কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আরিফ খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে—দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্তৃত্বের অপব্যবহার, নিয়োগ–বিধি লঙ্ঘন, শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।
অবৈধ নিয়োগ–বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ:
অভিযোগে জানা যায়, ২০১০ সালের ২ জুন তিনি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ১ জুন ২০১০ তারিখে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।
তবে নিয়োগ–বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) সৈয়দা নাসিমা আক্তার হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত উক্ত নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায় পাওয়ার প্রায় ১১ মাস পর তিনি আবার প্রভাষকের মূল পদে ফিরে যান এবং মাঝের সময়ের বেতন–ভাতাও উত্তোলন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
শিক্ষক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার:
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের প্রভাষক পিয়াল হককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জোরপূর্বক কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পিয়াল হক পদত্যাগ না করায় তখন অধ্যক্ষের পদ শূন্য ছিল না বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
এছাড়া মোস্তফা আরিফ নিয়োগ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান পাওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে প্রভাষক পদে নিয়োগ নেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপবৃত্তির টাকা ও আর্থিক অনিয়ম:
২০২০–২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বেনামি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএ (পাস) কোর্সের শিক্ষার্থীদের অপবৃত্তির পুরো অর্থও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তোলা হয়েছে।
বরখাস্তের মাধ্যমে হয়রানি ও আইনি জটিলতা:
২০১০ সাল থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রভাষক শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত রেখে কলেজ ফান্ড থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয়ে মামলা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। জেলা আদালত ও হাইকোর্ট শফিকুল ইসলামের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তাকে কলেজে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাজীব রায়, শ্যামল চন্দ্র রায়, দাহসিনা নওরিনসহ কয়েকজন শিক্ষককে ব্যক্তিগত আক্রোশে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন:
কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক–কর্মচারীর দাবি—অধ্যক্ষ প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কর্মস্থলে উপস্থিত হন, যা শিক্ষার পরিবেশকে বিঘ্নিত করে। তার আচরণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি মামলা:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর অষ্টগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া দুটি বিস্ফোরক মামলায় মোস্তফা আরিফকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি:
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোস্তফা আরিফ খানের ব্যক্তিগত মন্তব্য বা বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।
Reporter Name 

























