ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী বটি দিয়ে কুপিয়ে দুই সন্তানকে হত্যা করেন মা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৩৫ বার

নিজ মায়ের হাতেই খুন হয় দুই ভাই বোন আব্দুল্লাহ (৪) ও মালিহা (৬)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মা এ স্বীকারোক্তি দেন।

শনিবার গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল শুক্রবার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর রুপবানের টেক এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আব্দুল্লাহ (৪) ও মালিহা (৬) নামে দুই ভাই বোনের ক্ষত বিক্ষত রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ খুনের রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। প্রথমে ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায় ঘটনার সময় ঐ ফ্ল্যাটে অন্য কেউ প্রবেশ করেন নাই। এমনকি ঘটনার পরপর শিশুর মায়ের অসংলগ্ন কথা এবং হাতে কাটা দাগের চিহ্ন দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে নিহত শিশুদের মা সালেহা বেগম এবং বাবা আ. বাতেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিতদের মা সালেহা জানান, ঘরে থাকা বটি দিয়ে কুপিয়ে তার দুই সন্তান আব্দুল্লাহ ও মালিহাকে তিনি নিজ হাতে হত্যা করেন। তবে কেন বা কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। আমরা জানার চেষ্টা করছি কেন এবং কী কারণে তিনি সন্তানকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর রুপবানের টেক এলাকার আবাসিক ভবনের তিন তলা থেকে আবদুল্লা (৪) ও মালিহা (৬) নামে দুই ভাই বোনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুল্লাহ ও মালিহা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার তাতোয়াকান্দি গ্রামের আ. বাতেনের ছেলে ও মেয়ে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের মাঝে একটাই প্রশ্ন দেখা দেয়, কী কারণে এ রকম নিষ্ঠুরতা! সকলেই দাবি করেন, খুনিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক এবং এই খুনের আসল রহস্য উদঘাটন করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী বটি দিয়ে কুপিয়ে দুই সন্তানকে হত্যা করেন মা

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

নিজ মায়ের হাতেই খুন হয় দুই ভাই বোন আব্দুল্লাহ (৪) ও মালিহা (৬)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মা এ স্বীকারোক্তি দেন।

শনিবার গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল শুক্রবার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর রুপবানের টেক এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আব্দুল্লাহ (৪) ও মালিহা (৬) নামে দুই ভাই বোনের ক্ষত বিক্ষত রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ খুনের রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। প্রথমে ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায় ঘটনার সময় ঐ ফ্ল্যাটে অন্য কেউ প্রবেশ করেন নাই। এমনকি ঘটনার পরপর শিশুর মায়ের অসংলগ্ন কথা এবং হাতে কাটা দাগের চিহ্ন দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে নিহত শিশুদের মা সালেহা বেগম এবং বাবা আ. বাতেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিতদের মা সালেহা জানান, ঘরে থাকা বটি দিয়ে কুপিয়ে তার দুই সন্তান আব্দুল্লাহ ও মালিহাকে তিনি নিজ হাতে হত্যা করেন। তবে কেন বা কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। আমরা জানার চেষ্টা করছি কেন এবং কী কারণে তিনি সন্তানকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর রুপবানের টেক এলাকার আবাসিক ভবনের তিন তলা থেকে আবদুল্লা (৪) ও মালিহা (৬) নামে দুই ভাই বোনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুল্লাহ ও মালিহা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার তাতোয়াকান্দি গ্রামের আ. বাতেনের ছেলে ও মেয়ে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের মাঝে একটাই প্রশ্ন দেখা দেয়, কী কারণে এ রকম নিষ্ঠুরতা! সকলেই দাবি করেন, খুনিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক এবং এই খুনের আসল রহস্য উদঘাটন করা হোক।