১০ সংস্থার সনদ নিয়ে নয়ছয় আছে হয়রানিও

রেস্টুরেন্ট বা রেস্তোরাঁ করতে ১০ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়। তবুও থেকে যাচ্ছে ত্রুটি। এরপরও আবাসিক, অফিস বা বাণিজ্যিক ভবনে রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। এজন্য রেস্তোরাঁর অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাহলে বিশৃঙ্খল ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠার হার কমবে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

তাদের মতে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮-এর আওতায় রাজধানীতে ভবন ও স্থাপনা তৈরি ও ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে কোন ভবনে রেস্তোরাঁ করতে পারবে তা পরিষ্কার করে কিছু বলা নেই। এজন্য বাণিজ্যিক অনুমোদন নিয়ে অনেকে রেস্তোরাঁ গড়ে তুলছেন। জাতীয় বিল্ডিং কোড ২০০৬-এর আদলে বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তৈরি হয়েছে। পরে ২০২০ সালে জাতীয় বিল্ডিং কোড সংশোধন করে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় ঢাকার ভবনে তা পালন করতে আইনগতভাবে বাধ্য করতে পারছে না রাজউক। শুধু ভবনের ভিন্ন ব্যবহারের দায়ে রাজউক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি রেস্তোরাঁর অনুমোদন নিতে হলে প্রথমে নির্ধারিত জায়গা বা ভবন রাজউকের সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিভুক্ত হতে হবে। এরপর সিটি করপোরেশনের ব্যবসার অনুমোদনপত্র, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ, পরিবেশের দুই ধরনের সনদ তথা পরিবেশগত সনদ ও অবস্থানগত সনদ। এছাড়া ডিসি অফিসের সনদ, সিভিল সার্জনের সনদ, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগের সনদ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, রেস্তোরাঁ করতে ১০ সংস্থার অনুমোদন নেওয়ার বিষয় থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদন মিলছে না। সবকিছু চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সনদ পাওয়া নিয়ে রেস্টুরেন্ট মালিকদের নানাভাবে হয়রানিও হতে হয়। এজন্য রেস্তোরাঁ মালিকরা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সনদ নিয়ে নিচ্ছেন। বহুদিন ধরে এই অবস্থা চলছে। গুরুতর এই অনিয়ম মূলত অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিষয়গুলো ওপেন সিক্রেট। এজন্য সবকিছু জেনেও না জানার ভান করে থাকে কর্তৃপক্ষ। আর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেত চাইলে জনবল স্বল্পতার কারণে তা করতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়।

জানতে চাইলে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২) প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, একটি রেস্তোরাঁ করতে ১০ ধরনের সনদ নিতে হয়। তবুও ক্রটি থেকে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সবাই রাজউককে দায়ী করছে। যার যতটুকু দায়, তাকে ততটুকু দিতে হবে। সবাই ঢালাওভাবে রাজউককে দায়ী করছে; এটা অযৌক্তিক।

জানতে চাইলে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. হাসমতুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, রাজউকের বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় রেস্তোরাঁ বলে সরাসরি কোনো ক্যাটাগরি নেই। একটি ক্যাটাগরিতে ‘জনসমাগম স্থান’ বলা আছে। এই ক্যাটাগরিতে রেস্তোরাঁ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদিও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই। এই দুর্বলতায় বাণিজ্যিক অনুমোদনে রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বিল্ডিং কোড ২০২০-এ রেস্তোরাঁ এবং রেস্তোরাঁর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। তবে বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় বিল্ডিং কোডের বিষয়গুলো রাজউক বাস্তবায়ন করতে পারছে না। দ্রুততম সময়ে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আনিছুর রহমান মিঞা যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় অনেক অগ্নিনিরাপত্তা ও রেস্তোরাঁ ক্যাটাগরিতে ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো সংশোধন করার কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করা হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর