,

নাটকীয়তার অবসান, বিশ্বকাপ জিতে অমরত্বের স্বাদ পেল মেসি

প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে এমবাপ্পের নেপুণ্যে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ফ্রান্স।  নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে আলবিসেলেস্তেদের খুব সহজেই ম্যাচ জিততে দেননি ফরাসিরা।

বিদাতা যেন খুব অল্পতেই মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে দিতে চাননি তার কোটি ফুটবল ভক্তদের। অপেক্ষা করিয়ে রাখলেও টাইব্রেক পর্যন্ত। সেখানে যথারীতি আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছেন  বাজপাখি খ্যাত এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার নৈপুণ্যৈ আরো একবার হাসলো আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে হাসলো মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষায় থাকা বিশ্বের কোটি ফুটবল সমর্থক। টাইব্রেকে ৪-২ গোলে জিতে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা ঘুচালো আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র’য়ে থাকা ম্যাচের ১০৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগটি পায় আর্জেন্টিনার বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্টিনেজ। মেসির বাড়ানো বলে পা ঠিকঠাক ছোঁয়াতে পারলেই হতো, কিন্তু পারেননি লাউতারো। আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বাড়ে আরো। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ১০৮ মিনিটের সময় গোল করে ব্যাবধান গড়ে দেন মেসি। আক্রমণে উঠে তিন আর্জেন্টাইন। প্রথম চেষ্টায় গোল ঠেকালেও মেসির কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে লরিসকে।

উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনায় সমর্থকরা। মেসির গোলের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তার সতীর্থ ডি মারিয়া। কেঁদে ফেলেছেন তিনি। তখনও অনেক নাটকীয়তা বাকি। ম্যাচের ১১৫ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর হাতে বল লাগে গঞ্জালো মন্টিনেলের। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গোল আদায় করে হ্যাটট্রিক করেন এমবাপ্পে। আবারো সমতায় ম্যাচ। টাইব্রেকে গড়ায় ম্যাচ।

ম্যাচের নাটকীয়তা যেন শেষ হচ্ছিলই না। অবশেষে নাটকের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টিনার বাজপাখি মার্টিনেজ। কোম্যানের নেওয়া দ্বিতীয় পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে মনোবল ভেঙে দেন দিদিয়ের দেশমের শীর্ষদের। তাতেই কাজ হয়। পরের শটটিও ঠিক পথে রাখতে পারেনি ছুয়ামেনি। জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে আর্জেন্টিনা।   এরপর আর ভুল হয়নি। মেসিকে বিশ্বকাপ জেতাতে সফল হয়েছেন আর্জেন্টিনার হয়ে পেনাল্টি নিতে আসা সবাই।

আর তাতেই লিখা হয় মহাকব্য। তিন যুগ পর মেসির হাতে উঠে স্বপ্নে বিশ্বকাপ ট্রফি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর