ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনভর উৎসবমুখর আয়োজন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৯৬ বার

বহুলপ্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকাল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই শহীদপরিবারের প্রতিনিধি এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনভর থাকছে উৎসবমুখর নানা আয়োজন। অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। নানা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিকালে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সবশেষ আয়োজন হিসাবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেল-এর গান। এই দিবস উদ্যাপনে দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ সবাইকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে। ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সূত্রমতে, সব দল এ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠাবে। তবে ঘোষণাপত্রের খসড়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের ইতিহাস যুক্ত করার জন্য সংশোধনী দিয়েছিল বিএনপি। এটি না থাকলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর প্রতিক্রিয়া জানাবে দলটি।

জানা যায়, ঘোষণাপত্রে রয়েছে ২৬টি দফা। প্রথম ২১ দফায় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের মানুষের অতীতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একটি দফায় বলা হয়েছে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।

তবে ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের কথা উল্লেখ না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়ায় সংশোধনী দিয়ে এদিনকে সঠিকভাবে উল্লেখ করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দুদফায় অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে জুলাই ঘোষণাপত্র সংবলিত যে খসড়া দিয়েছে তাতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চকে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা বলেছি, এই জাতির শুরুই হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। তাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবে ২৬ মার্চকে উপস্থাপন করতে চাননি, এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বিএনপি। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি চতুর্থ তফশিলের মাধ্যমে দেওয়া হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে বিএনপি যে সংশোধনী দিয়েছে, তা মেনে না নেওয়া হলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা হয়, ছত্রিশ জুলাই-গত বছর এই দিনে পৃথিবী দেখেছিল এক অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থান। যার ফলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট। বহু শহীদের রক্ত এবং যোদ্ধাদের ত্যাগের পথ ধরে পুরো বাংলাদেশ এক হয়েছিল। পথে পথে ছিল উল্লাসমুখর জনতার জোয়ার। এতে আরও বলা হয়, এক বছর পর আবার ফিরে এসেছে ছত্রিশ জুলাই। এই দিনে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতির কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। এ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজন থাকছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে। আসুন আমরা সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে যোগ দিই ‘ছত্রিশ জুলাই’ উদ্যাপনে। ‘আমাদের ইতিহাস, আমাদের গৌরব’, লেখা হয় পোস্টে।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ৫ আগস্ট ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানসূচি যুক্ত করা হয়। সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর গান দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর পর্যায়ক্রমে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকছে। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে হবে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদ্যাপন, এরপর যথাক্রমে সায়ান, ইথুন বাবু ও মৌসুমি গান পরিবেশন করবেন। বিকাল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল ড্রোন ড্রামাও থাকছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আর সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্রের দাবি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতা আনতে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। কর্মসূচি শেষে এসব ট্রেনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

জানা যায়, জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-যেহেতু এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে জাতীয় মুক্তির জন্য রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের পদ্ধতি ও কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল। যেহেতু, স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয়। যেহেতু, আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। যেহেতু, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১-১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়। যেহেতু, গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। যেহেতু, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে। যেহেতু, অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দলমতনির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যেহেতু, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় দুই সহস্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ববরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে। জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে অবৈধ, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যেহেতু, বাংলাদেশর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। বিশেষত, যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনভর উৎসবমুখর আয়োজন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ১০:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

বহুলপ্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকাল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই শহীদপরিবারের প্রতিনিধি এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনভর থাকছে উৎসবমুখর নানা আয়োজন। অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। নানা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিকালে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সবশেষ আয়োজন হিসাবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেল-এর গান। এই দিবস উদ্যাপনে দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ সবাইকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে। ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সূত্রমতে, সব দল এ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠাবে। তবে ঘোষণাপত্রের খসড়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের ইতিহাস যুক্ত করার জন্য সংশোধনী দিয়েছিল বিএনপি। এটি না থাকলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর প্রতিক্রিয়া জানাবে দলটি।

জানা যায়, ঘোষণাপত্রে রয়েছে ২৬টি দফা। প্রথম ২১ দফায় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের মানুষের অতীতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একটি দফায় বলা হয়েছে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।

তবে ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের কথা উল্লেখ না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়ায় সংশোধনী দিয়ে এদিনকে সঠিকভাবে উল্লেখ করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দুদফায় অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে জুলাই ঘোষণাপত্র সংবলিত যে খসড়া দিয়েছে তাতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চকে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা বলেছি, এই জাতির শুরুই হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। তাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবে ২৬ মার্চকে উপস্থাপন করতে চাননি, এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বিএনপি। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি চতুর্থ তফশিলের মাধ্যমে দেওয়া হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে বিএনপি যে সংশোধনী দিয়েছে, তা মেনে না নেওয়া হলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা হয়, ছত্রিশ জুলাই-গত বছর এই দিনে পৃথিবী দেখেছিল এক অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থান। যার ফলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট। বহু শহীদের রক্ত এবং যোদ্ধাদের ত্যাগের পথ ধরে পুরো বাংলাদেশ এক হয়েছিল। পথে পথে ছিল উল্লাসমুখর জনতার জোয়ার। এতে আরও বলা হয়, এক বছর পর আবার ফিরে এসেছে ছত্রিশ জুলাই। এই দিনে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতির কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। এ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজন থাকছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে। আসুন আমরা সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে যোগ দিই ‘ছত্রিশ জুলাই’ উদ্যাপনে। ‘আমাদের ইতিহাস, আমাদের গৌরব’, লেখা হয় পোস্টে।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ৫ আগস্ট ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানসূচি যুক্ত করা হয়। সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর গান দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর পর্যায়ক্রমে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকছে। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে হবে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদ্যাপন, এরপর যথাক্রমে সায়ান, ইথুন বাবু ও মৌসুমি গান পরিবেশন করবেন। বিকাল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল ড্রোন ড্রামাও থাকছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আর সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্রের দাবি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতা আনতে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। কর্মসূচি শেষে এসব ট্রেনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

জানা যায়, জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-যেহেতু এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে জাতীয় মুক্তির জন্য রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের পদ্ধতি ও কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল। যেহেতু, স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয়। যেহেতু, আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। যেহেতু, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১-১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়। যেহেতু, গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। যেহেতু, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে। যেহেতু, অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দলমতনির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যেহেতু, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় দুই সহস্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ববরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে। জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে অবৈধ, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যেহেতু, বাংলাদেশর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। বিশেষত, যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।