ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৯২ বার

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখের জারি করা অফিস আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চল ঢাকায় কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (স্ব-বেতনে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোছা. সালমা খাতুনকে পদ থেকে বদলি করে লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সকল কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু এই কর্মকর্তা নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো আগের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন এবং বদলি বাতিলের লক্ষ্যে একাধিক কর্মকর্তার কাছে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে ।

উল্লেখ আছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগদানের জন্য পরিপত্রে বলা হলেও, সালমা খাতুন আদেশ অমান্য করে ঢাকা শিক্ষা ভবনের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তার কাছে তদবির ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাকে বিভিন্ন অনিয় অভিযোগের কারণে বদলি করা হয়েছে। “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এরপরও সালমা খাতুন সরকারি আদেশকে উপেক্ষা করে দফায় দফায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চল ঢাকার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অভিযোগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (স্ব-বেতনে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর) সালমা খাতুনের দাপট এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, বিগত সরকারের আমলে সালমা খাতুন নিজেকে আওয়ামী লীগের সদস্য ও পরিবারের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া তিনি বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন হুমকি-দমকি দিয়ে শিক্ষক সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তিনি পাবনা-২ আসনের এমপি ফিরোজ কবিরের আত্মীয় বলে দাবি করেন।

শিক্ষকরা আরও জানিয়েছেন, সালমা খাতুন  দ্বারা এসিএরের নম্বর অর্থের বিনিময়ে কেনা, শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা, নানা ধরনের অসদাচরণসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। তারা দ্রুত এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শিক্ষকরা সালমা খাতুনের দাপটে দফতরের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে এবং তিনি অন্যায় উপায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষাঙ্গনে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয়ের অপব্যবহার করে আসছেন। এর আগেও তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বিএনপি’র সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং বিএনপি নেতা হাবিবের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উপর নানা ধরনের হুমকি-দমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।

শিক্ষক ও কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ প্রকাশ করে  জানান, সালমা খাতুন অফিসে এসি আর নম্বর বিক্রি, মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা, দলগত প্রভাবশালী আচরণসহ অসংখ্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদবির করে নিজ ক্ষমতা রক্ষার চেষ্টা করছেন। এসব কারণে শিক্ষক সমাজ কঠিন অবস্থায় পড়েছে।

এমনকি শিক্ষকদের দাবি, সালমা বেগমের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষা বিভাগের সুনামের ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রুত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

শিক্ষকবৃন্দ উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনসহ দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

Tag :
About Author Information

Haor Barta24

আপডেট টাইম : ০২:০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখের জারি করা অফিস আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চল ঢাকায় কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (স্ব-বেতনে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোছা. সালমা খাতুনকে পদ থেকে বদলি করে লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সকল কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু এই কর্মকর্তা নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো আগের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন এবং বদলি বাতিলের লক্ষ্যে একাধিক কর্মকর্তার কাছে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে ।

উল্লেখ আছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগদানের জন্য পরিপত্রে বলা হলেও, সালমা খাতুন আদেশ অমান্য করে ঢাকা শিক্ষা ভবনের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তার কাছে তদবির ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাকে বিভিন্ন অনিয় অভিযোগের কারণে বদলি করা হয়েছে। “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এরপরও সালমা খাতুন সরকারি আদেশকে উপেক্ষা করে দফায় দফায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চল ঢাকার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অভিযোগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (স্ব-বেতনে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর) সালমা খাতুনের দাপট এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, বিগত সরকারের আমলে সালমা খাতুন নিজেকে আওয়ামী লীগের সদস্য ও পরিবারের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া তিনি বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন হুমকি-দমকি দিয়ে শিক্ষক সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তিনি পাবনা-২ আসনের এমপি ফিরোজ কবিরের আত্মীয় বলে দাবি করেন।

শিক্ষকরা আরও জানিয়েছেন, সালমা খাতুন  দ্বারা এসিএরের নম্বর অর্থের বিনিময়ে কেনা, শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা, নানা ধরনের অসদাচরণসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। তারা দ্রুত এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শিক্ষকরা সালমা খাতুনের দাপটে দফতরের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে এবং তিনি অন্যায় উপায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষাঙ্গনে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয়ের অপব্যবহার করে আসছেন। এর আগেও তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বিএনপি’র সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং বিএনপি নেতা হাবিবের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উপর নানা ধরনের হুমকি-দমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।

শিক্ষক ও কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ প্রকাশ করে  জানান, সালমা খাতুন অফিসে এসি আর নম্বর বিক্রি, মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা, দলগত প্রভাবশালী আচরণসহ অসংখ্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদবির করে নিজ ক্ষমতা রক্ষার চেষ্টা করছেন। এসব কারণে শিক্ষক সমাজ কঠিন অবস্থায় পড়েছে।

এমনকি শিক্ষকদের দাবি, সালমা বেগমের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষা বিভাগের সুনামের ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রুত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

শিক্ষকবৃন্দ উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনসহ দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।