,

ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে আসাম যাবে বিশ্বের দীর্ঘতম নৌবিহার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘এমভি গঙ্গা’র উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রমোদতরীর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রমোদতরীটি উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে আসামের দিব্রুগড়ে পৌঁছাবে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উদ্বোধনের পর প্রথম দিনের যাত্রায় ৩২জন সুইজারল্যান্ডের পর্যটক অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনের সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এই প্রমোদতরী উদ্বোধনের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অনেক জায়গা এখন বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে স্থান পাবে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত গঙ্গার তীরের উন্নয়ন হয়নি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে!’ গঙ্গা তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষকে এক সময় চাকরির জন্য দেশান্তরী হতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন নরেন্দ্র মোদী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমভি গঙ্গা বিলাস ভারতে তৈরি প্রথম নৌবিহার জাহাজ। এটি ৫১ দিনে ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করবে। উদ্বোধনী দিনে জাহাজটি ৩২ জন সুইস পর্যটক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। যাত্রা শুরুর সময় বারাণসী বন্দরে ফুলের মালা পরিয়ে ও সানাইয়ের সুর বাজিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানানো হয়েছে।

নৌবিহারের পরিচালক রাজ সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, প্রমোদতরীটিতে পাঁচ তারকা হোটেলের সুবিধাসম্পন্ন ৩৬জন পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া ৪০ জন ক্রুর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক এ প্রমোদতরীটির দৈর্ঘ্য ৬২ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার। এতে পর্যটকদের জন্য ১৮টি কক্ষ রয়েছে।

এমভি গঙ্গা বিলাস যাত্রাপথে ২৭টি নদী ঘুরে পর্যটকদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। উত্তর প্রদেশের পর্যটন মন্ত্রী জয়বীর সিং এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাহাজটি বিহারের পাটনা, ঝাড়খণ্ডের শাহীগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মতো বড় শহরগুলোসহ বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান, জাতীয় উদ্যান, নদীর ঘাট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের পৌঁছে দেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ঢাকা ও আসামের গুয়াহাটিও রয়েছে। ’

বিলাসবহুল এ প্রমোদতরীতে স্পা, সেলুন এবং জিমের মতো সুবিধাও রয়েছে। এতে ভ্রমণ করতে প্রতিদিন ২৫ হাজার ভারতীয় রুপি থেকে ৫০ হাজার রুপি খরচ হবে। ৫১ দিনের যাত্রায় একজন যাত্রীর মোট খরচ হবে প্রায় ২০ লাখ রুপি।

ভারতের পোর্ট শিপিং ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, ‘এই প্রমোদতরী পর্যটকদের ভারত ও বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানার সুযোগ করে দেবে। ’

তবে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রমোদতরীটির ছবি দিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে লিখেছেন, ‘এখন বিজেপি কি নাবিকদের চাকরিও কেড়ে নেবে? ধর্মীয় স্থানকে পর্যটন স্থান বানিয়ে অর্থ উপার্জনের বিজেপির এই নীতি নিন্দনীয়। সারা বিশ্বের মানুষ কাশীর আধ্যাত্মিকতা অনুভব করতে আসে, বিলাসিতা করার জন্য নয়। বিজেপি আর বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে আসল সমস্যার অন্ধকার ঢাকতে পারবে না। ’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর