ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক, বিপাকে কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ২০ বার
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর কম এবং শ্রমিক সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি জোটানো যাচ্ছে না।

শনিবার (৯ মে) সকালে সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে এলাকাভেদে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।

চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান থাকলেও কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে বৈরী আবহাওয়া। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও আগাম পানিতে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে শ্রমিকের মজুরিও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি ধানের দাম। এতে অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “একসঙ্গে সবার ধান পেকে গেছে। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

তাই দ্রুত ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি, আর ধানের দাম কম। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, সেটাই চিন্তা।”খাদুলী গ্রামের কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘ধান উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। হালচাষ, সেচ, শ্রমিক, কীটনাশক—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন ধার-দেনা আর ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হলেও আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই কৃষকদের কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ শিলাবৃষ্টি বা আগাম পানিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক, বিপাকে কৃষক

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর কম এবং শ্রমিক সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি জোটানো যাচ্ছে না।

শনিবার (৯ মে) সকালে সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে এলাকাভেদে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।

চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান থাকলেও কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে বৈরী আবহাওয়া। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও আগাম পানিতে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে শ্রমিকের মজুরিও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি ধানের দাম। এতে অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “একসঙ্গে সবার ধান পেকে গেছে। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

তাই দ্রুত ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি, আর ধানের দাম কম। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, সেটাই চিন্তা।”খাদুলী গ্রামের কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘ধান উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। হালচাষ, সেচ, শ্রমিক, কীটনাশক—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন ধার-দেনা আর ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হলেও আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই কৃষকদের কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ শিলাবৃষ্টি বা আগাম পানিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’