ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা : শিক্ষামন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের ১২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত : আইনমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রয়োজনে রাজপথে নামবে সরকারবিরোধী জোট সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন ২৬৪ কর্মকর্তা ভিসার মেয়াদ শেষ, সৌদিতে আটকে পড়াদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন: নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল গোলাম রাব্বানীকে সাদিক কায়েমের টেক্সট, স্ক্রিনশট ভাইরাল চাকরির বয়স বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করল ইরান জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত, আরও বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে : মন্ত্রিপরিষদ সচিব

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রয়োজনে রাজপথে নামবে সরকারবিরোধী জোট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার

জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর বাস্তবায়ন নিয়ে ফের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। এ ইস্যুতে সরকারি আর বিরোধী জোটের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পরপরই সনদ বাস্তবায়নে জোর দেয় বিরোধী জোট। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসায় এ নিয়ে তারা রাজপথে নামেনি। ঈদের ছুটি শেষ। এখন রাজপথে নামতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। দলগুলোর নেতারাও তাদের বক্তব্যে বলছেন, সংসদে সমাধান না এলে রাজপথই হবে শেষ ভরসা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপি যদি সঠিক পথে না ফিরে আসে, তাহলে তাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদীদের মতো হতে পারে। আমরা আশা করি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদি সংসদের ভেতরে এসব সমাধান না হয়, স্বভাবতই তা বাইরে আন্দোলনে রূপ নেবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করুন এবং জুলাই জাতীয় সনদকে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করুন। এটিই এখন সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পার্লামেন্টে সমাধান নেবে নাকি জনগণকে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবে।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের প্রতিফলিত জনমত উপেক্ষা করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা হলে তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সংবিধানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া আটকে রাখা হলে তা জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি করবে, যার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে রাজপথেই।

এদিকে জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। জুলাই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রফিকুল ইসলাম খান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম একই সুরে জানান, সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ঈদের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে অগ্রগতি না এলে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে সমন্বিতভাবে চাপ বাড়াবে। সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রবেশ করার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পৃথক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন জুলাই জাতীয় সনদ মানা না হলে তারা রাজপথে যাবেন। আমরা বলতে চাই, আমরা এই সনদকে অস্বীকার করি না। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এমনকি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা তার প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করব।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট জুড়ে যায়, তখন আন্দোলনের ভিত্তি আরও শক্ত হয়। তখন সেটি কেবল দলীয় থাকে না, সামাজিক চরিত্র ধারণ করে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের ধীরগতি নিঃসন্দেহে আলোচনা ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। তবে মনে রাখা প্রয়োজনÑ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি জটিলÑ এটিও অস্বীকার করা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত (জুলাই সনদ বাস্তবায়ন) গ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ (সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা) প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আন্দোলনও হওয়া উচিত সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল। সংলাপ, যুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা হলে তা অধিক কার্যকর হতে পারে। সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষের জন্যই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। যাতে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়। কোনো পক্ষেরই উচিত হবে না দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সারোয়ার জাহান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে একটি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস বহন করছে বিরোধী নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে। জুলাই সনদ এখন কেবল একটি নীতিগত দলিল নয়, এটি বিরোধী রাজনীতির জন্য একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। এই ইস্যুতে তারা নিজেদের পুনর্গঠন ও ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্যই সংসদের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়লে বিরোধী দলগুলোর জন্য রাজপথে সক্রিয় হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। এটি একটি ‘টেস্ট কেস’ হয়ে উঠেছে সরকারের জন্য। সরকার কতটা সংস্কারে আগ্রহী এবং বিরোধী দল কতটা চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষমÑ সেটিই এখন দেখার বিষয়। সমঝোতা না হলে এটি দ্রুত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে বলা যায় জুলাই সনদ এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এটি সমাধানের পথে এগোবে, নাকি নতুন সংঘাতের জন্ম দেবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের ওপর।দেশের রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা : শিক্ষামন্ত্রী

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রয়োজনে রাজপথে নামবে সরকারবিরোধী জোট

আপডেট টাইম : ১০:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর বাস্তবায়ন নিয়ে ফের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। এ ইস্যুতে সরকারি আর বিরোধী জোটের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পরপরই সনদ বাস্তবায়নে জোর দেয় বিরোধী জোট। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসায় এ নিয়ে তারা রাজপথে নামেনি। ঈদের ছুটি শেষ। এখন রাজপথে নামতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। দলগুলোর নেতারাও তাদের বক্তব্যে বলছেন, সংসদে সমাধান না এলে রাজপথই হবে শেষ ভরসা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপি যদি সঠিক পথে না ফিরে আসে, তাহলে তাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদীদের মতো হতে পারে। আমরা আশা করি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদি সংসদের ভেতরে এসব সমাধান না হয়, স্বভাবতই তা বাইরে আন্দোলনে রূপ নেবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করুন এবং জুলাই জাতীয় সনদকে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করুন। এটিই এখন সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পার্লামেন্টে সমাধান নেবে নাকি জনগণকে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবে।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের প্রতিফলিত জনমত উপেক্ষা করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা হলে তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সংবিধানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া আটকে রাখা হলে তা জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি করবে, যার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে রাজপথেই।

এদিকে জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। জুলাই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রফিকুল ইসলাম খান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম একই সুরে জানান, সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ঈদের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে অগ্রগতি না এলে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে সমন্বিতভাবে চাপ বাড়াবে। সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রবেশ করার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পৃথক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন জুলাই জাতীয় সনদ মানা না হলে তারা রাজপথে যাবেন। আমরা বলতে চাই, আমরা এই সনদকে অস্বীকার করি না। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এমনকি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা তার প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করব।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট জুড়ে যায়, তখন আন্দোলনের ভিত্তি আরও শক্ত হয়। তখন সেটি কেবল দলীয় থাকে না, সামাজিক চরিত্র ধারণ করে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের ধীরগতি নিঃসন্দেহে আলোচনা ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। তবে মনে রাখা প্রয়োজনÑ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি জটিলÑ এটিও অস্বীকার করা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত (জুলাই সনদ বাস্তবায়ন) গ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ (সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা) প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আন্দোলনও হওয়া উচিত সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল। সংলাপ, যুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা হলে তা অধিক কার্যকর হতে পারে। সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষের জন্যই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। যাতে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়। কোনো পক্ষেরই উচিত হবে না দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সারোয়ার জাহান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে একটি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস বহন করছে বিরোধী নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে। জুলাই সনদ এখন কেবল একটি নীতিগত দলিল নয়, এটি বিরোধী রাজনীতির জন্য একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। এই ইস্যুতে তারা নিজেদের পুনর্গঠন ও ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্যই সংসদের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়লে বিরোধী দলগুলোর জন্য রাজপথে সক্রিয় হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। এটি একটি ‘টেস্ট কেস’ হয়ে উঠেছে সরকারের জন্য। সরকার কতটা সংস্কারে আগ্রহী এবং বিরোধী দল কতটা চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষমÑ সেটিই এখন দেখার বিষয়। সমঝোতা না হলে এটি দ্রুত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে বলা যায় জুলাই সনদ এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এটি সমাধানের পথে এগোবে, নাকি নতুন সংঘাতের জন্ম দেবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের ওপর।দেশের রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।