ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পানি ঝরছে, লাল হয়ে থাকছে না তো চোখ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার

শীতকালে শুধু সর্দি-কাশির ভোগান্তিই বাড়ে- ব্যাপারটি মোটেই এমন নয়। এই সময় চোখেও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। চোখে জ্বালাভাব, চুলকানি, অকারণে পানি পড়া কিংবা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ শীতকালেই তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। মূলত শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ড্রাই আই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া ঠান্ডা বাতাস, রোদ ও ধুলাবালির প্রভাবও চোখের ওপর পড়ে। তাই শীতকালে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শীতকালে ড্রাই আই খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এতে চোখে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়, রোদে চোখ খুলে রাখা অনেক কষ্টকর হয় এবং বারবার চোখের পাতা ফেলতে হয়। এই সমস্যা এড়াতে কিছু করণীয় রয়েছে, যা পালন করলে এই সময় চোখ রোগ থেকে রক্ষা পায়। এজন্য নিয়মিত লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত এবং মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার সময় কমাতে হবে।

অনেকে প্রশ্ন করেন, চোখ থেকে অকারণে ঘন ঘন পানি ঝরে কেন? শীতে রোদের তেজ তুলনামূলক কম হলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছরই চোখের জন্য ক্ষতিকর। এই ইউভি রশ্মি চোখের কর্নিয়া ও রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। যেমনভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন চোখের ক্ষতি করে, তেমনি সূর্যের আলোও দীর্ঘ সময় সরাসরি চোখে পড়লে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই রোদে বের হলে অবশ্যই ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা প্রয়োজন।

শীতকালে কনজেক্টিভাইটিসসহ নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। এসব সমস্যা এড়াতে চোখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা চশমা ব্যবহার করেন, তাদের চশমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ধুলাবালির কারণে অনেক সময় চোখে অ্যালার্জি দেখা দেয়। এতে চোখে চুলকানি, লালচে ভাব এবং পানি পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখা ও বাইরে বের হলে সানগ্লাস বা চশমা ব্যবহার করা ভালো। চোখে চুলকানি হলে নোংরা হাতে চোখ রগড়ানো যাবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-অ্যালার্জি আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখ সুস্থ রাখতে স্ক্রিন টাইম কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ রুল অনুসরণ করা যেতে পারে, অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। চোখে মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানির ঝাঁপটা দেওয়া উপকারী। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ভিটামিন এ, সি, ই, জিঙ্ক ও লুটেইনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

লেখক : অধ্যাপক এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

হটলাইন : ০১৮২৫৮৯০৬৯১, ০১৫৫২৪০৯০২৬

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

পানি ঝরছে, লাল হয়ে থাকছে না তো চোখ

আপডেট টাইম : ১০:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকালে শুধু সর্দি-কাশির ভোগান্তিই বাড়ে- ব্যাপারটি মোটেই এমন নয়। এই সময় চোখেও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। চোখে জ্বালাভাব, চুলকানি, অকারণে পানি পড়া কিংবা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ শীতকালেই তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। মূলত শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ড্রাই আই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া ঠান্ডা বাতাস, রোদ ও ধুলাবালির প্রভাবও চোখের ওপর পড়ে। তাই শীতকালে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শীতকালে ড্রাই আই খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এতে চোখে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়, রোদে চোখ খুলে রাখা অনেক কষ্টকর হয় এবং বারবার চোখের পাতা ফেলতে হয়। এই সমস্যা এড়াতে কিছু করণীয় রয়েছে, যা পালন করলে এই সময় চোখ রোগ থেকে রক্ষা পায়। এজন্য নিয়মিত লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত এবং মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার সময় কমাতে হবে।

অনেকে প্রশ্ন করেন, চোখ থেকে অকারণে ঘন ঘন পানি ঝরে কেন? শীতে রোদের তেজ তুলনামূলক কম হলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছরই চোখের জন্য ক্ষতিকর। এই ইউভি রশ্মি চোখের কর্নিয়া ও রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। যেমনভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন চোখের ক্ষতি করে, তেমনি সূর্যের আলোও দীর্ঘ সময় সরাসরি চোখে পড়লে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই রোদে বের হলে অবশ্যই ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা প্রয়োজন।

শীতকালে কনজেক্টিভাইটিসসহ নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। এসব সমস্যা এড়াতে চোখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা চশমা ব্যবহার করেন, তাদের চশমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ধুলাবালির কারণে অনেক সময় চোখে অ্যালার্জি দেখা দেয়। এতে চোখে চুলকানি, লালচে ভাব এবং পানি পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখা ও বাইরে বের হলে সানগ্লাস বা চশমা ব্যবহার করা ভালো। চোখে চুলকানি হলে নোংরা হাতে চোখ রগড়ানো যাবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-অ্যালার্জি আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখ সুস্থ রাখতে স্ক্রিন টাইম কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ রুল অনুসরণ করা যেতে পারে, অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। চোখে মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানির ঝাঁপটা দেওয়া উপকারী। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ভিটামিন এ, সি, ই, জিঙ্ক ও লুটেইনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

লেখক : অধ্যাপক এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

হটলাইন : ০১৮২৫৮৯০৬৯১, ০১৫৫২৪০৯০২৬