হাওর বার্তা ডেস্কঃ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রগতিশীল, ইসলামী ও সমমনা ১৫টি দল নিয়ে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জোটের নাম দেওয়া হয়েছে প্রগতিশীল ইসলামী জোট।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জোটের ঘোষণা দেন নতুন জোটের সমন্বয়কারী ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি মহাসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম খান। জোটের পক্ষ থেকে দশটি দাবি ও সংবিধানের অনুযায়ী দ্বাদশ নির্বাচনসহ পাঁচ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তিনি।
নতুন জোটের চেয়ারম্যান হলেন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি এম এ আউয়াল। জোটের কো-চেয়ারম্যানরা হলেন-আজহাজ মাওলানা হারিছুল হক, সৈয়দ সামসুল আলম হাসু, মুফতি মাহাদী হাসান বুলবুল, প্রফেসর কাজী মহিউদ্দিন সৌরভ, খন্দকার এনামুল নাছির, সুলতান জিসান উদ্দিন প্রধান, ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকি, মো. নাঈম হাসান, ডা. মোহাম্মদ সম্রাট জুয়েল, মো. আখতার হোসেন, হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ, মো. আনোয়ার হোসেন ও অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম।
জোট গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জোটের নুতন চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এমনি একটি জরুরি মুহূর্তে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত মোকাবিলা করে সংবিধানের আলোকে নির্বাচন সম্পন্ন করাসহ সুখী সমৃদ্ধশালী স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রগতিশীল, ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আমরা নতুন একটি জোট গঠন করেছি। প্রায় দেড় বছর ধরে আমরা অন্তত ২০টি দলের সঙ্গে আলোচনা, বৈঠক করে অবশেষে ১৫টি দলকে চূড়ান্ত করেছি। এখন থেকে আমরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের স্বার্থে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। আমরা তত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্দলীয় সরকার নয় বরং সংবিধানসম্মত উপায়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা দাবি জানাচ্ছি। আর সেটা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সব প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এম এ আউয়াল নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জোটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম খান বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা তিনশ আসনে জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হচ্ছে, ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ, বাংলাদেশ তরীকত ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জনতা দল (বিএনজেপি), ইসলামী লিবারেল পার্টি, জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, বাংলাদেশ গণতন্ত্র মানবিক পার্টি, সাধারণ ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামিক গণতান্ত্রিক লীগ ও বাংলাদেশ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক ফোরাম।
প্রগতিশীল ইসলামী জোটের ১০ দফা:
১. দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ আগামী দিনের সব নির্বাচনে দেশের মালিক জনগণ যেন নির্বিঘ্নে নিজেদের পছন্দ মতো সরকার গঠন করতে পারে সেজন্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সরকারের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন নির্বাচন কমিশন জরুরি।
২. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী সব অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান করতে হবে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারীর অবৈধভাবে বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এবং এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাদের সহযোগিতা কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করতে হবে এবং পাচারকৃত এসব অর্থ দেশে ফেরত আনতে হবে।
৫. অবিলম্বে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে তা মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।
৬. স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. স্বাধীন বিচার বিভাগ ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৮. বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি বন্ধ করে মানুষের সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে।
৯. দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. সার, বীজসহ যাবতীয় কৃষি উপকরণের মূল্য কমিয়ে কৃষক যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে এবং কৃষকের উৎপন্ন খাদ্য সামগ্রীসহ সব কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য যাতে কৃষক পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রগতিশীল ইসলামী জোটের পাঁচ দফা কর্মসূচি :
১. সংবিধান, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আসন্ন দাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে প্রগতিশীল ইসলামী জোট।
২. প্রগতিশীল ইসলামী জোট সন্ত্রাসী, দুর্নীতি, ব্যাংক লুটেরা ও দেশের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে, এবং এই দাবির স্বপক্ষে এই জোট বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
৩. খাদ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমিয়ে মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী মুনাফা লোভী অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিমিত্তে কর্মসূচি দেবে প্রগতিশীল ইসলামী জোট।
৪. স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের’ শর্তসমূহ শিথিল করে এবং নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ রহিত করে সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে কর্মসূচি দেবে জোট।
৫. এই জোট রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করে নির্দোষ সব দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামাগণের কারা মুক্তির জন্য জোর দাবি করছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মসূচি দেবে প্রগতিশীল ইসলামী জোট।
দশ দফা দাবি বাস্তবায়নে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসব্যাপী ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
Reporter Name 






















