বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড: ভবনের অনিয়মের কারণেই এত মৃত্যু

একদিকে ছিল লিপ ইয়ার, অন্যদিকে সাপ্তাহিক ছুটির আগের রাত। ফলে বৃহস্পতিবার রাতে ভিড় বেশিই ছিল বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে, কাচ্চি ভাইসহ অন্য দোকানগুলো ছিল জমজমাট। কিন্তু ভয়াবহ এক আগুনে ভবনটি রূপ নেয় মৃত্যুপুরীতে। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জমজমাট ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এত মানুষের মৃত্যুর কারণ কী—এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে সবার মনে। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্ত করছে রাজউক, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও। সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির পদে পদে অনিয়মের প্রমাণ মিলছে।

ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্য, কিন্তু এর বেশির ভাগই ব্যবহার হয়েছে রেস্তোরাঁ হিসেবে; এর কোনো অনুমোদনও ছিল না। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। ভবনের মালিকপক্ষের দায়িত্বহীনতা, ভবনে থাকা রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে উদাসীনতার কারণেই অগ্নিকাণ্ডে এত প্রাণহানি বলে মনে করা হচ্ছে।

ভবনটিতে এত মানুষের মৃত্যুর পেছনে আগুনে পোড়া ছাড়াও বিষাক্ত কালো ধোঁয়াকেও কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

আগুন লাগার পর উত্তাপ আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় ভবনটির ওপরের তলাগুলো। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা মারা গেছে তাদের অনেকে কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ একটি বদ্ধ ঘরে যখন বের হতে পারে না, তখন ধোঁয়াটা শ্বাসনালিতে চলে যায়। প্রত্যেকেরই তা হয়েছে। যাদের বেশি হয়েছে, তারা মারা গেছে।
তবে যারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তারাও কেউ শঙ্কামুক্ত নয়।প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটির নিচতলায় অবৈধভাবে স্থাপন করা একটি চায়ের দোকানের রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও মুখপাত্র মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করার কোনো অনুমতি ছিল না। ভবনটির প্রথম তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তা শুধু অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য। রেস্তোরাঁ, শোরুম (বিক্রয়কেন্দ্র) বা অন্য কিছু করার জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কিন্তু ডেভেলপার কম্পানি ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার পর মালিকরা পুরোটা বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, যেখানে বেশির ভাগই ছিল রেস্টুরেন্ট।

তিনি বলেন, মালিকরা বেশি ভাড়ার জন্য এক কাজের জন্য অনুমতি নিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করছিলেন। এতে তাঁদের দায় রয়েছে। রাজউক সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ভবনটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন বলেন, এই দুর্ঘটনার আগে ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে ভবন কর্তৃপক্ষকে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটিতে আটটি রেস্তোরাঁ, একটি জুস বার (ফলের রস বিক্রির দোকান) ও একটি চা-কফি বিক্রির দোকান ছিল। ছিল মোবাইল ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও পোশাক বিক্রির দোকানও।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভবনে অনেকগুলো গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই ভবন পরিদর্শনে গিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘এটি একটি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সংস্থা সরাসরি এর সঙ্গে যুক্ত। আমি ভবনটি দেখতে গিয়ে অবাক হলাম। ভবনটির যে প্রবেশের পথ, যে সিঁড়ি—একই সঙ্গে আলো-বাতাস প্রবাহের যে আইন-কানুন বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা রয়েছে, তার কিছুই মানা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনের প্রধান শর্ত সিলিন্ডার কখনো উন্মুক্ত জায়গায় রাখা যাবে না। অথচ কিভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছে ভবনটিতে। আল্লাহর রহমত ফোটেনি, ফুটলে পুরো অঞ্চলে এই আগুন ছড়িয়ে যেত। আমাদের দেশে অন্তত আট মাস এসি ছাড়া চলা যায়। সেখানে কোনো ধরনের ভ্যান্টিলেশন ছাড়া কাচ ঘেরা ভবনে কার্যক্রম চলছিল। আগামীকাল থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে তিন মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। ভবনটির যদি বাণিজ্যিক অনুমোদন নেওয়া হয়, সেখানে কিচেন বানানো যায় না। বিভিন্ন এলাকায় এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন অনুমোদন নিয়ে নিচে রেস্টুরেন্ট, ওপরে আবাসিক ভবন চলছে। এগুলো একেকটা টাইমবোমা। আমরা যেন বিস্ফোরণের জন্য অপেক্ষায় আছি। এই ভবনটির অনুমোদন না দিতে চাইলে জোর করে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পারছি।’

আগুনের সূত্রপাত যেভাবে

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভবনটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ভোজনরসিকদের ভিড় ছিল। রাত পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট এসে চেষ্টা চালিয়ে রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেউ ভবনটির রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন পরিবারসহ, কেউ গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ কেউ ভবনটিতে কাজ করে সংসার চালাতেন।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনের নিচতলায় স্যামসাং ও গেজেট অ্যান্ড গিয়ার নামের দুটি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বিক্রির দোকান এবং শেখলিক নামের একটি জুসবার ছিল। দ্বিতীয় তলায় কাচ্চি ভাই নামের একটি রেস্তোরাঁ, তৃতীয় তলায় ইলিয়ন নামের একটি পোশাকের ব্র্যান্ডের দোকান, চতুর্থ তলায় খানাস ও ফুকো নামের দুটি রেস্তোরাঁ, পঞ্চম তলায় পিত্জা ইন নামের একটি রেস্তোরাঁ, ষষ্ঠ তলায় জেসটি ও স্ট্রিট ওভেন নামের দুটি রেস্তোরাঁ এবং ছাদের একাংশে অ্যামব্রোশিয়া নামের একটি রেস্তোরাঁ ছিল। এসব রেস্তোরাঁর প্রতিটিতে রান্নাঘর ছিল। রান্নাঘরে ছিল গ্যাসের চুলা। সেই সঙ্গে প্রতিটি রেস্তোরাঁর দরজার পাশে সিঁড়িতেও গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। এ ছাড়া ভবনটির পেছনের উন্মুক্ত অংশে অনেক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। সেখান থেকে প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমেও রান্নাঘরের চুলায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় অতিরিক্ত তাপে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। সেটি হলে আরো অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিন, প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও রাউজক সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই নোটিশের তোয়াক্কা না করেই ভবনটি কার্যক্রম চলমান রেখেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাততলা ভবনটিতে কার্যত কোনো অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না, নামমাত্র দু-তিনটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল। ভবনের একটিমাত্র সরু সিঁড়ি ছিল, যা দিয়ে চলাচল করা হতো। সেই সিঁড়ি আবার ভবনটিতে থাকা কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করছিল। ফলে ইমার্জেন্সি সিঁড়ি না থাকায় নিচতলায় আগুন লাগার পর সাধারণ সিঁড়ি দিয়ে নামার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি কাচে ঘেরা ভবনটিতে বড় কোনো সিঁড়ি ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই পুড়ে ও দম বন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভবনটির বাইরে রাস্তায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক ল্যাডারের (মই) মধ্যে একটি ব্যবহার করা গেলেও অন্য দুটি ভবনটিতে ঠিকমতো ব্যবহার করা যায়নি। ফলে ভবনে আটকে পড়া লোকজনকে দ্রুত ভবন থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া যায়নি। মূলত এসব কারণেই মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটেছে।

অক্সিজেনের অভাবে বেশি মৃত্যু!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ গবেষক আবদুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কোথাও আগুন লাগার পর অক্সিজেনের অভাব তৈরি হলে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হয়। এর কারণে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ভবনটিতে আহত ব্যক্তিরা আধাঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট বদ্ধ ঘরে আটকে ছিল। সে ক্ষেত্রে এই ভবনে মারা যাওয়া লোকজনের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবেও হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, আগুন লাগলে মানুষকে সেখান থেকে দ্রুত বের করে আনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলাদেশে এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

তিনজন আটক

আগুনের ঘটনায় চুমুক নামের একটি খাবারের দোকানের দুই মালিকসহ তিনজনকে গতকাল আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন দোকানটির মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান রিমন এবং কাচ্চি ভাই নামের আরেকটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. জিসান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ভবনের নিচতলার খাবার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনের ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করবে। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ যদি মামলা করতে চায়, করতে পারবে। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন মালিকের কোনো অবহেলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‌ভবনের মালিক থেকে শুরু করে এই ঘটনায় যার যার দায় পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন

দুলাল হোসেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে দেখি নিচের একটি দোকানে আগুন লেগেছে। তখন রেস্টুরেন্টটির কর্মচারীরা ও একজন পুলিশ সদস্য আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা কোনোভাবেই আগুন নেভাতে পারেননি। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে৷’

সুমন নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন লাগার পর অনেক মানুষ দোতলায় অবস্থিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে আটকা পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজন লাফিয়ে নিচে নামে। নিচে সিঁড়ির গোড়ায় আগুন থাকায় সিঁড়িতে নামা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন জীবন বাঁচাতে ছাদে চলে যায়। তবে সিঁড়ি ছোট থাকায় অনেক মানুষ ছাদে যেতে পারেনি।

দগ্ধদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে আহতদের সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য সব কিছু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার সব ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আমি সব রোগীর দায়িত্ব নিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব কিছু করা হবে।’

রাজউকের তদন্ত কমিটি

রাজউক জানিয়েছে, সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। ভবনটির জমির মালিকের নাম হামিদা খাতুন। একটি বেইসমেন্ট এবং আটতলা আবাসিক ও বাণিজ্যিক (অফিস) ভবন হিসেবে রাজউকের কাছ থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়, যেখানে একটি সিঁড়ির বিষয় রয়েছে। ২০১১ সালে ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে ডেভেলপার কম্পানি মালিকদের বুঝিয়ে দেয়। নিজেদের পাওয়া চুক্তির ৫০ শতাংশ ডেভেলপার বিক্রি করে দেয়।

যা বললেন দক্ষিণের মেয়র

গতকাল বিকেল ৩টার দিকে বেইলি রোডের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক পরিদর্শন এবং তথ্য থেকে আমরা যতটুকু জানতে ও দেখতে পেয়েছি, এই ভবন নির্মাণে অনেক গাফিলতি করা হয়েছে। এই ভবন নির্মাণে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, বিএমডিসি কোডে যে নির্ণায়কগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করা হয়েছে। পরিদর্শনে দেখলাম, আটতলা ভবন হওয়া সত্ত্বেও মাত্র একটি সিঁড়ি রয়েছে এবং সেই সিঁড়িও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশস্ত নয়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী পাঁচতলার ওপরে ভবন হলেই একটি ভবনে দুটি সিঁড়ি থাকতেই হবে এবং একটি সিঁড়ি জরুরি সাড়া প্রদানের জন্য নির্ধারিত থাকবে। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধসসহ যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে সেটি ব্যবহূত হবে। কিন্তু এই ভবনে তা মানা হয়নি বলেই অগ্নিকাণ্ডে এত হতাহত হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর