ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে দোলাচল, অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম সমাবর্তনের আয়োজন করেছিল। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্নের ১৫ বছর পরে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম সমাবর্তনের তিন বছর পর এ বছরের শুরুর দিকে সমাবর্তনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দ্বিতীয় সমাবর্তনে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিয়ে এ সমাবর্তন আয়োজনের কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশ হওয়া সাপেক্ষে তারাও সমাবর্তনে অংগ্রহণ করতে পারবে বলে জানানো হয়।

যদিও ২০২৩ সালের মার্চে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করার কথা ছিল।

কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের মেয়াদ গত এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ায় সমাবর্তনের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। একইসঙ্গে জানানো হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি আসলে দ্রুতই দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।

কিন্তু নতুন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. সাহাবুদ্দিন শপথ নেন গত ২৪ এপ্রিলে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের যোগদানের প্রায় ছয় মাস শেষ হলেও দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে কোনো প্রস্তুতি নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের। সমার্বতন নিয়ে কথা উঠলে কিংবা প্রশাসনের কাউকে প্রশ্ন করা হলে বরাবরই এড়িয়ে যান বিষয়টি। এর ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষার্থী।

এদিকে সমার্বতন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত যথাসময়ে সমাবর্তনের আয়োজন করা। তাহলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সুন্দর সমাপ্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে প্রাণ চঞ্চলতা ফিরে আসে।’

সমাবর্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন বলেন, ‘সমাবর্তন একটি উৎসব, প্রত্যেক শিক্ষার্থী চায় সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করবে কিন্তু এক্ষেত্রে দুর্ভাগা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০সালে প্রথম সমাবর্তন হয়, এরপর  ছন্নছাড়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। অবিলম্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন ও প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে সমাবর্তন  আয়োজনের নিশ্চয়তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রগতিশীল হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি সেই জানুয়ারির শুরুতে শুনেছি মার্চের সমাবর্তন হবে কিন্তু এখন দেখি এ বছর শেষ হবার পথে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সমাবর্ত নিয়ে আন্তরিকতা দেখায়নি। এর আগের সমাবর্তন ছাত্রলীগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলস্বরূপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে, সমাবর্তনের স্থান ধূপখোলা মাঠে নাকি কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে হবে তা নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনোকিছু বলতে রাজি নয়। সমাবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হককে সামনাসামনি কিংবা মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এই নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন উপাচার্য।

যদিও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এজন্য সমাবর্তন নিয়ে আরও দুশ্চিন্তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,’ সমাবর্তন নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন ধরনের কথাা বলতে চাচ্ছি না। উপাচার্য মহোদয় সুস্থ হয়ে দেশে  ফিরলে তখন জানতে পারবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে দোলাচল, অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম সমাবর্তনের আয়োজন করেছিল। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্নের ১৫ বছর পরে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম সমাবর্তনের তিন বছর পর এ বছরের শুরুর দিকে সমাবর্তনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দ্বিতীয় সমাবর্তনে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিয়ে এ সমাবর্তন আয়োজনের কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশ হওয়া সাপেক্ষে তারাও সমাবর্তনে অংগ্রহণ করতে পারবে বলে জানানো হয়।

যদিও ২০২৩ সালের মার্চে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করার কথা ছিল।

কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের মেয়াদ গত এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ায় সমাবর্তনের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। একইসঙ্গে জানানো হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি আসলে দ্রুতই দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।

কিন্তু নতুন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. সাহাবুদ্দিন শপথ নেন গত ২৪ এপ্রিলে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের যোগদানের প্রায় ছয় মাস শেষ হলেও দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে কোনো প্রস্তুতি নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের। সমার্বতন নিয়ে কথা উঠলে কিংবা প্রশাসনের কাউকে প্রশ্ন করা হলে বরাবরই এড়িয়ে যান বিষয়টি। এর ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষার্থী।

এদিকে সমার্বতন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত যথাসময়ে সমাবর্তনের আয়োজন করা। তাহলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সুন্দর সমাপ্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে প্রাণ চঞ্চলতা ফিরে আসে।’

সমাবর্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন বলেন, ‘সমাবর্তন একটি উৎসব, প্রত্যেক শিক্ষার্থী চায় সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করবে কিন্তু এক্ষেত্রে দুর্ভাগা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০সালে প্রথম সমাবর্তন হয়, এরপর  ছন্নছাড়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। অবিলম্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন ও প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে সমাবর্তন  আয়োজনের নিশ্চয়তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রগতিশীল হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি সেই জানুয়ারির শুরুতে শুনেছি মার্চের সমাবর্তন হবে কিন্তু এখন দেখি এ বছর শেষ হবার পথে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সমাবর্ত নিয়ে আন্তরিকতা দেখায়নি। এর আগের সমাবর্তন ছাত্রলীগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলস্বরূপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে, সমাবর্তনের স্থান ধূপখোলা মাঠে নাকি কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে হবে তা নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনোকিছু বলতে রাজি নয়। সমাবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হককে সামনাসামনি কিংবা মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এই নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন উপাচার্য।

যদিও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এজন্য সমাবর্তন নিয়ে আরও দুশ্চিন্তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,’ সমাবর্তন নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন ধরনের কথাা বলতে চাচ্ছি না। উপাচার্য মহোদয় সুস্থ হয়ে দেশে  ফিরলে তখন জানতে পারবে।’