ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

মুমিনের অপার সম্ভাবনার মাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬
  • ৩৮৭ বার

দীর্ঘ এগারো মাসে অন্তরে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। রোজার উদ্দেশ্য হলো, পঙ্কিলতার ঘূর্ণাবর্তে আবৃত আত্মার কলুষিত ধোঁয়াকে রহমতের বারিধারায় পবিত্র করা; হৃদয়ের কামভাব দূর করে আত্মাকে নির্মল ও নিষ্কলুষ করা এবং মুমিন জীবনের গতিধারায় সফলতা আনা। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে। কারণ ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছায় ভাটা পড়ে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্র্যপীড়িত অগণিত মানুষের অনাহারক্লিষ্ট মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। তখন অন্তর বিগলিত হয় রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতায়। উদ্দেশ্যের এ সাধুতার কারণেই সিয়াম আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘোষণা নেই।

রমজান মানুষকে নতুন জীবনদান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একজন মুমিন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে। অল্পদিনের বিচরণস্থল এ দুনিয়ায় অনন্ত জগতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিকে ক্ষমা করাতে পারল না সে বড়ই দুর্ভাগা!

রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের রোজাটি হতে হবে নিষ্কণ্টক ও সুনির্মল। রোজার প্রকৃত দাবি ও চাহিদা পূরণ করতে হবে যথার্থভাবে। না খেয়ে উপোস থাকাই যে রোজা নয় তা আমাদের সবার জানা। নিজের সত্তাকে যেমন সংযমের মধ্যে আবদ্ধ করতে হবে তেমনি রোজাদারের ওপর কিছু দায়-দায়িত্বও বর্তায়। বিশেষত রমজানে অধীনদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখা সবার কর্তব্য। এ মাসে অধীনদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে দিলে আল্লাহ তার ওপর থেকে জাহান্নামের আগুন সরিয়ে দেবেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো রমজানের অন্যতম লক্ষ্য।

রোজা ফরজ করার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো দুস্থ অসহায় মানুষের ব্যথানুভূতি। যারা প্রাচুর্যের খনিতে বাস করেন তারা এ মাসে গরিব-দুঃখীদের ব্যথা কিছুটা হলেও বোঝেন। রমজানের দাবি হলো, ওই লোকদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

মুমিনের অপার সম্ভাবনার মাস

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬

দীর্ঘ এগারো মাসে অন্তরে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। রোজার উদ্দেশ্য হলো, পঙ্কিলতার ঘূর্ণাবর্তে আবৃত আত্মার কলুষিত ধোঁয়াকে রহমতের বারিধারায় পবিত্র করা; হৃদয়ের কামভাব দূর করে আত্মাকে নির্মল ও নিষ্কলুষ করা এবং মুমিন জীবনের গতিধারায় সফলতা আনা। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে। কারণ ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছায় ভাটা পড়ে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্র্যপীড়িত অগণিত মানুষের অনাহারক্লিষ্ট মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। তখন অন্তর বিগলিত হয় রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতায়। উদ্দেশ্যের এ সাধুতার কারণেই সিয়াম আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘোষণা নেই।

রমজান মানুষকে নতুন জীবনদান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একজন মুমিন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে। অল্পদিনের বিচরণস্থল এ দুনিয়ায় অনন্ত জগতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিকে ক্ষমা করাতে পারল না সে বড়ই দুর্ভাগা!

রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের রোজাটি হতে হবে নিষ্কণ্টক ও সুনির্মল। রোজার প্রকৃত দাবি ও চাহিদা পূরণ করতে হবে যথার্থভাবে। না খেয়ে উপোস থাকাই যে রোজা নয় তা আমাদের সবার জানা। নিজের সত্তাকে যেমন সংযমের মধ্যে আবদ্ধ করতে হবে তেমনি রোজাদারের ওপর কিছু দায়-দায়িত্বও বর্তায়। বিশেষত রমজানে অধীনদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখা সবার কর্তব্য। এ মাসে অধীনদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে দিলে আল্লাহ তার ওপর থেকে জাহান্নামের আগুন সরিয়ে দেবেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো রমজানের অন্যতম লক্ষ্য।

রোজা ফরজ করার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো দুস্থ অসহায় মানুষের ব্যথানুভূতি। যারা প্রাচুর্যের খনিতে বাস করেন তারা এ মাসে গরিব-দুঃখীদের ব্যথা কিছুটা হলেও বোঝেন। রমজানের দাবি হলো, ওই লোকদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।