ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

যে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ বার

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা বিএনপির এই চেয়ারপার্সনের রাষ্ট্রপরিচালনার তিনটি অধ্যায় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। পরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি।

১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তার এই মেয়াদের অন্যতম সাফল্য ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১-এ তিনি দ্বাদশ সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসে।

দ্বিতীয় মেয়াদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬)

বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদটি ছিল খুবই স্বল্পস্থায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

তবে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে এই সংসদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। এই মেয়াদে তিনি মাত্র ১২ দিন (১৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ) দায়িত্ব পালন করেন।

তৃতীয় মেয়াদ (২০০১-২০০৬)

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনে জোটগতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসন লাভ করে।

২০০১ সালের ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই মেয়াদে তিনি পূর্ণাঙ্গ ৫ বছর দেশ পরিচালনা করেন এবং ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারি ও জুন, ২০০১ এবং ২০০৮) তিন থেকে পাঁচটি করে আলাদা আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সব আসনে জেতেন। এবং তিনি কখনো কোনো আসনে হারেননি; যা দেশের ইতিহাসে একটি বিরল রেকর্ড।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

যে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা বিএনপির এই চেয়ারপার্সনের রাষ্ট্রপরিচালনার তিনটি অধ্যায় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। পরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি।

১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তার এই মেয়াদের অন্যতম সাফল্য ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১-এ তিনি দ্বাদশ সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসে।

দ্বিতীয় মেয়াদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬)

বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদটি ছিল খুবই স্বল্পস্থায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

তবে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে এই সংসদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। এই মেয়াদে তিনি মাত্র ১২ দিন (১৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ) দায়িত্ব পালন করেন।

তৃতীয় মেয়াদ (২০০১-২০০৬)

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনে জোটগতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসন লাভ করে।

২০০১ সালের ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই মেয়াদে তিনি পূর্ণাঙ্গ ৫ বছর দেশ পরিচালনা করেন এবং ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারি ও জুন, ২০০১ এবং ২০০৮) তিন থেকে পাঁচটি করে আলাদা আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সব আসনে জেতেন। এবং তিনি কখনো কোনো আসনে হারেননি; যা দেশের ইতিহাসে একটি বিরল রেকর্ড।