ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার মূল কাজ: উপদেষ্টা নেইমারকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লো খুদে ভক্ত, জড়িয়ে ধরলেন তারকা ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না : আছিয়ার মা মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হলেন বুশরা ও নওশিন রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় যেভাবে, উঠে এলো সিদ্ধার্থের বর্ণনায়

আবু সাঈদ হত্যা মামলা বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৬৫ বার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে স্থায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানার ভিত্তিতেই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সলিমুল্লাহ রোডের ওই গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দেশের অন্য কোনো থানায় আরও কোনো ফৌজদারি বা রাজনৈতিক মামলা আছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশি রেকর্ড যাচাই-সহ নিবিড় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গ্রেফতারকৃত অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের জুন মাসে তৎকালীন সরকার তাকে চার বছরের জন্য রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
এই হত্যাকাণ্ডের পর উপাচার্য হাসিবুর রশীদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবন ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে ৯ আগস্ট তিনি উপাচার্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি অধ্যাপক হাসিবুর রশীদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর চলতি ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বহুল আলোচিত এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর রায়ে এই হত্যা মামলায় জড়িত মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। সেই রায়েই আদালত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন, যার পর থেকে তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আবু সাঈদ হত্যা মামলা বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ১১:১৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে স্থায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানার ভিত্তিতেই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সলিমুল্লাহ রোডের ওই গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দেশের অন্য কোনো থানায় আরও কোনো ফৌজদারি বা রাজনৈতিক মামলা আছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশি রেকর্ড যাচাই-সহ নিবিড় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গ্রেফতারকৃত অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের জুন মাসে তৎকালীন সরকার তাকে চার বছরের জন্য রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
এই হত্যাকাণ্ডের পর উপাচার্য হাসিবুর রশীদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবন ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে ৯ আগস্ট তিনি উপাচার্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি অধ্যাপক হাসিবুর রশীদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর চলতি ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বহুল আলোচিত এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর রায়ে এই হত্যা মামলায় জড়িত মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। সেই রায়েই আদালত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন, যার পর থেকে তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছিলেন।