ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা

নেত্রকোণায় মাদ্রাসার বাথরুম থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪
  • ১৯৪ বার

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা মদনে মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মোঃ মনজুরুল হক (৫৫) নামের এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিক্ষক মনজুরুল হক নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বালিজুরা গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

মাদ্রাসা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনজুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। মাদ্রাসার কাছের একটি বাড়িতে তিনি পরিবার বসবাস করতেন। কয়েকদিন দিন ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থায় ভুগছিলেন। গত ৩ দিন আগে অসুস্থার জন্য মাদ্রাসার সুপারের কাছে ছুটি চান। কিন্তু সুপার ছুটি দেননি।

অসুস্থতা নিয়ে বুধবার (১২ জুন) মাদ্রাসায় আসেন তিনি। পরে শিক্ষক মনজুরুল হক বাথরুমে গেলে আর বের হয়নি। কিছুক্ষণ পর তার ছেলে জুনায়েদ (৭) তাকে মাদ্রাসায় খুঁজতে আসে। ছেলেকে সুপার জানান তার বাবা বাথরুমে গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও মনজুরুল হক বের না হওয়ায় ছেলে জুনায়েদ বাথরুমে যায়। বাবাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয় শিক্ষক মনজুরুল হকের স্ত্রী হাফছা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য বার বার তিনি মাদ্রাসার সুপারের কাছে ছুটি চান। কিন্তু সুপার ছুটি দেননি। আজ মাদ্রাসার বাথরুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ বজলুর রহমান জানান, সহকারী শিক্ষক মনজুরুল হক আমার কাছে লিখিত ভাবে কোনো ছুটি চায়নি।

মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আরজু মিয়া জানান, শিক্ষক মনজুরুল হক চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েও পাননি এ বিষয়টি তাঁর স্ত্রী আমাকে অবগত করেছে। চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে একজন শিক্ষক মারা যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, শিক্ষক মারা যাওয়ার ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি

নেত্রকোণায় মাদ্রাসার বাথরুম থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০৯:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা মদনে মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মোঃ মনজুরুল হক (৫৫) নামের এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিক্ষক মনজুরুল হক নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বালিজুরা গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

মাদ্রাসা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনজুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। মাদ্রাসার কাছের একটি বাড়িতে তিনি পরিবার বসবাস করতেন। কয়েকদিন দিন ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থায় ভুগছিলেন। গত ৩ দিন আগে অসুস্থার জন্য মাদ্রাসার সুপারের কাছে ছুটি চান। কিন্তু সুপার ছুটি দেননি।

অসুস্থতা নিয়ে বুধবার (১২ জুন) মাদ্রাসায় আসেন তিনি। পরে শিক্ষক মনজুরুল হক বাথরুমে গেলে আর বের হয়নি। কিছুক্ষণ পর তার ছেলে জুনায়েদ (৭) তাকে মাদ্রাসায় খুঁজতে আসে। ছেলেকে সুপার জানান তার বাবা বাথরুমে গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও মনজুরুল হক বের না হওয়ায় ছেলে জুনায়েদ বাথরুমে যায়। বাবাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয় শিক্ষক মনজুরুল হকের স্ত্রী হাফছা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য বার বার তিনি মাদ্রাসার সুপারের কাছে ছুটি চান। কিন্তু সুপার ছুটি দেননি। আজ মাদ্রাসার বাথরুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বালালী বাঘমারা আব্দুল রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ বজলুর রহমান জানান, সহকারী শিক্ষক মনজুরুল হক আমার কাছে লিখিত ভাবে কোনো ছুটি চায়নি।

মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আরজু মিয়া জানান, শিক্ষক মনজুরুল হক চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েও পাননি এ বিষয়টি তাঁর স্ত্রী আমাকে অবগত করেছে। চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে একজন শিক্ষক মারা যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, শিক্ষক মারা যাওয়ার ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।