ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

দুই মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • ৩৪১ বার

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে শপথ ভঙ্গের কথা উল্লেখ করায় তাদের স্বপদে থাকা না-থাকা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে সর্বত্র।

আইনজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, শপথ ভঙ্গ আর অর্থদণ্ডের কারণে দুই মন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। কেউ বলছেন, আইনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে নৈতিকতার দিক থেকে তাদের সরে যাওয়া উচিত। যদিও বাংলাদেশে এর কোনো নজির নেই। এমন মতও এসেছে, এটা বিচার্য বিষয় ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ। তাই আইনি বা নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই তাদের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন কেউ কেউ।

তারা বলেন, আদালত অবমাননার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্তদের মন্ত্রিত্ব বিষয়ে সংবিধানে কিছু উল্লেখ না থাকায় তাদের মন্ত্রী পদে রাখা হবে কিনা, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দুই মন্ত্রীকে চুপ থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেও দেখা যায়নি। গত শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ওই দুই মন্ত্রী আমন্ত্রিত থাকলেও যোগ দেননি। রায় ঘোষণার পর বলেছিলেন- পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি শপথ ভঙ্গ করলে তার আর ওই পদে থাকার যোগ্যতা থাকে না বলে মনে করেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই মন্ত্রী নিজ পদে বহাল থাকতে পারবেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- যারা সাংবিধানিক পদে যান, তাদের শপথ নিতে হয়। এই শপথ যখন ভঙ্গ হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি এই শপথ ভঙ্গ করেন, তাহলে তিনি ওই পদে বহাল থাকার যোগ্যতা হারান। আদালতের আদেশের মধ্য দিয়ে দুই মন্ত্রীর শপথ ভঙ্গের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, ইংল্যান্ড, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এ ধরনের ঘটনায় সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিরা সরে দাঁড়িয়েছেন- এরকম নজির রয়েছে। এখন তারা কতদূর নৈতিকতা বোধের পরিচয় দেন, তা দেখার বিষয়। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। তবে দুই মন্ত্রীর সরে দাঁড়ানো উচিত বা অনুচিত প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তার মতে, বিষয়টি আইনি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সংবিধান ও আইন বিশ্লেষণ না করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, ‘মন্ত্রী থাকা না-থাকা নৈতিকতার বিষয়। বিচার বিভাগকে নিয়ে কথা বলে এই দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথ ভঙ্গ মানে সংবিধান অবমাননা এবং সে কারণে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা পদত্যাগ নাও করেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই আশা রাখি।’

গত ২৭ জুলাই রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছিলেন, সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টা ‘নৈতিকতার’। বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে সর্বোচ্চ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই মন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক। তিনি বলেন, আদালত অবমাননার কারণে মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। প্রধানমন্ত্রী যতজন প্রয়োজন মনে করবেন, ততজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন, তাহলে কোনো মন্ত্রীকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন। মন্ত্রী যদি সেই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রীকে বরখাস্তের পরামর্শ রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারবেন। তবে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই মন্ত্রীর পদে থাকতে আইনগত কোনো বাধা নেই। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্তের পর দুই বছর সাজা হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার পদ হারাবেন। এখানে সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, দুই মন্ত্রী স্বপদে থাকতে পারেন।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, ‘এই রায়ের মূল বিষয় হচ্ছে- দুই মন্ত্রী আদালত অবমাননার দায়ে গুরুতরভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। শপথ ভঙ্গের বিষয়টি এই মামলার বিবেচ্য বিষয় ছিল না। তারপরও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে একটা ফাইন্ডিংস এসেছে। কিন্তু তারা মন্ত্রী থাকতে পারবেন কিনা এমন কিছু বলা হয়নি। এটা তাদের সুবিবেচনা ও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের মতে, ‘দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন, এটা স্পষ্ট। আমাদের দেশে সেই কালচার ডেভেলপ করেনি। তাই এখন প্রধানমন্ত্রী যতদিন চাইবেন, ততদিন তারা স্বপদে থাকবেন। আমি মনে করি যেহেতু শপথ ভঙ্গ হয়েছে, তারা নিজের থেকেই চলে গেলে এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা আসবে না। না হলে প্রধানমন্ত্রী কী করেন, সেই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের। গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এ কথা। কিন্তু দুই মন্ত্রী আসেননি। কেন আসেননি সেই ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি তাদের কাছ থেকে।

উল্লেখ্য, আদালত অবমাননার দায়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ওই রায়ে বলা হয়েছে, তারা (দুই মন্ত্রী) আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

দুই মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে

আপডেট টাইম : ১২:২৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে শপথ ভঙ্গের কথা উল্লেখ করায় তাদের স্বপদে থাকা না-থাকা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে সর্বত্র।

আইনজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, শপথ ভঙ্গ আর অর্থদণ্ডের কারণে দুই মন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। কেউ বলছেন, আইনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে নৈতিকতার দিক থেকে তাদের সরে যাওয়া উচিত। যদিও বাংলাদেশে এর কোনো নজির নেই। এমন মতও এসেছে, এটা বিচার্য বিষয় ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ। তাই আইনি বা নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই তাদের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন কেউ কেউ।

তারা বলেন, আদালত অবমাননার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্তদের মন্ত্রিত্ব বিষয়ে সংবিধানে কিছু উল্লেখ না থাকায় তাদের মন্ত্রী পদে রাখা হবে কিনা, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দুই মন্ত্রীকে চুপ থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেও দেখা যায়নি। গত শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ওই দুই মন্ত্রী আমন্ত্রিত থাকলেও যোগ দেননি। রায় ঘোষণার পর বলেছিলেন- পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি শপথ ভঙ্গ করলে তার আর ওই পদে থাকার যোগ্যতা থাকে না বলে মনে করেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই মন্ত্রী নিজ পদে বহাল থাকতে পারবেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- যারা সাংবিধানিক পদে যান, তাদের শপথ নিতে হয়। এই শপথ যখন ভঙ্গ হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি এই শপথ ভঙ্গ করেন, তাহলে তিনি ওই পদে বহাল থাকার যোগ্যতা হারান। আদালতের আদেশের মধ্য দিয়ে দুই মন্ত্রীর শপথ ভঙ্গের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, ইংল্যান্ড, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এ ধরনের ঘটনায় সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিরা সরে দাঁড়িয়েছেন- এরকম নজির রয়েছে। এখন তারা কতদূর নৈতিকতা বোধের পরিচয় দেন, তা দেখার বিষয়। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। তবে দুই মন্ত্রীর সরে দাঁড়ানো উচিত বা অনুচিত প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তার মতে, বিষয়টি আইনি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সংবিধান ও আইন বিশ্লেষণ না করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, ‘মন্ত্রী থাকা না-থাকা নৈতিকতার বিষয়। বিচার বিভাগকে নিয়ে কথা বলে এই দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথ ভঙ্গ মানে সংবিধান অবমাননা এবং সে কারণে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা পদত্যাগ নাও করেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই আশা রাখি।’

গত ২৭ জুলাই রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছিলেন, সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টা ‘নৈতিকতার’। বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে সর্বোচ্চ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই মন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক। তিনি বলেন, আদালত অবমাননার কারণে মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। প্রধানমন্ত্রী যতজন প্রয়োজন মনে করবেন, ততজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন, তাহলে কোনো মন্ত্রীকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন। মন্ত্রী যদি সেই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রীকে বরখাস্তের পরামর্শ রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারবেন। তবে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই মন্ত্রীর পদে থাকতে আইনগত কোনো বাধা নেই। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্তের পর দুই বছর সাজা হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার পদ হারাবেন। এখানে সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, দুই মন্ত্রী স্বপদে থাকতে পারেন।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, ‘এই রায়ের মূল বিষয় হচ্ছে- দুই মন্ত্রী আদালত অবমাননার দায়ে গুরুতরভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। শপথ ভঙ্গের বিষয়টি এই মামলার বিবেচ্য বিষয় ছিল না। তারপরও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে একটা ফাইন্ডিংস এসেছে। কিন্তু তারা মন্ত্রী থাকতে পারবেন কিনা এমন কিছু বলা হয়নি। এটা তাদের সুবিবেচনা ও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের মতে, ‘দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন, এটা স্পষ্ট। আমাদের দেশে সেই কালচার ডেভেলপ করেনি। তাই এখন প্রধানমন্ত্রী যতদিন চাইবেন, ততদিন তারা স্বপদে থাকবেন। আমি মনে করি যেহেতু শপথ ভঙ্গ হয়েছে, তারা নিজের থেকেই চলে গেলে এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা আসবে না। না হলে প্রধানমন্ত্রী কী করেন, সেই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের। গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এ কথা। কিন্তু দুই মন্ত্রী আসেননি। কেন আসেননি সেই ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি তাদের কাছ থেকে।

উল্লেখ্য, আদালত অবমাননার দায়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ওই রায়ে বলা হয়েছে, তারা (দুই মন্ত্রী) আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন।