর আব্বুর সঙ্গে আত্মীয়দের বাসায় মাংস দিয়ে আসবো।