,

বিমানবাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৮১তম বাফা কোর্স ও ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২২ কোর্সের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (শীতকালীন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোরে অবস্থিত বিমানবাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে এ অনুষ্ঠান হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মধ্যে ফ্লাইং ব্যাজ এবং বিভিন্ন ট্রফি বিতরণ করেন।

এছাড়াও চারজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও দুজন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে মৌলিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ সমাপ্তি উপলক্ষে ফ্লাইং ব্যাজ প্রদান করা হয়।

অফিসার ক্যাডেট খন্দকার ইমামুর রহমান ৮১তম বাফা কোর্সে সেরা চৌকস কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’, অফিসার ক্যাডেট আবরার ফাইয়াজ খান উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট খন্দকার ইমামুর রহমান জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন।

৮১তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট নাজরে মো. হাসান বিমানবাহিনী প্রধানের ট্রফি লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার ভাষণ শুরু করেন। তিনি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনী ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যদের প্রতি, যাদের আত্মোৎসর্গের কারণে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, জাতির পিতা একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০ অনুযায়ী বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হচ্ছে সর্বাধুনিক বিমান এবং সরঞ্জামাদি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শিতা ও দিক নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন আ্যন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে যুদ্ধ বিমানের ওভারহলিং করতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, বিমানবাহিনী একাডেমির বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের ক্যাডেটরা এ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে যা দৃষ্টান্তমূলক। পরিশেষে তিনি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির সব সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৭ জন মহিলা অফিসার ক্যাডেট এবং একজন প্যালেস্টাইন অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৩৭ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি আন্ডার অফিসার আবরার ফাইয়াজ খান আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিমানবাহিনী একাডেমির বিভিন্ন প্রকার বিমানের সমন্বয়ে একটি আকর্ষণীয় ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বৈদেশিক মিশনের কুটনীতিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর