ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছর আগেকার আমি, আর এখনকার আমি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • ১২১ বার

তখন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ গুরুদায়িত্বে রত ছিলাম, ২০০৫ সালের অক্টোবরের দিকে মনে হলো আমরা ক্ষমতা হারাতে পারি, হিজরত করাও লাগতে পারে, তাই একটা ছোট্ট প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম।

২০০৬ সালের এপ্রিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম একটি ভয়াবহ কথা, “আপনি ক্ষমতা হারাতে পারেন, কারাগারেও যাওয়া লাগতে পারে!” অতঃপর আমি নিজেই কাগজপত্র আপ-টু-ডেট করতে লাগলাম।

২০০৬ এর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বুঝতে পারলাম ষড়যন্ত্র চলছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে “জরুরী অবস্থা” জারীর চেষ্টা হলো। নিজ বুদ্ধিতে আটকে দিলাম। নভেম্বরেও আরেকবার আটকালাম। ডিসেম্বরের একদিনে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে জানালাম, “ তখনকার সেনাপ্রধান মইন ক্ষমতা নিয়ে নিবে, আপনাকে এবং দু’ছেলেকে জেলে নিবে, দল কেড়ে নিয়ে সে রাষ্ট্রপতি হবে!” কেউ বিশ্বাস করে নি।

২০০৭ সালে ১/১১র পরে মইনকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটা ব‍্যর্থ চেষ্টা করা হয়। আমাকে সন্দেহ করে ধরার চেষ্টা হয়। গা ঢাকা দিই। ধরতে পারলে মেরে ফেলত জানিয়েছিল আমার বন্ধুরা!

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে ৩০ সিটে বুক করে দিবে আগাম জানিয়েছিলাম ম‍্যাডামকে। কোনো কাজে আসেনি সে তথ‍্য। ভারতের চাহিদামত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল। হাসিনা গদিতে বসে প্রথমেই আমাকে চাকরিচ্যুত করে। অবশ‍্য মহিবুলকে আমিই রাস্তাটা বলে দিয়েছিলাম, কেননা হয়রানির চেয়ে ওটাই ভালো মনে করেছিলাম। আমি কয়েকজনকে বলেছিলাম, আমি আবার জবে ফিরব ইনশা আল্লাহ। পরে কিন্তু ফিরেছি!

২০০৯ সাল থেকে শুরু করলাম লেখালেখি। প্রথমে মিলিটারি ব্লগে, পরে সামুতে, সচলায়তন, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে, চ‍্যাট-ইমেইল গ্রুপ সহ যত ব্লগ ছিল, সর্বত্র। দফা একটাই- হাসিনার পতন, কেননা সে অবৈধভাবে নির্বাচিত।

বাংলার প্রত‍্যন্ত অঞ্চল সহ সর্বত্র পৌছার সবচেয়ে ইজি মাধ্যম হিসাবে ফেইসবুক ব‍্যবহার করেই মানুষের কাছে পৌছার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। একাধিক একাউন্ট/পেইজ সচল করে হাসিনা বিরোধী প্রচারনা করে সংগ্রামীদের তৈরি করতে থাকি। ‘১৩-১৪, ‘১৮, ‘২৪ প্রতিটি নির্বাচনের পিরিয়ডে সামাজিক মাধ‍্যমের পাশাপাশি একাধিক জনপ্রিয় পোর্টালও ব্যবহার করি। ইতোমধ্যেই আরও অনেকে সামিল হয় এই সোশ‍্যাল মিডিয়া ভিত্তিক লড়াইয়ে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী এক বছর গেছে সুনির্দিষ্ট লক্ষভেদি লড়াই কর্মসূচি । আমি যেমন হাসিনাকে তার দুঃশাসন লুটপাট খুনগুম নিয়ে ব‍্যাপকভাবে ধরেছিলাম, তিনিও আমাকে ব‍্যক্তিগতভাবে ক্ষতি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন: মামলা, স্বজনদের হয়রানি, হ‍ত‍্যা করতে গোয়েন্দাও পাঠিয়েছিলেন। আমার বয়ান অনেকের কাছে বোধগম্য হয়নি বিধায় এসময় সমগোত্রীয় অনেকের নির্দয় আক্রমণের শিকার হয়েছি।

জুলাই আন্দোলনের একদম শুরু থেকেই এটাকে “বাস্তিল পতন” ঘোষণা করে সংগ্রামীদেরকে একদফায় ঠেলে নিয়ে গেছি। জুলাই মাস বাড়িয়ে দিয়েছিলাম পতন অবধি- সৃষ্টি হলো – “৩৬ জুলাই”! হাসিনার পতন এবং পালিয়ে যাওয়া ছিল কাঙ্খিত। কিন্তু এতবার বলার পরেও পারিনি চসেস্কুর মত সমাপ্ত করতে।

হাসিনার পালানোর আগ মূহুর্তে ঘোষণা করি- “ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্ব অস্থায়ী সরকার আসছে”, যারা এখনও রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

মোহাম্মদ  শামসুল আলম 

সাবেক 

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস ১

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ বছর আগেকার আমি, আর এখনকার আমি

আপডেট টাইম : ০১:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

তখন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ গুরুদায়িত্বে রত ছিলাম, ২০০৫ সালের অক্টোবরের দিকে মনে হলো আমরা ক্ষমতা হারাতে পারি, হিজরত করাও লাগতে পারে, তাই একটা ছোট্ট প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম।

২০০৬ সালের এপ্রিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম একটি ভয়াবহ কথা, “আপনি ক্ষমতা হারাতে পারেন, কারাগারেও যাওয়া লাগতে পারে!” অতঃপর আমি নিজেই কাগজপত্র আপ-টু-ডেট করতে লাগলাম।

২০০৬ এর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বুঝতে পারলাম ষড়যন্ত্র চলছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে “জরুরী অবস্থা” জারীর চেষ্টা হলো। নিজ বুদ্ধিতে আটকে দিলাম। নভেম্বরেও আরেকবার আটকালাম। ডিসেম্বরের একদিনে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে জানালাম, “ তখনকার সেনাপ্রধান মইন ক্ষমতা নিয়ে নিবে, আপনাকে এবং দু’ছেলেকে জেলে নিবে, দল কেড়ে নিয়ে সে রাষ্ট্রপতি হবে!” কেউ বিশ্বাস করে নি।

২০০৭ সালে ১/১১র পরে মইনকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটা ব‍্যর্থ চেষ্টা করা হয়। আমাকে সন্দেহ করে ধরার চেষ্টা হয়। গা ঢাকা দিই। ধরতে পারলে মেরে ফেলত জানিয়েছিল আমার বন্ধুরা!

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে ৩০ সিটে বুক করে দিবে আগাম জানিয়েছিলাম ম‍্যাডামকে। কোনো কাজে আসেনি সে তথ‍্য। ভারতের চাহিদামত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল। হাসিনা গদিতে বসে প্রথমেই আমাকে চাকরিচ্যুত করে। অবশ‍্য মহিবুলকে আমিই রাস্তাটা বলে দিয়েছিলাম, কেননা হয়রানির চেয়ে ওটাই ভালো মনে করেছিলাম। আমি কয়েকজনকে বলেছিলাম, আমি আবার জবে ফিরব ইনশা আল্লাহ। পরে কিন্তু ফিরেছি!

২০০৯ সাল থেকে শুরু করলাম লেখালেখি। প্রথমে মিলিটারি ব্লগে, পরে সামুতে, সচলায়তন, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে, চ‍্যাট-ইমেইল গ্রুপ সহ যত ব্লগ ছিল, সর্বত্র। দফা একটাই- হাসিনার পতন, কেননা সে অবৈধভাবে নির্বাচিত।

বাংলার প্রত‍্যন্ত অঞ্চল সহ সর্বত্র পৌছার সবচেয়ে ইজি মাধ্যম হিসাবে ফেইসবুক ব‍্যবহার করেই মানুষের কাছে পৌছার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। একাধিক একাউন্ট/পেইজ সচল করে হাসিনা বিরোধী প্রচারনা করে সংগ্রামীদের তৈরি করতে থাকি। ‘১৩-১৪, ‘১৮, ‘২৪ প্রতিটি নির্বাচনের পিরিয়ডে সামাজিক মাধ‍্যমের পাশাপাশি একাধিক জনপ্রিয় পোর্টালও ব্যবহার করি। ইতোমধ্যেই আরও অনেকে সামিল হয় এই সোশ‍্যাল মিডিয়া ভিত্তিক লড়াইয়ে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী এক বছর গেছে সুনির্দিষ্ট লক্ষভেদি লড়াই কর্মসূচি । আমি যেমন হাসিনাকে তার দুঃশাসন লুটপাট খুনগুম নিয়ে ব‍্যাপকভাবে ধরেছিলাম, তিনিও আমাকে ব‍্যক্তিগতভাবে ক্ষতি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন: মামলা, স্বজনদের হয়রানি, হ‍ত‍্যা করতে গোয়েন্দাও পাঠিয়েছিলেন। আমার বয়ান অনেকের কাছে বোধগম্য হয়নি বিধায় এসময় সমগোত্রীয় অনেকের নির্দয় আক্রমণের শিকার হয়েছি।

জুলাই আন্দোলনের একদম শুরু থেকেই এটাকে “বাস্তিল পতন” ঘোষণা করে সংগ্রামীদেরকে একদফায় ঠেলে নিয়ে গেছি। জুলাই মাস বাড়িয়ে দিয়েছিলাম পতন অবধি- সৃষ্টি হলো – “৩৬ জুলাই”! হাসিনার পতন এবং পালিয়ে যাওয়া ছিল কাঙ্খিত। কিন্তু এতবার বলার পরেও পারিনি চসেস্কুর মত সমাপ্ত করতে।

হাসিনার পালানোর আগ মূহুর্তে ঘোষণা করি- “ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্ব অস্থায়ী সরকার আসছে”, যারা এখনও রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

মোহাম্মদ  শামসুল আলম 

সাবেক 

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস ১