ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩৫ নারী আসনে ৫০০ প্রার্থী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ০ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য শুধু বিএনপিতেই জমা পড়েছে ৫০০-এর বেশি আবেদন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে এসব আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের নির্ধারিত কোনো ফরম না থাকলেও তারা সাদা কাগজে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের নেওয়া পদক্ষেপ। অনেকে জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মিছিল, মিটিং ও দলীয় কর্মসূচির অসংখ্য ছবি। প্রত্যেকের আবেদন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর। বিএনপির পল্টন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৬ মার্চ পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে ৫০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে। দলীয়ভাবে এটা রেকর্ড বলে জানান তিনি। আবেদনগুলো দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। খুলনা থেকে আবেদন করা এক নারী নেত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের জন্য তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার জীবনবৃত্তান্ত বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বেশ কয়েক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। শুধু আমি নই এ রকম আবেদন করা আরও অনেকেই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এসবের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলাদাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি প্রার্থীরা। অনেকে একাধিক পেইজ খুলে দাবি জানাচ্ছেন। ‘পেইড সিস্টেমে’ সেসব প্রচারে নানা ইতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। যুক্ত করা হচ্ছে মিছিল, মিটিংয়ের ছবি। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এসব তৎপরতা বলে জানান সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাবেন এ নিয়ে দলের ভিতরে জোর আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকেই। ফলে এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকে। যদিও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নারী আসনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে ঈদের পর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়ন, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য এখনো হাতে সময় আছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। তাদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির, একজন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য হবেন ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৫ নারী আসনে ৫০০ প্রার্থী

আপডেট টাইম : ০১:১৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য শুধু বিএনপিতেই জমা পড়েছে ৫০০-এর বেশি আবেদন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে এসব আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের নির্ধারিত কোনো ফরম না থাকলেও তারা সাদা কাগজে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের নেওয়া পদক্ষেপ। অনেকে জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মিছিল, মিটিং ও দলীয় কর্মসূচির অসংখ্য ছবি। প্রত্যেকের আবেদন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর। বিএনপির পল্টন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৬ মার্চ পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে ৫০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে। দলীয়ভাবে এটা রেকর্ড বলে জানান তিনি। আবেদনগুলো দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। খুলনা থেকে আবেদন করা এক নারী নেত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের জন্য তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার জীবনবৃত্তান্ত বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বেশ কয়েক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। শুধু আমি নই এ রকম আবেদন করা আরও অনেকেই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এসবের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলাদাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি প্রার্থীরা। অনেকে একাধিক পেইজ খুলে দাবি জানাচ্ছেন। ‘পেইড সিস্টেমে’ সেসব প্রচারে নানা ইতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। যুক্ত করা হচ্ছে মিছিল, মিটিংয়ের ছবি। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এসব তৎপরতা বলে জানান সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাবেন এ নিয়ে দলের ভিতরে জোর আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকেই। ফলে এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকে। যদিও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নারী আসনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে ঈদের পর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়ন, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য এখনো হাতে সময় আছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। তাদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির, একজন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য হবেন ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।