ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক যুগে যুগে ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম প্রতিনিধি ফিরে দেখা ২০২৫ – বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়ে কাঁদলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেসির সঙ্গে দেখা করবেন বলিউড বাদশাহ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে : জামায়াত আমির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে : সেনাপ্রধান পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গেল কয়েকমাসে অন্তত ৮০ জনকে দেশের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করিয়েছে মিশরে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি বিচারক

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার
গুমের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ ডিসেম্বর) এই অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ বিবেচিত হবে জামিন ও আপস অযোগ্য হিসেবে।

গুমের আদেশ বা অনুমতি দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে।অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি বিষয়টি অস্বীকার করেন বা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখেন এবং এ কারণে ওই ব্যক্তি যদি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে একে গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

গুমের সাজার ধারায় আরো বলা হয়, গুম হওয়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরেও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এ অধ্যাদেশের অধীনে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ গোপন, বিকৃত বা নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো অজুহাত এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলেও তিনি মূল অপরাধের সমান দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন।

অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার সম্পন্ন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই অধ্যাদেশকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে জানান, গুম নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

শফিকুল আলম আরো জানান, গুম কমিশনে প্রায় দুই হাজার অভিযোগ এসেছে। তবে গুমের সংখ্যা চার হাজারের মতো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

আপডেট টাইম : ১১:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
গুমের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ ডিসেম্বর) এই অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ বিবেচিত হবে জামিন ও আপস অযোগ্য হিসেবে।

গুমের আদেশ বা অনুমতি দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে।অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি বিষয়টি অস্বীকার করেন বা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখেন এবং এ কারণে ওই ব্যক্তি যদি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে একে গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

গুমের সাজার ধারায় আরো বলা হয়, গুম হওয়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরেও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এ অধ্যাদেশের অধীনে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ গোপন, বিকৃত বা নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো অজুহাত এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলেও তিনি মূল অপরাধের সমান দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন।

অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার সম্পন্ন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই অধ্যাদেশকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে জানান, গুম নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

শফিকুল আলম আরো জানান, গুম কমিশনে প্রায় দুই হাজার অভিযোগ এসেছে। তবে গুমের সংখ্যা চার হাজারের মতো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।