ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বিগত ৩ নির্বাচনে প্রশাসন, পুলিশ, ইসি ও গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের দামে ইতিহাস, ভরি কত মোস্তাফিজ বিশ্বকাপ দলে থাকলে বাড়বে নিরাপত্তা ঝুঁকি: আইসিসির চিঠি কোটিপতি তাহেরীর স্বর্ণ ৩১ ভরি, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই কথিত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে সহিংসতা করছে: মির্জা আব্বাস ইসিতে আপিল শুনানি: তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৪১ জন বিক্ষোভকারীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চরিত্র একই ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল কার্ড দিচ্ছে সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা অবশেষে সুখবর পেলেন মেহজাবীন

ভোটের গাড়ি শুধু শহরে, গ্রামের মানুষ জানে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচার চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই প্রচার যেন নামকাওয়াস্তে। প্রচারকাজে অংশ নেওয়া ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান শুধু শহর এলাকাতেই ঘুরছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি না যাওয়ায় বেশির ভাগ ভোটার এই প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর শুরু হয় ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের প্রচার কার্যক্রম। ১০টি গাড়িতে করে ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি শেষ হবে এই কার্যক্রম।

ভোটের গাড়ির প্রচারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনেক এলাকায় যেনতেনভাবে ভোটের গাড়ির প্রচারণা চালানোর তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

গতকাল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। তিনি জানান, প্রচার কর্মসূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ১০টি ক্যারাভান মাঠে কাজ করছে। আরও ১০টি ক্যারাভান বাড়ানো হবে। সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো হবে, যার মধ্যে দুর্গম ও দ্বীপাঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভোটের গাড়ি সারা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই গাড়ি থেকে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফেলানী হত্যা, আবরার ফাহাদ হত্যা, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব ও নির্ভরশীলতার মতো ঘটনাগুলোও বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়ায় গতকাল প্রচার চালিয়েছে ভোটের গাড়ি। ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এবং গোপালগঞ্জে শহরের পৌর পার্কে ভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রচার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের অংশবিশেষও দেখানো হয়।

এসব গাড়ি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয়, গোপন ব্যালটের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হচ্ছে। সাউন্ড সিস্টেম ও ভিজুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরার সঙ্গে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে এই প্রচারণা থেকে।

গতকাল সন্ধ্যায় নোয়াখালী শহরের মাইজদীর নোয়াখালী মুক্তমঞ্চের সামনে সুপার কারাভান থেকে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। স্থানীয়রা সেখানে ভিড় করে। গাড়ির পাশে রাখা জনমত বক্সে অনেকে লিখিত মতামত দিয়েছে।

উপজেলা শহরের বাইরে গিয়ে ভোটের গাড়ির প্রচারণার সুযোগ না রাখায় সরকারের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

গত সোমবার নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা শহরে কয়েক মিনিট ভোটের গাড়ি অবস্থান করে প্রচারণা চালায়। পরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরে গিয়ে রেলস্টেশনের মাঠে কিছু সময় অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণার কাজ শেষ করে। অনেক উপজেলায় একইভাবে শহরের এক জায়গায় কয়েক মিনিট অবস্থান করে জনশূন্য মাঠে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণার কাজ সেরে দ্রুত চলে যাচ্ছে ওই গাড়ি।

নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় ভোটের গাড়ি সেখানে যায়নি। এসব এলাকায় নৌকায় করে ভোটের প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নেই।

নেত্রকোনা জেলা সদরের সিংহের বাংলা গ্রামের শহীদ মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ির নাম তো জীবনে প্রথম শুনলাম। এটা আবার কেমন?’ খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার আসাদ মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ি সম্পর্কে ধারণা নেই। আমাদের এলাকায় এমন গাড়ি দেখিনি।’ আর বারহাট্টার বাসিন্দা রুকন মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ি কখন এল, কিছুই জানি না।’

জানতে চাইলে মোহনগঞ্জের ইউএনও আমেনা খাতুন জানান, ভোটের গাড়ি হাওরপাড় বা গ্রামাঞ্চলে যাবে না। বারহাট্টার ইউএনও মোছা. জিনিয়া জামান বলেন, ভোটের গাড়ি বারহাট্টা শহরে এসেছিল। কয়েক মিনিট অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে পাশের উপজেলায় চলে গেছে। ভোরে তেমন লোকজন ছিল না।

ঝিনাইদহ জেলার সব আসনে ভোটের গাড়ি প্রচার চালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকে গণভোটকে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট বলে মনে করছে।

ভৈরবা ইউনিয়নের ভাষানপোতা গ্রামের গৃহবধূ মোছা. কাকলি খাতুন বলেন, ‘গণভোট বা হ্যাঁ-না ভোটের কথা টিভিতে দেখেছি। আবার মানুষের কাছে শুনছি, মহেশপুর শহরে ভোটের গাড়ি এসেছিল। তবে কেউ বলছে না, গণভোট মানে কী। গাড়িটা যদি আমাদের গ্রামের মধ্যে আসত, তাহলে আমরা একটু বুঝতে পারতাম।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মানুষের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ভোটের গাড়ি কালীগঞ্জ শহরে এসে প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা একদম গ্রামে বসবাস করি, তারা জানতে পারিনি।’

ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, ভোটের গাড়ি উপজেলা শহরে প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গণভোটের বিষয়টি ভালো বোঝে না বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চল আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষ। এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতেও কোনো প্রচারণা নেই। তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আব্দুল হক মৃধা বলেন, ‘মুই হ্যাঁ-না ভোড দিছি। এ্যাহন হেই ভোডের কতা ভুইল্লা গেছি। এ্যাহন যে গণভোট অইবে হেই কথাতো মুই হুনি নাই। কেউ তো মোগো ধারে এই ভোডের কথা হয় নাই।’

ভোলা সদর উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলায় ভোটের গাড়ি গেলেও জেলার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় এই গাড়ি যায়নি। ফলে সরকারি প্রচারণা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। মনপুরার ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, আসন্ন গণভোট সম্পর্কে এ এলাকার মানুষের জানা দরকার।

ভোলার ডিসি ডা. শামীম রহমান বলেন, ভোটের গাড়ি মনপুরা উপজেলা ছাড়া বাকি ছয় উপজেলায় গিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সেভাবেই পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে আজকের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন]

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম

ভোটের গাড়ি শুধু শহরে, গ্রামের মানুষ জানে না

আপডেট টাইম : ১০:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচার চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই প্রচার যেন নামকাওয়াস্তে। প্রচারকাজে অংশ নেওয়া ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান শুধু শহর এলাকাতেই ঘুরছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি না যাওয়ায় বেশির ভাগ ভোটার এই প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর শুরু হয় ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের প্রচার কার্যক্রম। ১০টি গাড়িতে করে ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি শেষ হবে এই কার্যক্রম।

ভোটের গাড়ির প্রচারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনেক এলাকায় যেনতেনভাবে ভোটের গাড়ির প্রচারণা চালানোর তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

গতকাল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। তিনি জানান, প্রচার কর্মসূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ১০টি ক্যারাভান মাঠে কাজ করছে। আরও ১০টি ক্যারাভান বাড়ানো হবে। সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো হবে, যার মধ্যে দুর্গম ও দ্বীপাঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভোটের গাড়ি সারা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই গাড়ি থেকে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফেলানী হত্যা, আবরার ফাহাদ হত্যা, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব ও নির্ভরশীলতার মতো ঘটনাগুলোও বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়ায় গতকাল প্রচার চালিয়েছে ভোটের গাড়ি। ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এবং গোপালগঞ্জে শহরের পৌর পার্কে ভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রচার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের অংশবিশেষও দেখানো হয়।

এসব গাড়ি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয়, গোপন ব্যালটের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হচ্ছে। সাউন্ড সিস্টেম ও ভিজুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরার সঙ্গে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে এই প্রচারণা থেকে।

গতকাল সন্ধ্যায় নোয়াখালী শহরের মাইজদীর নোয়াখালী মুক্তমঞ্চের সামনে সুপার কারাভান থেকে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। স্থানীয়রা সেখানে ভিড় করে। গাড়ির পাশে রাখা জনমত বক্সে অনেকে লিখিত মতামত দিয়েছে।

উপজেলা শহরের বাইরে গিয়ে ভোটের গাড়ির প্রচারণার সুযোগ না রাখায় সরকারের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

গত সোমবার নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা শহরে কয়েক মিনিট ভোটের গাড়ি অবস্থান করে প্রচারণা চালায়। পরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরে গিয়ে রেলস্টেশনের মাঠে কিছু সময় অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণার কাজ শেষ করে। অনেক উপজেলায় একইভাবে শহরের এক জায়গায় কয়েক মিনিট অবস্থান করে জনশূন্য মাঠে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণার কাজ সেরে দ্রুত চলে যাচ্ছে ওই গাড়ি।

নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় ভোটের গাড়ি সেখানে যায়নি। এসব এলাকায় নৌকায় করে ভোটের প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নেই।

নেত্রকোনা জেলা সদরের সিংহের বাংলা গ্রামের শহীদ মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ির নাম তো জীবনে প্রথম শুনলাম। এটা আবার কেমন?’ খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার আসাদ মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ি সম্পর্কে ধারণা নেই। আমাদের এলাকায় এমন গাড়ি দেখিনি।’ আর বারহাট্টার বাসিন্দা রুকন মিয়া বলেন, ‘ভোটের গাড়ি কখন এল, কিছুই জানি না।’

জানতে চাইলে মোহনগঞ্জের ইউএনও আমেনা খাতুন জানান, ভোটের গাড়ি হাওরপাড় বা গ্রামাঞ্চলে যাবে না। বারহাট্টার ইউএনও মোছা. জিনিয়া জামান বলেন, ভোটের গাড়ি বারহাট্টা শহরে এসেছিল। কয়েক মিনিট অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে পাশের উপজেলায় চলে গেছে। ভোরে তেমন লোকজন ছিল না।

ঝিনাইদহ জেলার সব আসনে ভোটের গাড়ি প্রচার চালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকে গণভোটকে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট বলে মনে করছে।

ভৈরবা ইউনিয়নের ভাষানপোতা গ্রামের গৃহবধূ মোছা. কাকলি খাতুন বলেন, ‘গণভোট বা হ্যাঁ-না ভোটের কথা টিভিতে দেখেছি। আবার মানুষের কাছে শুনছি, মহেশপুর শহরে ভোটের গাড়ি এসেছিল। তবে কেউ বলছে না, গণভোট মানে কী। গাড়িটা যদি আমাদের গ্রামের মধ্যে আসত, তাহলে আমরা একটু বুঝতে পারতাম।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মানুষের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ভোটের গাড়ি কালীগঞ্জ শহরে এসে প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা একদম গ্রামে বসবাস করি, তারা জানতে পারিনি।’

ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, ভোটের গাড়ি উপজেলা শহরে প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গণভোটের বিষয়টি ভালো বোঝে না বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চল আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষ। এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতেও কোনো প্রচারণা নেই। তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আব্দুল হক মৃধা বলেন, ‘মুই হ্যাঁ-না ভোড দিছি। এ্যাহন হেই ভোডের কতা ভুইল্লা গেছি। এ্যাহন যে গণভোট অইবে হেই কথাতো মুই হুনি নাই। কেউ তো মোগো ধারে এই ভোডের কথা হয় নাই।’

ভোলা সদর উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলায় ভোটের গাড়ি গেলেও জেলার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় এই গাড়ি যায়নি। ফলে সরকারি প্রচারণা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। মনপুরার ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, আসন্ন গণভোট সম্পর্কে এ এলাকার মানুষের জানা দরকার।

ভোলার ডিসি ডা. শামীম রহমান বলেন, ভোটের গাড়ি মনপুরা উপজেলা ছাড়া বাকি ছয় উপজেলায় গিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সেভাবেই পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে আজকের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন]