ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

তরুণীদের পাচার, চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ১০৬ বার
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রির অভিযোগে চার সদস্যের একটি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৪। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।
সম্প্রতি চীন থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণীর মামলার ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চক্রের মূলহোতা আব্বাস মোল্লা (৩৬), জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩১), মিনার সরদার (৩০) ও মোহাম্মদ রিপন শেখ (২৮)।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, ভুক্তভোগী তরুণী পিরোজপুরের একটি বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। এ বছরের মার্চে ফেসবুকে চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে বাবু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে বাবুর পরামর্শে তার বোনসহ ঢাকায় আসেন। চক্রের সদস্যরা তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার কাজ সম্পন্ন করে ১৩ জুন চীনে পাঠায়। তবে, সেখানে গিয়ে তাদের বিউটি পার্লারে চাকরি না দিয়ে জোরপূর্বক যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয় চক্রটি।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী জানান- চক্রের সদস্যরা অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। পরে কৌশলে পালিয়ে তিনি দেশে ফেরেন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মাহবুব আলম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ছায়াতদন্ত শুরু করি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা স্বীকার করেছে, তারা প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চীনে পাচার করে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, চক্রটি পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও ভিসা প্রসেসিংয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে নথিপত্র তৈরি করত। আমাদের কাছে তথ্য আছে, চক্রটি অন্তত ২০ জন নারীকে চীনে পাচার করেছে। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গ্রেফতার চারজন ছাড়াও দেশের আরও কয়েকজন এবং কিছু চীনা নাগরিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

তরুণীদের পাচার, চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ১১:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রির অভিযোগে চার সদস্যের একটি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৪। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।
সম্প্রতি চীন থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণীর মামলার ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চক্রের মূলহোতা আব্বাস মোল্লা (৩৬), জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩১), মিনার সরদার (৩০) ও মোহাম্মদ রিপন শেখ (২৮)।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, ভুক্তভোগী তরুণী পিরোজপুরের একটি বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। এ বছরের মার্চে ফেসবুকে চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে বাবু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে বাবুর পরামর্শে তার বোনসহ ঢাকায় আসেন। চক্রের সদস্যরা তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার কাজ সম্পন্ন করে ১৩ জুন চীনে পাঠায়। তবে, সেখানে গিয়ে তাদের বিউটি পার্লারে চাকরি না দিয়ে জোরপূর্বক যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয় চক্রটি।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী জানান- চক্রের সদস্যরা অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। পরে কৌশলে পালিয়ে তিনি দেশে ফেরেন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মাহবুব আলম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ছায়াতদন্ত শুরু করি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা স্বীকার করেছে, তারা প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চীনে পাচার করে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, চক্রটি পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও ভিসা প্রসেসিংয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে নথিপত্র তৈরি করত। আমাদের কাছে তথ্য আছে, চক্রটি অন্তত ২০ জন নারীকে চীনে পাচার করেছে। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গ্রেফতার চারজন ছাড়াও দেশের আরও কয়েকজন এবং কিছু চীনা নাগরিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।