ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে বিএনপির সম্মেলনে তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৮ বার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সকলে প্রত্যাশা করছি, বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে। বিগত ১৬ বছর ধরে মানুষের যে অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে এসেছে, বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, বিগত ১৬ বছর ধরে যে স্বৈরাচার এ দেশের মানুষে টুঁটি চেপে ধরেছিলো, সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে ঐক্যবদ্ধভাবে। মানুষ নিজের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবার জন্য। স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন যে সংস্কারগুলো প্রস্তাব দিয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ প্রস্তাবনা বিএনপি আরো আড়াই বছর আগে দেশের সামনে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করেছে, বিএনপি তার মতামত দিয়েছে, কোনো কোনো বিষয় হয়তো অন্যান্য কারো সাথে আমাদের মতপার্থক্য আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রশ্নে বিএনপির কারো সাথে কোনো আপত্তি নেই, দ্বিমত নেই।

গতকাল শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এ কাজগুলো করতে চায় এবং কাজগুলো যদি করতে হয়, দেশের ভবিষ্যত সন্তান আজ যারা শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যারা, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যা করা প্রয়োজন, দেশের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নারীদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য যা প্রয়োজন, দেশের কিশোর যুবক যেকোনো মানুষ যার এই মুহূর্তে কর্মসংস্থান নেই, সেটি দেশে হোক, সেটি বিদেশে হোক, তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে তাকে স্কিলড একজন শ্রমিক হিসাবে গড়ে তুলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ছোট ছোট উদ্যোক্তা যারা তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সেই উদ্যোগকে সফল করা। কৃষকের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, কৃষককে সঠিক সময় তার সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। মানুষের চিকিৎসা জন্মগত অধিকার। সেই অধিকার গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে শহরের মানুষ প্রত্যেকে যাতে সেই সুবিধা পায়। এ কাজগুলোকে যদি আমাদের সম্পাদন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই জনগণের রায়, জনগণের রায়ে, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে, জনগণের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনটি হবে, এ নির্বাচনে যদি আমাদের যে ৩১ দফা এ কথাগুলো যা সংক্ষেপে আপনাদের সামনে মাত্র তুলে ধরলাম। এগুলোর পক্ষে যদি জনগণের রায় নিয়ে আসতে হয়, তাহলে আজকে এখানে যারা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উপস্থিত আছেন, এক কথায় ধানের শীষের যে মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষ যে কয়জন নেতাকর্মী আজও বেঁচে আছে, আজও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, আমাদের সামনে একটি লক্ষ্য থাকতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।তারেক রহমান বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে, স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার কয়েকদিন পরে আমি জেলা-থানাসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে ভাগে ভাগে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকেই সেদিন সেই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

সেই মিটিংয়ে আমি একটি কথা বলেছিলাম যে, স্বৈরাচার তো বিদায় হয়ে গিয়েছে, পালিয়ে গিয়েছে, কিন্তু অদৃশ্য শক্তি ধীরে ধীরে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। মনে আছে আপনাদের এ কথাটি আমি বিভিন্ন সময়ে বলেছি আজকে থেকে প্রায় এক বছর আগে, আপনারা বহু মানুষ সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আজ আমার এক বছর আগের কথা কিন্তু ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আজকে যদি দেশের স্বার্থের কথা আমরা বিবেচনা করি, দেশের মানুষের অধিকারকে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়ন উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করে গিয়েছিলেন, যে রাজনীতি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নারী শিক্ষাসহ গণতন্ত্রের যে অগ্রযাত্রা শুরু করে গিয়েছিলেন, সেই অগ্রযাত্রাকে উন্নয়নে এবং শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে যদি ধরে রাখতে হয়, যদি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, আমাদের আর আজকে বসে থাকার সময় নেই।

বিএনপির প্রতিটা নেতাকর্মীকে আজ যেকোনো মূল্যে আমি জানি বিশাল দল আমাদের, স্বৈরাচারের আমলে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি নেতাকর্মীর নামে মিথ্যে মামলাই ছিলো আমাদের দলে, পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেই দেশের টোটাল জনসংখ্যাও এর থেকে কম। এত সংখ্যক নেতাকর্মী আমাদের। থাকতেই পারে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিভিন্ন মতামত, থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের যখন একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে যাবে, আমাদের কাজ হচ্ছে দলের সিদ্ধান্তের পিছে এসে দাঁড়ানো। কারণ আপনারা ধানের শীষের কর্মী, জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মী আপনারা। কাজেই জাতীয়তাবাদী শক্তি ধানের শীষের পক্ষ থেকে যখন একটি সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, যারা আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করি, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হবে সেই সিদ্ধান্তকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা। আজকের যেমন আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সম্মেলনকে সফল করলেন, আমরা যদি আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রত্যেকটি নেতাকর্মী এ রকম ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, আজ যেমন একটি সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ইন শা আল্লাহ আমরা একটি সফল জনরায় আমাদের পক্ষে আনতে সক্ষম হবো

সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ৪৭ বছরের পুরোনো একটি দল। এ বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই কথাগুলো বলা এই জন্যই, আজকের প্রজন্মের জানা উচিত, কি অবস্থার প্রেক্ষিতে বিএনপির জন্ম হয়েছিলো? ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম, আমাদের লক্ষ লক্ষ ভাই শহীদ হয়ে গিয়েছিলো স্বাধীনতার জন্যে, আমাদের অজস্র মা-বোন তাদের শ্লীলতাহানি হয়েছিলো। সেই সময়ে স্বপ্ন ছিলো শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। স্বপ্ন ছিলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। স্বপ্ন ছিলো একটা আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য শহীদ জিয়া এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এদেশে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো, লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিলো, লঙ্গরখানায় এক টুকরো রুটির জন্য তারা কাড়াকাড়ি করতো কুকুরের মতো। সে সময় রংপুরের বাসন্তী তার লজ্জা নিবারণ করার জন্য এক টুকরো কাপড় পায়নি, মাছের জাল দিয়ে লজ্জা নিবারণ করেছিলো। এ অবস্থা থেকে পটপরিবর্তনের পরে পরেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের যে গণতন্ত্রের কথা আমরা বলছি, অনেকে বলছে, সেই গণতন্ত্রকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে, বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি নির্বাচন দিয়েছিলেন, জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এ মিডিয়া অর্থাৎ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার আগে শেখ মুজিবের আমল সমস্ত পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রেখেছিলেন। এই কথাটা বলা দরকার, আপনাদের জানা দরকার, বিশেষ করে তরুণদেরকে বলছি। এ স্বাধীনতা পাওয়ার পরে শহীদ জিয়া ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সময়ে কৃর্ষিতে বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন, খাল কাটা কর্মসূচি, উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং কৃষকদের মাঝে মাইলের পর মাইল হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গঞ্জে-খামারে গিয়ে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, আরো বেশি করে ফসল ফলানোর জন্য। যার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিলো, বাংলাদেশ বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো। যে বাংলাদেশকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন, সেই বাংলাদেশকে তিনি একটি সম্ভাবনার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তখন তার এই কাজ দেখে বিশে^র যে সমস্ত প্রচারক ছিলেন, যারা বই লিখতেন, তারা বললেন, শহীদ জিয়া না থাকলে এ দেশটা আফগানিস্তান বা লাইবেরিয়ায় পরিণত হতো, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। সেই শহীদ জিয়ার দল আমরা। তিনি নারীদের উন্নতির জন্য মহিলা অধিদফতর করেছিলেন। শহীদ জিয়া সেই ব্যক্তি স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা একটা আলাদা মন্ত্রণালয় করেছিলেন। আজকে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। অপপ্রচার করা হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এ যে ৪৭ বছর বাংলাদেশে যা কিছু ভালো, তার সব কিছু দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জকে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। ডিসি, এসপি, ওসি, এমন কোন কর্মকর্তা ছিলো না, বাছাই করে কিশোরগঞ্জে দেয়া হতো। যাতে এখানে বিরোধীরা কোন আন্দোলন করতে না পারে। তারপরেও আন্দোলন হয়েছে। এখন সময় হয়েছে আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার। কিশোরগঞ্জের সবকটি আসন তারেক রহমানের হাতে আমরা উপহার দিতে পারব। এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য দলে ঐক্য থাকতে হবে।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশে যে নির্বাচনী ব্যবস্থা এনেছিলাম, সেই টোটাল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শেখ হাসিনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। এই জন্যে হলেও উনার কমপক্ষে এক হাজার বছরের সাজা হওয়া উচিত।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ, সদস্য লায়লা বেগম ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। জেলার নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, রুহুল হোসাইন, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম দুলাল, ইসমাইল হোসেন মধু ও রুহুল আমিন আকিল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মবিন, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন ও অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইসরাইল মিঞা ও আমিনুল ইসলাম আশফাক এবং অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের মধ্যে জেলা গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোখলেছুর রহমান উজ্জ্বল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক মো. ইকরাম হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলা এবং ৮টি পৌর শাখার নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সম্মেলনস্থল এলাকা। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তারা সম্মেলনে অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

কিশোরগঞ্জে বিএনপির সম্মেলনে তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

আপডেট টাইম : ১২:১৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সকলে প্রত্যাশা করছি, বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে। বিগত ১৬ বছর ধরে মানুষের যে অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে এসেছে, বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, বিগত ১৬ বছর ধরে যে স্বৈরাচার এ দেশের মানুষে টুঁটি চেপে ধরেছিলো, সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে ঐক্যবদ্ধভাবে। মানুষ নিজের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবার জন্য। স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন যে সংস্কারগুলো প্রস্তাব দিয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ প্রস্তাবনা বিএনপি আরো আড়াই বছর আগে দেশের সামনে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করেছে, বিএনপি তার মতামত দিয়েছে, কোনো কোনো বিষয় হয়তো অন্যান্য কারো সাথে আমাদের মতপার্থক্য আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রশ্নে বিএনপির কারো সাথে কোনো আপত্তি নেই, দ্বিমত নেই।

গতকাল শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এ কাজগুলো করতে চায় এবং কাজগুলো যদি করতে হয়, দেশের ভবিষ্যত সন্তান আজ যারা শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যারা, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যা করা প্রয়োজন, দেশের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নারীদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য যা প্রয়োজন, দেশের কিশোর যুবক যেকোনো মানুষ যার এই মুহূর্তে কর্মসংস্থান নেই, সেটি দেশে হোক, সেটি বিদেশে হোক, তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে তাকে স্কিলড একজন শ্রমিক হিসাবে গড়ে তুলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ছোট ছোট উদ্যোক্তা যারা তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সেই উদ্যোগকে সফল করা। কৃষকের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, কৃষককে সঠিক সময় তার সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। মানুষের চিকিৎসা জন্মগত অধিকার। সেই অধিকার গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে শহরের মানুষ প্রত্যেকে যাতে সেই সুবিধা পায়। এ কাজগুলোকে যদি আমাদের সম্পাদন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই জনগণের রায়, জনগণের রায়ে, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে, জনগণের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনটি হবে, এ নির্বাচনে যদি আমাদের যে ৩১ দফা এ কথাগুলো যা সংক্ষেপে আপনাদের সামনে মাত্র তুলে ধরলাম। এগুলোর পক্ষে যদি জনগণের রায় নিয়ে আসতে হয়, তাহলে আজকে এখানে যারা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উপস্থিত আছেন, এক কথায় ধানের শীষের যে মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষ যে কয়জন নেতাকর্মী আজও বেঁচে আছে, আজও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, আমাদের সামনে একটি লক্ষ্য থাকতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।তারেক রহমান বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে, স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার কয়েকদিন পরে আমি জেলা-থানাসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে ভাগে ভাগে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকেই সেদিন সেই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

সেই মিটিংয়ে আমি একটি কথা বলেছিলাম যে, স্বৈরাচার তো বিদায় হয়ে গিয়েছে, পালিয়ে গিয়েছে, কিন্তু অদৃশ্য শক্তি ধীরে ধীরে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। মনে আছে আপনাদের এ কথাটি আমি বিভিন্ন সময়ে বলেছি আজকে থেকে প্রায় এক বছর আগে, আপনারা বহু মানুষ সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আজ আমার এক বছর আগের কথা কিন্তু ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আজকে যদি দেশের স্বার্থের কথা আমরা বিবেচনা করি, দেশের মানুষের অধিকারকে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়ন উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করে গিয়েছিলেন, যে রাজনীতি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নারী শিক্ষাসহ গণতন্ত্রের যে অগ্রযাত্রা শুরু করে গিয়েছিলেন, সেই অগ্রযাত্রাকে উন্নয়নে এবং শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে যদি ধরে রাখতে হয়, যদি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, আমাদের আর আজকে বসে থাকার সময় নেই।

বিএনপির প্রতিটা নেতাকর্মীকে আজ যেকোনো মূল্যে আমি জানি বিশাল দল আমাদের, স্বৈরাচারের আমলে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি নেতাকর্মীর নামে মিথ্যে মামলাই ছিলো আমাদের দলে, পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেই দেশের টোটাল জনসংখ্যাও এর থেকে কম। এত সংখ্যক নেতাকর্মী আমাদের। থাকতেই পারে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিভিন্ন মতামত, থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের যখন একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে যাবে, আমাদের কাজ হচ্ছে দলের সিদ্ধান্তের পিছে এসে দাঁড়ানো। কারণ আপনারা ধানের শীষের কর্মী, জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মী আপনারা। কাজেই জাতীয়তাবাদী শক্তি ধানের শীষের পক্ষ থেকে যখন একটি সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, যারা আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করি, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হবে সেই সিদ্ধান্তকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা। আজকের যেমন আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সম্মেলনকে সফল করলেন, আমরা যদি আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রত্যেকটি নেতাকর্মী এ রকম ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, আজ যেমন একটি সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ইন শা আল্লাহ আমরা একটি সফল জনরায় আমাদের পক্ষে আনতে সক্ষম হবো

সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ৪৭ বছরের পুরোনো একটি দল। এ বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই কথাগুলো বলা এই জন্যই, আজকের প্রজন্মের জানা উচিত, কি অবস্থার প্রেক্ষিতে বিএনপির জন্ম হয়েছিলো? ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম, আমাদের লক্ষ লক্ষ ভাই শহীদ হয়ে গিয়েছিলো স্বাধীনতার জন্যে, আমাদের অজস্র মা-বোন তাদের শ্লীলতাহানি হয়েছিলো। সেই সময়ে স্বপ্ন ছিলো শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। স্বপ্ন ছিলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। স্বপ্ন ছিলো একটা আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য শহীদ জিয়া এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এদেশে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো, লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিলো, লঙ্গরখানায় এক টুকরো রুটির জন্য তারা কাড়াকাড়ি করতো কুকুরের মতো। সে সময় রংপুরের বাসন্তী তার লজ্জা নিবারণ করার জন্য এক টুকরো কাপড় পায়নি, মাছের জাল দিয়ে লজ্জা নিবারণ করেছিলো। এ অবস্থা থেকে পটপরিবর্তনের পরে পরেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের যে গণতন্ত্রের কথা আমরা বলছি, অনেকে বলছে, সেই গণতন্ত্রকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে, বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি নির্বাচন দিয়েছিলেন, জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এ মিডিয়া অর্থাৎ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার আগে শেখ মুজিবের আমল সমস্ত পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রেখেছিলেন। এই কথাটা বলা দরকার, আপনাদের জানা দরকার, বিশেষ করে তরুণদেরকে বলছি। এ স্বাধীনতা পাওয়ার পরে শহীদ জিয়া ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সময়ে কৃর্ষিতে বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন, খাল কাটা কর্মসূচি, উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং কৃষকদের মাঝে মাইলের পর মাইল হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গঞ্জে-খামারে গিয়ে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, আরো বেশি করে ফসল ফলানোর জন্য। যার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিলো, বাংলাদেশ বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো। যে বাংলাদেশকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন, সেই বাংলাদেশকে তিনি একটি সম্ভাবনার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তখন তার এই কাজ দেখে বিশে^র যে সমস্ত প্রচারক ছিলেন, যারা বই লিখতেন, তারা বললেন, শহীদ জিয়া না থাকলে এ দেশটা আফগানিস্তান বা লাইবেরিয়ায় পরিণত হতো, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। সেই শহীদ জিয়ার দল আমরা। তিনি নারীদের উন্নতির জন্য মহিলা অধিদফতর করেছিলেন। শহীদ জিয়া সেই ব্যক্তি স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা একটা আলাদা মন্ত্রণালয় করেছিলেন। আজকে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। অপপ্রচার করা হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এ যে ৪৭ বছর বাংলাদেশে যা কিছু ভালো, তার সব কিছু দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জকে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। ডিসি, এসপি, ওসি, এমন কোন কর্মকর্তা ছিলো না, বাছাই করে কিশোরগঞ্জে দেয়া হতো। যাতে এখানে বিরোধীরা কোন আন্দোলন করতে না পারে। তারপরেও আন্দোলন হয়েছে। এখন সময় হয়েছে আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার। কিশোরগঞ্জের সবকটি আসন তারেক রহমানের হাতে আমরা উপহার দিতে পারব। এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য দলে ঐক্য থাকতে হবে।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশে যে নির্বাচনী ব্যবস্থা এনেছিলাম, সেই টোটাল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শেখ হাসিনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। এই জন্যে হলেও উনার কমপক্ষে এক হাজার বছরের সাজা হওয়া উচিত।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ, সদস্য লায়লা বেগম ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। জেলার নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, রুহুল হোসাইন, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম দুলাল, ইসমাইল হোসেন মধু ও রুহুল আমিন আকিল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মবিন, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন ও অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইসরাইল মিঞা ও আমিনুল ইসলাম আশফাক এবং অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের মধ্যে জেলা গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোখলেছুর রহমান উজ্জ্বল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক মো. ইকরাম হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলা এবং ৮টি পৌর শাখার নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সম্মেলনস্থল এলাকা। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তারা সম্মেলনে অংশ নেন।