ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে কৌশলে কুমিল্লার ৬টি আসনে চমক দেখাতে চায় জামায়াত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ বার

কুমিল্লায় জামায়াতের টার্গেট ছয়টি সংসদীয় আসনে। ভোটের মিশনে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ মনে করেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে। তাই তাদের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে।

জেলার ১১টি আসনে প্রার্থীরা গণসংযোগ চালিয়ে গেলেও ৬টি নির্বাচনি এলাকায় দল এবং প্রার্থীদেরকে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, টার্গেট আসনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৃথক ৫-৬টি করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি গ্রামের অভ্যন্তরে ইউনিট এবং পাড়া কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এরই মাঝে জামায়াত এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদ পতনের পর জামায়াতে ইসলামী গত এক বছরে কুমিল্লায় তাদের সংগঠনকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। শোডাউন এবং সভা সমাবেশ এড়িয়ে দলটি সাংগঠনিক কাঠামো সুদৃঢ় করেছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলমান রয়েছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরমধ্যে ডাকসু, জাকসুসহ কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এ জেলার নেতাকর্মীরা আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় ৬টি সংসদীয় আসনে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দলটি। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগরে দলের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বারে সাইফুল ইসলাম শহীদ, কুমিল্লা-সদর-সদর দক্ষিণে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জে ডক্টর সৈয়দ একেএম সরোয়ার সিদ্দিকী, কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট-লালমাই আসনে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত এবং কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে জোড়ালো মিশন পরিচালনা করছে দলটি।

এই ৬টি আসনে চমক দেখাতে চায় জামায়াত। এ ছয়টি সংসদীয় আসনে দলের নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এসব সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মহিলা, স্বেচ্ছাসেবী এবং ওলামা ইউনিট ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে এবং দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছে।

এদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সম্মেলন, কমিটি গঠন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। আর জামায়াতের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ব্যস্ত ভোটারদের মন জয় করতে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রচার এবং মিডিয়া সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, জেলার ৬টি সংসদীয় আসন আমাদের টার্গেটে রয়েছে। এসব সংসদীয় আসনে সংগঠন হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে। ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। এতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ভোটাররাও এসব প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ বলেন, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে। তাই আমাদের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬টি সংসদীয় আসনে সংগঠন এখন অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে এসব আসনে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কৌশলে কুমিল্লার ৬টি আসনে চমক দেখাতে চায় জামায়াত

আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুমিল্লায় জামায়াতের টার্গেট ছয়টি সংসদীয় আসনে। ভোটের মিশনে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ মনে করেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে। তাই তাদের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে।

জেলার ১১টি আসনে প্রার্থীরা গণসংযোগ চালিয়ে গেলেও ৬টি নির্বাচনি এলাকায় দল এবং প্রার্থীদেরকে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, টার্গেট আসনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৃথক ৫-৬টি করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি গ্রামের অভ্যন্তরে ইউনিট এবং পাড়া কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এরই মাঝে জামায়াত এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদ পতনের পর জামায়াতে ইসলামী গত এক বছরে কুমিল্লায় তাদের সংগঠনকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। শোডাউন এবং সভা সমাবেশ এড়িয়ে দলটি সাংগঠনিক কাঠামো সুদৃঢ় করেছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলমান রয়েছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরমধ্যে ডাকসু, জাকসুসহ কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এ জেলার নেতাকর্মীরা আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় ৬টি সংসদীয় আসনে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দলটি। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগরে দলের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বারে সাইফুল ইসলাম শহীদ, কুমিল্লা-সদর-সদর দক্ষিণে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জে ডক্টর সৈয়দ একেএম সরোয়ার সিদ্দিকী, কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট-লালমাই আসনে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত এবং কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে জোড়ালো মিশন পরিচালনা করছে দলটি।

এই ৬টি আসনে চমক দেখাতে চায় জামায়াত। এ ছয়টি সংসদীয় আসনে দলের নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এসব সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মহিলা, স্বেচ্ছাসেবী এবং ওলামা ইউনিট ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে এবং দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছে।

এদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সম্মেলন, কমিটি গঠন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। আর জামায়াতের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ব্যস্ত ভোটারদের মন জয় করতে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রচার এবং মিডিয়া সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, জেলার ৬টি সংসদীয় আসন আমাদের টার্গেটে রয়েছে। এসব সংসদীয় আসনে সংগঠন হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে। ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। এতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ভোটাররাও এসব প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ বলেন, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে। তাই আমাদের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬টি সংসদীয় আসনে সংগঠন এখন অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে এসব আসনে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।