ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হলো মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রূপান্তরের অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপ্নযাত্রায় ধীরগতি তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন দেখা হবে রাজপথে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রীকে কর্নেল অলি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস

৭৮ বারের টেস্টে করোনা পজিটিভ, এখনো আইসোলেশনে মোজাফফর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২২৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একজন কোভিড পজেটিভ রোগী ৭-১৪ দিন পর্যন্ত পজিটিভ থাকেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই নেগেটিভ ফলাফল আসলে, ওই রোগীকে সুস্থ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে এই মহামারিকালে কখনো কি শুনেছেন, কোনো রোগী একটানা ১৪ মাস ধরে কোভিড পজিটিভ?

তেমনই এক রোগীর সন্ধান মিলেছে তুরস্কে। সেখানকার ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিড পজিটিভ হন। এরপর থেকে একটানা ১৪ মাস ধরেই তিনি আইসোলেশনে আছেন।

এ যাবৎকালে তিনি করোনা টেস্ট করিয়েছেন মোট ৭৮ বার। তবে কোনোবারেই ফলাফল নেগেটিভ আসেনি। তুরস্কের মোজাফফর কায়সান নামক এই ব্যাক্তি দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে কোভিড পজিটিভ হয়ে হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 

২০২০ সালের নভেম্বরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মোজাফফরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনার গুরুতর লক্ষণগুলো কাটিয়ে উঠলেও শরীরে থেকে ভাইরাসটি দূর হয়নি।

প্রতিবার পরীক্ষাতেই ফলাফল এসেছে পজিটিভ। একেক করে ৭৮ বার করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি একজন লিউকোমিয়ার রোগী ও ইমিউনোকম্প্রোমাইজড।

 

চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও এ প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী।

 

এতদিন বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মোজাফফরের সামাজিক জীবন কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যার ফলে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে তিনি জানালা দিয়ে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করেন। শুধু তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে তার সঙ্গে থাকতেন।

অথচ ছেলে তার সঙ্গে থাকলেও তিনি কোভিড পজিটিভ হননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম আমিও হয়তো করোনা পজিটিভ। তবে পরীক্ষা করানোর পর জেনেছি আমার নেগেটিভ।’

 

‘প্রিয়জনকে স্পর্শ করতে না পারার কষ্ট আমাকে ভোগাচ্ছে। একা থাকা খুব কষ্টের, বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে। এমনকি আমার অবস্থার কারণে আমি টিকাও নিতে পারছি না।’ জানান মোজাফফর।

১৪ মাস ক্রমাগত কোভিড পজিটিভ থাকা ও ৭৮ বার করোনা টেস্ট করানোর বিষয়টি হয়তো মোজাফফরের সঙ্গেই ঘটেছে। যা সত্যিই অনেক দুঃখজনক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি

৭৮ বারের টেস্টে করোনা পজিটিভ, এখনো আইসোলেশনে মোজাফফর

আপডেট টাইম : ১২:১৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একজন কোভিড পজেটিভ রোগী ৭-১৪ দিন পর্যন্ত পজিটিভ থাকেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই নেগেটিভ ফলাফল আসলে, ওই রোগীকে সুস্থ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে এই মহামারিকালে কখনো কি শুনেছেন, কোনো রোগী একটানা ১৪ মাস ধরে কোভিড পজিটিভ?

তেমনই এক রোগীর সন্ধান মিলেছে তুরস্কে। সেখানকার ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিড পজিটিভ হন। এরপর থেকে একটানা ১৪ মাস ধরেই তিনি আইসোলেশনে আছেন।

এ যাবৎকালে তিনি করোনা টেস্ট করিয়েছেন মোট ৭৮ বার। তবে কোনোবারেই ফলাফল নেগেটিভ আসেনি। তুরস্কের মোজাফফর কায়সান নামক এই ব্যাক্তি দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে কোভিড পজিটিভ হয়ে হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 

২০২০ সালের নভেম্বরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মোজাফফরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনার গুরুতর লক্ষণগুলো কাটিয়ে উঠলেও শরীরে থেকে ভাইরাসটি দূর হয়নি।

প্রতিবার পরীক্ষাতেই ফলাফল এসেছে পজিটিভ। একেক করে ৭৮ বার করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি একজন লিউকোমিয়ার রোগী ও ইমিউনোকম্প্রোমাইজড।

 

চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও এ প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী।

 

এতদিন বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মোজাফফরের সামাজিক জীবন কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যার ফলে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে তিনি জানালা দিয়ে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করেন। শুধু তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে তার সঙ্গে থাকতেন।

অথচ ছেলে তার সঙ্গে থাকলেও তিনি কোভিড পজিটিভ হননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম আমিও হয়তো করোনা পজিটিভ। তবে পরীক্ষা করানোর পর জেনেছি আমার নেগেটিভ।’

 

‘প্রিয়জনকে স্পর্শ করতে না পারার কষ্ট আমাকে ভোগাচ্ছে। একা থাকা খুব কষ্টের, বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে। এমনকি আমার অবস্থার কারণে আমি টিকাও নিতে পারছি না।’ জানান মোজাফফর।

১৪ মাস ক্রমাগত কোভিড পজিটিভ থাকা ও ৭৮ বার করোনা টেস্ট করানোর বিষয়টি হয়তো মোজাফফরের সঙ্গেই ঘটেছে। যা সত্যিই অনেক দুঃখজনক।