ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তবে এটা ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে পয়সা নেয় তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।
তিনি বলেন, তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক না। এটা যদি সবাই গত এক বছরে যেত তাহলে আমি বলতাম যে, আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো-পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেই ছিল না।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মতি অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মতি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়াতে-তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। এটা আমরা কেন থামাতে পারি না? এটা আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত থামাতে না পারবো ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতে থাকবে।
ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা মাত্র হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা যাব। চেষ্টা করব যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৭:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তবে এটা ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে পয়সা নেয় তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।
তিনি বলেন, তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক না। এটা যদি সবাই গত এক বছরে যেত তাহলে আমি বলতাম যে, আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো-পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেই ছিল না।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মতি অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মতি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়াতে-তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। এটা আমরা কেন থামাতে পারি না? এটা আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত থামাতে না পারবো ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতে থাকবে।
ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা মাত্র হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা যাব। চেষ্টা করব যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।