ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

মুমিনের অপার সম্ভাবনার মাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬
  • ৪০৫ বার

দীর্ঘ এগারো মাসে অন্তরে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। রোজার উদ্দেশ্য হলো, পঙ্কিলতার ঘূর্ণাবর্তে আবৃত আত্মার কলুষিত ধোঁয়াকে রহমতের বারিধারায় পবিত্র করা; হৃদয়ের কামভাব দূর করে আত্মাকে নির্মল ও নিষ্কলুষ করা এবং মুমিন জীবনের গতিধারায় সফলতা আনা। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে। কারণ ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছায় ভাটা পড়ে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্র্যপীড়িত অগণিত মানুষের অনাহারক্লিষ্ট মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। তখন অন্তর বিগলিত হয় রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতায়। উদ্দেশ্যের এ সাধুতার কারণেই সিয়াম আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘোষণা নেই।

রমজান মানুষকে নতুন জীবনদান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একজন মুমিন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে। অল্পদিনের বিচরণস্থল এ দুনিয়ায় অনন্ত জগতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিকে ক্ষমা করাতে পারল না সে বড়ই দুর্ভাগা!

রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের রোজাটি হতে হবে নিষ্কণ্টক ও সুনির্মল। রোজার প্রকৃত দাবি ও চাহিদা পূরণ করতে হবে যথার্থভাবে। না খেয়ে উপোস থাকাই যে রোজা নয় তা আমাদের সবার জানা। নিজের সত্তাকে যেমন সংযমের মধ্যে আবদ্ধ করতে হবে তেমনি রোজাদারের ওপর কিছু দায়-দায়িত্বও বর্তায়। বিশেষত রমজানে অধীনদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখা সবার কর্তব্য। এ মাসে অধীনদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে দিলে আল্লাহ তার ওপর থেকে জাহান্নামের আগুন সরিয়ে দেবেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো রমজানের অন্যতম লক্ষ্য।

রোজা ফরজ করার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো দুস্থ অসহায় মানুষের ব্যথানুভূতি। যারা প্রাচুর্যের খনিতে বাস করেন তারা এ মাসে গরিব-দুঃখীদের ব্যথা কিছুটা হলেও বোঝেন। রমজানের দাবি হলো, ওই লোকদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মুমিনের অপার সম্ভাবনার মাস

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬

দীর্ঘ এগারো মাসে অন্তরে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। রোজার উদ্দেশ্য হলো, পঙ্কিলতার ঘূর্ণাবর্তে আবৃত আত্মার কলুষিত ধোঁয়াকে রহমতের বারিধারায় পবিত্র করা; হৃদয়ের কামভাব দূর করে আত্মাকে নির্মল ও নিষ্কলুষ করা এবং মুমিন জীবনের গতিধারায় সফলতা আনা। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে। কারণ ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছায় ভাটা পড়ে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্র্যপীড়িত অগণিত মানুষের অনাহারক্লিষ্ট মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। তখন অন্তর বিগলিত হয় রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতায়। উদ্দেশ্যের এ সাধুতার কারণেই সিয়াম আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘোষণা নেই।

রমজান মানুষকে নতুন জীবনদান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একজন মুমিন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে। অল্পদিনের বিচরণস্থল এ দুনিয়ায় অনন্ত জগতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিকে ক্ষমা করাতে পারল না সে বড়ই দুর্ভাগা!

রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের রোজাটি হতে হবে নিষ্কণ্টক ও সুনির্মল। রোজার প্রকৃত দাবি ও চাহিদা পূরণ করতে হবে যথার্থভাবে। না খেয়ে উপোস থাকাই যে রোজা নয় তা আমাদের সবার জানা। নিজের সত্তাকে যেমন সংযমের মধ্যে আবদ্ধ করতে হবে তেমনি রোজাদারের ওপর কিছু দায়-দায়িত্বও বর্তায়। বিশেষত রমজানে অধীনদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখা সবার কর্তব্য। এ মাসে অধীনদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে দিলে আল্লাহ তার ওপর থেকে জাহান্নামের আগুন সরিয়ে দেবেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো রমজানের অন্যতম লক্ষ্য।

রোজা ফরজ করার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো দুস্থ অসহায় মানুষের ব্যথানুভূতি। যারা প্রাচুর্যের খনিতে বাস করেন তারা এ মাসে গরিব-দুঃখীদের ব্যথা কিছুটা হলেও বোঝেন। রমজানের দাবি হলো, ওই লোকদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া।