,

নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল নিরসনের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাদা ছোড়াছুড়ি ও দূরত্ব বন্ধ করতে হবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে, তা নিরসনে কড়া নজর দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

গণভবনে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় দলীয় কোন্দল নিরসনের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের আর্থিক সংকট মোকাবিলা, রিজার্ভ পরিস্থিতি, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় আগামী নির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

সংশ্লিষ্ট বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় নির্বাচনসহ নানান বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কোন্দল নিরসনের জন্য নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবেন। নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা মতবিরোধ থাকবে না। সভায় বিএনপির ঢাকার সমাবেশে কিভাবে ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য জানান, সভায় আলোচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, যথাসময় সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির আন্দোলনে বাধা থাকবে না বলেও আলোচনা হয়। কিন্তু আন্দোলনের নামে যদি ২০১৩-১৪ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াও করা হয়, তাহলে সরকার সহ্য করবে না।

এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবে।

বৈশি^ক সংকটের কারণে দেশে যে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জোরালো আলোচনা হয়েছে। তবে হতাশ হওয়ার মত এখনো কোনো কিছু ঘটেনি। দেশের রিজার্ভ এখনো যথেষ্ট ভালো আছে। যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে তা দিয়ে পাঁচ ছয়-মাস চালানো সম্ভব। তাই হতাশ না হয়ে যারা রিজার্ভ নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া, ব্যাংকে তারল্য সংকট যে নেই, মানুষকে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানোর বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

যদিও ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বে পড়ছে। তারপরও বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হবে না বলে সভায় বলা হয়। প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি করা হবে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের রিজার্ভ নিয়ে বিভিন্নমহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রিজার্ভ কোথায় খরচ করা হয়েছে, ওঠে সে প্রশ্নও। এমন সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, রিজার্ভ দেশর মানুষের কল্যাণেই ব্যয় করা হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর