গাজায় হত্যাকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া দুঃখজনক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গাজায় হত্যাকাণ্ড বিশ্ব প্রত্যক্ষ করলেও তা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজায় নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হাসপাতালেও ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। রোববার ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের (শাসক দল) মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের (শাসক দল) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেবরেল আলরজউব সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

গাজায় ইসরাইলি হামলার বিষয়ে নীরব অবস্থানের জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি এক ধরনের ভণ্ডামি। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত এবং এটি করা উচিত মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের জন্য। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৬৭ সালে গৃহীত প্রস্তাব অনুসরণ করার অনুরোধ জানান। গাজায় মৃত্যুর জন্য তিনি শোক প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মিসরের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য দুই দফা ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, আমি যেখানেই সুযোগ পেয়েছি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সব সময় আওয়াজ তুলেছি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১৯৯৭ সালে ইয়াসির আরাফাতের বাংলাদেশ সফরের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

নিঃশর্ত সমর্থন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আওয়াজ তোলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেবরেল আলরজউব ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা দরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ উদ্দেশে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিই এ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। এ সময় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমানের ফ্লাই-পাস্ট এবং অনুষ্ঠানস্থলে হেলিকপ্টার থেকে সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারদের সফল অবতরণ তিনি প্রত্যক্ষ করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি তিন বাহিনীর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমরাস্ত্র সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করেন। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ-সদস্য, সচিব, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা উপভোগ করেন এবং পরে তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে যোগ দেন। প্রদর্শনী ২৬ থেকে ৩০ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে। রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রথম প্রশিক্ষণ বিমান বঙ্গবন্ধু বেসিক ট্রেইনারের (বিবিটি) উদ্বোধন : এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রোববার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তৈরি প্রথম প্রশিক্ষণ বিমান বঙ্গবন্ধু বেসিক ট্রেইনার (বিবিটি) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে স্বাগত জানান বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিটি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় নিজস্ব কারিগরি প্রযুক্তি, প্রকৌশলী ও লোকবল দিয়ে দেশের প্রথম উড়োজাহাজ বঙ্গবন্ধু বেসিক ট্রেইনার-১ (বিবিটি-১) নির্মাণ করে। এ বিমান ১৮০ কিমি. গতিতে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নে সক্ষম। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিমানটি প্রথম টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করে।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর