,

662457_140-2206091028

আট লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হবে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৮ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলে বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী ও প্রবাস হতে প্রত্যাগত কর্মীদের কল্যাণে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্টসমূহের কার্যক্রম প্রতিনিয়ত তদারকির ফলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়েছে। কর্মী নিয়োগে পেশাভিত্তিক ডাটাবেজ, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ভিসা যাচাই, অভিবাসন বিষয়ক অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক পোর্টাল, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর কার্যক্রম অটোমেশন ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে এ খাতকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। প্রত্যাগত কর্মীদের রিইন্টিগ্রেশন ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে ‘বিনিয়োগ ঋণ, প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, অক্ষম প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরৎ আসার পর চিকিৎসা সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরো পড়ুন> ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, আগামীতে অভিবাসনে পিছিয়ে পড়া দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সমগ্র দেশ থেকে অধিকহারে অভিবাসনে উৎসাহী করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ে ১শটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণকাজ আরম্ভ করা হবে। এছাড়া ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৮ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার এবং ৫ লাখ ২০ হাজার জনকে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের প্রবাস আয়ে রেকর্ড ৩৬.১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। তবে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয় কিছুটা হ্রাস পেতে শুরু করায় বৈধ পথে প্রবাস আয় প্রেরণকে অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে আমরা এ খাতে প্রণোদনার হার ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২.৫ শতাংশে নির্ধারণ করেছি। এর আগে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের অধিক প্রবাস আয় প্রেরণের ক্ষেত্রে উক্ত প্রণোদনার জন্য প্রেরণকারীর কাগজপত্রাদি বিদেশস্থ এক্সচেঞ্জ হাউজ হতে প্রেরণের বাধ্যবাধকতা ছিল, যা সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পদক্ষেপসমূহের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারো বাড়তে শুরু করেছে এবং আশা করা যায় যে, অতিসত্ত্বর প্রবাস আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে। আগামী অর্থবছরেও এ খাতে ২.৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।

কোভিড-১৯ অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়। অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর