আওয়ামী লীগের ‘ডামি প্রার্থী’ কৌশল: কী, কেন, কীভাবে

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে প্রথমে অস্বস্তি থাকলেও তা থেকে বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। ভোটের হিসেবে স্বতন্ত্র বা ডামি প্রার্থীর প্রভাব কমাতে কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দিনশেষে নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিপক্ষে দাঁড়াবে না।

ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে ডামি প্রার্থী মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মত এমন উদার নীতির সুযোগকে কাজে লাগাতে ঢালাওভাবে প্রার্থী হবার জোরালো আর্জি রাখেন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগের অন্তত চারশ’ জন ।

এরপরই নানা জায়গায় প্রকাশ্যে আসে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থক দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাওয়ায় ভোট ও ভোটারের হিসেবে গরমিল হবার শংকা তৈরি হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, “এখানে যার গ্রহণযোগ্যতা আছে সে যেই হোক, যদি জনগণের মন জয় করে বিজয়ী হতে পারে আমরা অবশ্যই তাকে স্বাগত জানাব। হানাহানির কোনো অবকাশ নেই, যারা এধরনের পদ বেছে নিবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নেতারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে বিকল্প প্রার্থী রাখার নির্দেশনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে যারা কর্মীদের বিভ্রান্ত করছেন তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে দল। সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যস্থতায় ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী আবেদন প্রত্যাহার করবেন বলেও আশা করছে কেন্দ্র।

আওয়ামী লীগ যুগ-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “২৭ শতাংশ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক যাদেরকে দেয়া হয়েছিল তাদেরও বেশ কয়েকজন রয়েছে। প্রত্যাহার তারিখের পর দেখা যাবে এগুলো অনেক কমে গেছে। এরপরও যারা দলের শৃঙ্খলা চূড়ান্তভাবে মানবেনা, নিশ্চয়ই সেটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে দল।”

এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া একাধিক প্রার্থীর অভিযোগ- সংশ্লিষ্ট আসনের প্রভাবশালী প্রার্থীর প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি শরিকদের ছাড় দিতে গিয়ে কিছু আসনে নৌকার দাবিদারকে বলির পাঠা হবার আশংকাও কাজ করছে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন দলের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “যারা পদধারী তাদেরকে অবশ্যই দলের শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে। আর নির্বাচনে উত্তাপ-উত্তেজনা থাকবে এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হবে। অন্যান্য বারের নির্বাচনের সঙ্গে যারা মিলাচ্ছে তারা ভুল করছে।”

তবে মনোয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বরের আগেই এই বিষয়ে ফয়সালা করতে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন বলেও জানায় দলটি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর