ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতি চার পথশিশুর একজন ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত ১২ শতাংশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩
  • ৮৬ বার

ঢাকা বিভাগে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু অবস্থান করছে বলে এক পথশিশু জরিপে উঠে এসেছে। আর এসব পথশিশুদের প্রায় চার ভাগের একভাগ ধূমপান করে এবং ১২ শতাংশ মাদকের নেশায় আসক্ত বলে জরিপে জানা গেছে।

সেই সঙ্গে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশুদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশের বসবাস। এসব পথশিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছেলে এবং ১৮ শতাংশ মেয়ে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী পথশিশু রয়েছে ৫৪ শতাংশ।

জরিপের তথ্য মতে, মোট পথশিশুদের ৬৪ শতাংশ পথশিশু তাদের পরিবারে ফিরে যেতে চায় না।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে পথশিশু জরিপ ২০২২ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।

পথশিশু জরিপ প্রতিবেদন ২০২২ -এর ফলাফল তুলে ধরেন ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইং-এর পরিচালক মো. মাসুদ আলম।

মো. মাসুদ আলম প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, যথাযথ জরিপ পদ্ধতি অনুসরণ করে সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী পথশিশুদের ওপর কুইক কাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমে স্যাম্পলিং ফ্রেম প্রণয়ন করা হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশুদের ওপর পথশিশু জরিপ-২০২২ পরিচালিত হয়। দেশের আট বিভাগে এই জরিপ পরিচালিত হয়।

জরিপের বলা হয়, ঢাকা বিভাগে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু অবস্থান করছে। এক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ পথশিশু রয়েছে। পথশিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছেলে এবং ১৮ শতাংশ মেয়েশিশু রয়েছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী পথশিশু রয়েছে ৫৪ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনে মেয়েদের তুলনায় ছেলে পথশিশুর সংখ্যা অনেক বেশি, একজন মেয়ের বিপরীতে চার জন ছেলেশিশু। পথশিশুদের গড় বয়স ১২ দশমিক ৩ বছর।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, পথশিশুদের সর্ব্বোচ্চ ২০ দশমিক ৪ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সিলেট বিভাগের জেলাগুলো থেকে এসেছে। এক্ষেত্রে পথশিশুর নিজ জেলা ময়মনসিংহ সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বরিশাল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ভোলা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, কুমিল্লা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, কিশোরগঞ্জ ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং কক্সবাজার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রধানত ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ পথশিশু দারিদ্রতা, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাবা-মা শহরে আসার কারণে এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ কাজের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে শহরে এসেছে। প্রতি পথশিশুর ৫ জনের ২ জনই একা একা শহরে এসেছে। ১০ জন পথশিশুর তিনজন কখনোই স্কুলে ভর্তি হয়নি। সব পথশিশুর মধ্যে কেবল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি পাস করেছে। খুব নগণ্য সংখ্যক পথশিশু নিম্ন ও উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পথশিশুদের বিষয়ে হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান ছিল না, জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস সে শূন্যতার জায়গাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে এনেছে। এ জরিপের তথ্য-উপাত্ত এখন পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।

ভবিষ্যতে সরকারের প্রয়োজনে এ ধরনের জরিপ পরিচালনায় বিবিএস অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তিনি এ ধরনের জরিপ পরিচালনার জন্য বিবিএস ও ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

প্রতি চার পথশিশুর একজন ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত ১২ শতাংশ

আপডেট টাইম : ০৯:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩

ঢাকা বিভাগে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু অবস্থান করছে বলে এক পথশিশু জরিপে উঠে এসেছে। আর এসব পথশিশুদের প্রায় চার ভাগের একভাগ ধূমপান করে এবং ১২ শতাংশ মাদকের নেশায় আসক্ত বলে জরিপে জানা গেছে।

সেই সঙ্গে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশুদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশের বসবাস। এসব পথশিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছেলে এবং ১৮ শতাংশ মেয়ে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী পথশিশু রয়েছে ৫৪ শতাংশ।

জরিপের তথ্য মতে, মোট পথশিশুদের ৬৪ শতাংশ পথশিশু তাদের পরিবারে ফিরে যেতে চায় না।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে পথশিশু জরিপ ২০২২ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।

পথশিশু জরিপ প্রতিবেদন ২০২২ -এর ফলাফল তুলে ধরেন ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইং-এর পরিচালক মো. মাসুদ আলম।

মো. মাসুদ আলম প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, যথাযথ জরিপ পদ্ধতি অনুসরণ করে সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী পথশিশুদের ওপর কুইক কাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমে স্যাম্পলিং ফ্রেম প্রণয়ন করা হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশুদের ওপর পথশিশু জরিপ-২০২২ পরিচালিত হয়। দেশের আট বিভাগে এই জরিপ পরিচালিত হয়।

জরিপের বলা হয়, ঢাকা বিভাগে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু অবস্থান করছে। এক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ পথশিশু রয়েছে। পথশিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ ছেলে এবং ১৮ শতাংশ মেয়েশিশু রয়েছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী পথশিশু রয়েছে ৫৪ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনে মেয়েদের তুলনায় ছেলে পথশিশুর সংখ্যা অনেক বেশি, একজন মেয়ের বিপরীতে চার জন ছেলেশিশু। পথশিশুদের গড় বয়স ১২ দশমিক ৩ বছর।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, পথশিশুদের সর্ব্বোচ্চ ২০ দশমিক ৪ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সিলেট বিভাগের জেলাগুলো থেকে এসেছে। এক্ষেত্রে পথশিশুর নিজ জেলা ময়মনসিংহ সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বরিশাল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ভোলা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, কুমিল্লা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, কিশোরগঞ্জ ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং কক্সবাজার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রধানত ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ পথশিশু দারিদ্রতা, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাবা-মা শহরে আসার কারণে এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ কাজের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে শহরে এসেছে। প্রতি পথশিশুর ৫ জনের ২ জনই একা একা শহরে এসেছে। ১০ জন পথশিশুর তিনজন কখনোই স্কুলে ভর্তি হয়নি। সব পথশিশুর মধ্যে কেবল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি পাস করেছে। খুব নগণ্য সংখ্যক পথশিশু নিম্ন ও উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পথশিশুদের বিষয়ে হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান ছিল না, জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস সে শূন্যতার জায়গাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে এনেছে। এ জরিপের তথ্য-উপাত্ত এখন পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।

ভবিষ্যতে সরকারের প্রয়োজনে এ ধরনের জরিপ পরিচালনায় বিবিএস অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তিনি এ ধরনের জরিপ পরিচালনার জন্য বিবিএস ও ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।