ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’, আলোচিত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বদলি ব্রিকসে তারেক রহমান যাচ্ছেন কিনা, জানে না ভারত আওয়ামী লীগ বিদ্যুতের নামে শুধু প্লান্ট করেছে, পরিচালনার পরিকল্পনা করেনি: বিমানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি, বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা নেওয়া হচ্ছে ১৮ জেলার ১০৫ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদক সৌরবিদ্যুতের বিপ্লব শিল্পকারখানায় আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি নিয়োগ-বদলির নথি তলব দুদকের

ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি, বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার

বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি। বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ এ দেশের মানুষ কখনো দেবে না।’

শুক্রবার রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহুদিনের। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক কখনো ভেঙে পড়েনি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও দেশে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভেদের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্প্রীতি। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানই প্রাধান্য পায়।’

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভাজনের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা ও মতের পার্থক্য ভুলে সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা অন্য যেকোনো উপাসনালয়—সব ধর্মের মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল ইসলাম খান টিপু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস, হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, যুগধর্ম দাস ও শুভ নিতাই দাস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস। সভাপতিত্ব করেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে

ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি, বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি। বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ এ দেশের মানুষ কখনো দেবে না।’

শুক্রবার রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহুদিনের। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক কখনো ভেঙে পড়েনি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও দেশে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভেদের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্প্রীতি। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানই প্রাধান্য পায়।’

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভাজনের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা ও মতের পার্থক্য ভুলে সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা অন্য যেকোনো উপাসনালয়—সব ধর্মের মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল ইসলাম খান টিপু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস, হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, যুগধর্ম দাস ও শুভ নিতাই দাস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস। সভাপতিত্ব করেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।