ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত জোট ভাঙলো ইসলামী আন্দোলনের এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রার্থী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ বার

শেষ রক্ষা হলো না জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের। ইসলামী ধারার দলগুলোর একসঙ্গে ভোট করার চরমোনাই পীরের ‘ওয়ান বক্স’ থিওরিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ স্লোগানকে ধারণ করে গড়ে উঠা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য অবশেষে ভেঙে গেল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে গেল অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন এ দলটি এককভাবে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি ২৬৮ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে কার্যত ইসলাম থেকে সরে গেছে, সে জন্যই আমরা জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট গত ১৫ জানুয়ারি ২৫৩ আসনে সমঝোতার প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পরদিন ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালো। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়েছে।

জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব আসনে দলের প্রার্থীরা হাতপাখা প্রতীক নিয়েই আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দল’ এ ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে ছিল। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াতের টানাপড়েন গত সপ্তাহজুড়েই ছিল আলোচনায়। টানাপড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল আসন সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনী মোর্চার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আসন সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০ আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২০ আসন, খেলাফত মজলিশ ১০ আসন, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের এলডিপি ৭ আসন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩ আসন, নেজামে ইসলামী ২ আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোট আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে। দলগুলো হলোÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এরপর সেই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সব মিলিয়ে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার আলোচনা চলমান অবস্থায়ই জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ছয়টি, জাগপা তিনটি এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সর্বশেষ আসন বণ্টন বা সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার পর ইসলামী আন্দোলনের সাথে যে টানাপড়েন চলছিল তা নিরসনে খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে জোটের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ১৫ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সাথে দিন ভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এরপর গতকালও খেলাফত মজলিশের আমির এবং এনসিপির আহ্বায়ক ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার শেষ চেষ্টা করেছেন। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জোট ছাড়ার বিষয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির এনজিও ও টাকার বিনিময়ে কথিত জরিপের উদ্বৃতি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে ইনসাল্ট করায়, জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইন থেকে পিছু হটায় এবং ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনের আলোকেই দেশ চালাবে ঘোষণা দেয়া ১১ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত না হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ইসলামী আদর্শের আলোকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যেখানে শুধু মুসলমানই নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার অধিকার, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে ওয়ান বক্স পলিসি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় ওয়ান বক্স পলিসি থেকে সরে প্রতারণা করেছে। ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামের অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় মুখপাত্র বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠক করে বিএনপির সাথে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্য আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে, এতে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জামায়াত জোট ভাঙলো ইসলামী আন্দোলনের এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রার্থী

আপডেট টাইম : ০২:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শেষ রক্ষা হলো না জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের। ইসলামী ধারার দলগুলোর একসঙ্গে ভোট করার চরমোনাই পীরের ‘ওয়ান বক্স’ থিওরিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ স্লোগানকে ধারণ করে গড়ে উঠা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য অবশেষে ভেঙে গেল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে গেল অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন এ দলটি এককভাবে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি ২৬৮ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লোভে কার্যত ইসলাম থেকে সরে গেছে, সে জন্যই আমরা জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট গত ১৫ জানুয়ারি ২৫৩ আসনে সমঝোতার প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পরদিন ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালো। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়েছে।

জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব আসনে দলের প্রার্থীরা হাতপাখা প্রতীক নিয়েই আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দল’ এ ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে ছিল। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াতের টানাপড়েন গত সপ্তাহজুড়েই ছিল আলোচনায়। টানাপড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল আসন সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনী মোর্চার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আসন সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০ আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২০ আসন, খেলাফত মজলিশ ১০ আসন, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের এলডিপি ৭ আসন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩ আসন, নেজামে ইসলামী ২ আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোট আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে। দলগুলো হলোÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এরপর সেই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সব মিলিয়ে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার আলোচনা চলমান অবস্থায়ই জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ছয়টি, জাগপা তিনটি এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সর্বশেষ আসন বণ্টন বা সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার পর ইসলামী আন্দোলনের সাথে যে টানাপড়েন চলছিল তা নিরসনে খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে জোটের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ১৫ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সাথে দিন ভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এরপর গতকালও খেলাফত মজলিশের আমির এবং এনসিপির আহ্বায়ক ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার শেষ চেষ্টা করেছেন। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জোট ছাড়ার বিষয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির এনজিও ও টাকার বিনিময়ে কথিত জরিপের উদ্বৃতি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে ইনসাল্ট করায়, জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইন থেকে পিছু হটায় এবং ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনের আলোকেই দেশ চালাবে ঘোষণা দেয়া ১১ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত না হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ইসলামী আদর্শের আলোকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যেখানে শুধু মুসলমানই নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার অধিকার, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে ওয়ান বক্স পলিসি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় ওয়ান বক্স পলিসি থেকে সরে প্রতারণা করেছে। ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামের অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় মুখপাত্র বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠক করে বিএনপির সাথে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্য আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে, এতে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করেনি।