,

image-565922-1656061519

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে যে বার্তা দিলেন পুতিন

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেইজিং আয়োজিত ভার্চুয়াল ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ফিরলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্থাপিত সম্মেলনের জায়ান্ট স্ক্রিনে হাজির হন পুতিন। তিনি তার ভাষণে পশ্চিমাদের আক্রমণ করেন। একটি বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির জন্য তিনি পশ্চিমাদের দায়ী করেন।

পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে স্বার্থপর কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে রাশিয়াকে সহযোগিতার জন্য ব্রিকস জোটের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান পুতিন।

ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমাদের একটি বার্তা দিয়েছেন। সেই বার্তাটি হলো— ইউক্রেনে হামলার জেরে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া ‘একা’ নয়।

ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমারা। অভূতপূর্ব এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় খোদ পুতিনও পড়েছেন। পশ্চিমাদের এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য রাশিয়াকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা। রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। রাশিয়াকে দুর্বল করে দেওয়া।

ইউক্রেনে রুশ হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে চীনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ‘সীমা’ নেই। ব্রিকস জোটভুক্ত প্রতিটি দেশের নেতাই ইউক্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় মস্কোর সরাসরি নিন্দা করা এড়িয়ে গেছেন।

এখন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে পুতিন পশ্চিমাদের বার্তা দিলেন যে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।

উল্টো পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে পশ্চিমাদের একহাত নিয়েছেন। বিশ্বের প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির পাঁচ দেশের এই জোটের বয়স এক দশকের বেশি। কিছু সাধারণ স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও এই জোট দীর্ঘদিন ধরে সংহতির প্রশ্নে জর্জরিত।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়ছে, তা যাচাই করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সতর্কতার সঙ্গে ব্রিকস জোট আহ্বান জানাতে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

কয়েকটি দেশের একতরফা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা বিশ্বের করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন সি চিন পিং।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্রিকস বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আরও প্রতিনিধিত্বের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

সূত্র: সিএনএন

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর