ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ জেলা ও দুই বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও কমছে শীত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩ বার

দেশের পাঁচটি জেলা ও দুটি বিভাগের ওপর দিয়ে একদিকে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ, অন্যদিকে কয়েকটি অঞ্চলে ঘন কুয়াশা কাটতে শুরু করায় শীতের দাপট কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে রাজধানীবাসী সূর্যের দেখা পায়নি। শীতের তীব্রতায় জবুথবু অবস্থা ছিল সাধারণ মানুষের। গতকাল বুধবার ভোরে তাপমাত্রা অনেক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বৃদ্ধির কারণে শীতের তীব্রতা কমে এসেছে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। একদিকে শৈত্যপ্রবাহ চললেও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ, ঢাকা মহানগর, জেলাসহ আরও কিছু এলাকায় কুয়াশার প্রকোপ কমে আসায় সূর্যের দেখা মিলেছে। ফলে এসব এলাকার শীতের অনুভূতি কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। চলতি সপ্তাহে এসব এলাকায় কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা কম, তাই শীতের অনুভূতি কমবে না। তবে নতুন বছরের শুরুতে ৩ অথবা ৪ জানুয়ারির দিকে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা এ মৌসুমে সর্বনিম্ন। যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ৮ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ভোলা ও খুলনায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, মাদারীপুর ও খেপুপাড়ায় ৯ ডিগ্রি, বরিশালে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি এবং সাতক্ষীরায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে গিয়ে সূর্য ওঠায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতি থেকে সোমবার পর্যন্ত পাঁচ দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে এ দুদিন বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশার কারণে কোথাও কোথাও শীতের অনুভূতি বিরাজ করতে পারে।

শুক্রবার রাত ও শনিবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং শনিবার রাত ও রোববার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। রবি ও সোমবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে ও মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ জেলা ও দুই বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও কমছে শীত

আপডেট টাইম : ১১:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের পাঁচটি জেলা ও দুটি বিভাগের ওপর দিয়ে একদিকে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ, অন্যদিকে কয়েকটি অঞ্চলে ঘন কুয়াশা কাটতে শুরু করায় শীতের দাপট কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে রাজধানীবাসী সূর্যের দেখা পায়নি। শীতের তীব্রতায় জবুথবু অবস্থা ছিল সাধারণ মানুষের। গতকাল বুধবার ভোরে তাপমাত্রা অনেক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বৃদ্ধির কারণে শীতের তীব্রতা কমে এসেছে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। একদিকে শৈত্যপ্রবাহ চললেও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ, ঢাকা মহানগর, জেলাসহ আরও কিছু এলাকায় কুয়াশার প্রকোপ কমে আসায় সূর্যের দেখা মিলেছে। ফলে এসব এলাকার শীতের অনুভূতি কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। চলতি সপ্তাহে এসব এলাকায় কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা কম, তাই শীতের অনুভূতি কমবে না। তবে নতুন বছরের শুরুতে ৩ অথবা ৪ জানুয়ারির দিকে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা এ মৌসুমে সর্বনিম্ন। যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ৮ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ভোলা ও খুলনায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, মাদারীপুর ও খেপুপাড়ায় ৯ ডিগ্রি, বরিশালে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি এবং সাতক্ষীরায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে গিয়ে সূর্য ওঠায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতি থেকে সোমবার পর্যন্ত পাঁচ দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে এ দুদিন বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশার কারণে কোথাও কোথাও শীতের অনুভূতি বিরাজ করতে পারে।

শুক্রবার রাত ও শনিবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং শনিবার রাত ও রোববার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। রবি ও সোমবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে ও মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।