ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফেরানো সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৭ বার
পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে। এখন জনগণ গুম, অপহরণ এবং ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে, যেখানে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পুলিশ যদি জনগণের সাথে গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তবে তাদের দায়িত্ব পালনের পথ আরও সহজ হবে। অবিচার, অনাচার ও নির্যাতনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সপ্তাহ যেন প্রতিটি সদস্যের জন্য জনগণের বিশ্বস্ত সেবক হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পূরণের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে, সেই আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ঘরে-বাইরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সরকারের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে এই বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষ অবস্থান প্রমাণ করেছে, অনুকূল পরিবেশে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।
শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্ব দরবারে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এই বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে জড়িত, তাই এই খাতে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ করে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ তাদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফেরানো সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে। এখন জনগণ গুম, অপহরণ এবং ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে, যেখানে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পুলিশ যদি জনগণের সাথে গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তবে তাদের দায়িত্ব পালনের পথ আরও সহজ হবে। অবিচার, অনাচার ও নির্যাতনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সপ্তাহ যেন প্রতিটি সদস্যের জন্য জনগণের বিশ্বস্ত সেবক হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পূরণের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে, সেই আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ঘরে-বাইরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সরকারের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে এই বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষ অবস্থান প্রমাণ করেছে, অনুকূল পরিবেশে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।
শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্ব দরবারে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এই বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে জড়িত, তাই এই খাতে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ করে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ তাদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।