ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

হাওরাঞ্চলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, বিপৎসীমার উপরে ৫ নদীর পানি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৭৬ বার

টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পানির ঢলে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে কৃষকের খেতের ফসল। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার বিস্তৃত হাওর অঞ্চল এই আগাম বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নেত্রকোণা জেলা। গত চারদিন ধরে নেত্রকোণাসহ উজানের ভারতীয় অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই প্রবণতা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। যে কারণে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভুগাই-কংস ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী খালিয়াজুরী পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নেত্রকোণা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদীর পানি সমতল তৃতীয় দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

হাওরাঞ্চলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, বিপৎসীমার উপরে ৫ নদীর পানি

আপডেট টাইম : ১০:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পানির ঢলে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে কৃষকের খেতের ফসল। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার বিস্তৃত হাওর অঞ্চল এই আগাম বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নেত্রকোণা জেলা। গত চারদিন ধরে নেত্রকোণাসহ উজানের ভারতীয় অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই প্রবণতা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। যে কারণে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভুগাই-কংস ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী খালিয়াজুরী পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নেত্রকোণা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদীর পানি সমতল তৃতীয় দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।