সুনামগঞ্জে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়লো সিএনজির ওপর, আহত ৩

সুনামগঞ্জে হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড় ও সাথে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে চলন্ত সিএনজির ওপর গাছ পড়ে ৩ জন আহত হয়েছেন

রোববার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া ঝড়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রোববার রাতে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বাজার এলাকা থেকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পথে পুরাতন শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় চলন্ত সিএনজির ওপর একটি গাছে ভেঙে পড়ে দুমড়ে মুছড়ে যায়। এতে সিএনজির চালকসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতা‌লে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে একজনের আশঙ্কাজনক অবস্থা হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান শ্রাবণ বলেন, আমরা তখন একটি দোকানে আশ্রয়ে ছিলাম তখন আমাদের সামনেই সিএনজির ওপর গাছ পড়েছে। পরে আমরা কয়েকজন দৌড়ে সিএনজিতে থাকা ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এদিকে, সুনামগঞ্জে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের শিলা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদের শপিংয়ে আসা ক্রেতারা। হঠাৎ করেই শিলা বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নেন তার

এছাড়া ঝড়ের তাণ্ডবে সুনামগঞ্জ পৌরশহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দোকানপাঠ বাড়ি-ঘর লণ্ডভণ্ড ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে কয়েক শতাধিক দোকান ঘর ও ঘরবাড়ি ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল বাসেত বলেন, সারাদিন থেকে আকাশে মেঘ ছিলো, মাঝে মধ্যে রোদও ছিলো। তারাবির নামার পড়ে বাজারে বসে গল্প করছিলাম হঠাৎ ঝড়ে দোকানের সব উড়াইয়া নিয়ে গেছে। শুধু এই এক দোকান না, গ্রামের অনেক বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পৌর শহরের জামিল আহমেদ বলেন, পরিবারের লোকজন নিয়ে বাজারে ঈদের মার্কেট করতে গেছিলাম। বাসাত ফিরার পথে ঝড়ের কবলে পড়েছি। বাচ্চাদের নিয়েই কোনোমতে একটা ছোট দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

প্রবল ঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাত সাড়ে ১০টায় থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তি পড়েন শহরবাসী।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ওলি উল্লাহ জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে একটি সিএনজিতে থাকা তিনজন আহত হয়েছেন খবর পেয়েছি। খোঁজখবর নিচ্ছি আর কোনো হতাহত আছে কি না

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর