,

bonna-2206171005

উজানে ভারী বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির শঙ্কা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভারতের মেঘালয় ও আসামে অব্যাহত বর্ষণের কারণে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর মধ্যেই সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আজ রবিবারের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও  মধ্যাঞ্চলের আরো অন্তত ১৭টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের এ ধারা আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়াবিদ বলেন, রবিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া পরবর্তী দুই দিন (মঙ্গলবার পর্যন্ত) এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাত কমতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আজ রবিবারের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের আরো অন্তত ১৭টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হতে পারে। এসব এলাকায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে, নদীগুলোর পানি আরো বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। সারা দেশের ৯৫টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী বলেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ এলাকায় আরো দুই দিন বৃষ্টি হবে। এতে ওই সব এলাকার বন্যার পানি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যমুনা নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের আরো কিছু জেলা প্লাবিত হতে পারে। বন্যার এই পানিটা আবার নিচের দিকে নেমে এলে মধ্যাঞ্চলের কিছু জেলাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানির ঢল দেশের কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা দিয়ে প্রবেশ করছে। ফলে জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পাবনা বন্যাকবলিত হতে পারে। এ ছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। বন্যার পানি আরো নিচের দিকে নেমে এলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ ও দিরাইয়ে সুরমা নদী, কুড়িগ্রামে ধরলা, চিলমারিতে ব্রহ্মপুত্র, লরেরগড়ে জাদুকাটা, কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি, নাকুয়াগাঁওয়ে ভোগাই বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানিও বাড়ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী  বলেন, গত তিন দিনে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এখানে আরো বৃষ্টি হবে। ভারতের মেঘালয় ও আসামে আরো দুই দিন অতিবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সিলেট ও কুড়িগ্রাম দিয়ে নেমে আসবে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর